নবজাতক/ভাগ্যরাজ্য

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ভাগ্যরাজ্য

আমার এ ভাগ্যরাজ্যে পুরানো কালের যে প্রদেশ,
আয়ুহারাদের ভগ্নশেষ
সেথা পড়ে আছে
পূর্ব দিগন্তের কাছে।
নিঃশেষ করেছে মূল্য সংসারের হাটে,
অনাবশ্যকের ভাঙা ঘাটে
জীর্ণ দিন কাটাইছে তারা।
অর্থহারা।
ভগ্ন গৃহে লগ্ন ঐ অর্ধেক প্রাচীর;
আশাহীন পূর্ব আসক্তির
কাঙাল শিকড়জাল
বৃথা আঁকড়িয়া ধরে প্রাণপণে বর্তমান কাল।
আকাশে তাকায় শিলা-লেখ,
তাহার প্রত্যেক

অস্পষ্ট অক্ষর আজ পাশের অক্ষরে
ক্লান্তসুরে প্রশ্ন করে
আরো কি রয়েছে বাকি কোনো কথা,
শেষ হয়ে যায়নি বারতা?


এ আমার ভাগ্যরাজ্যে অন্যত্র হোথায় দিগন্তরে
অসংলগ্ন ভিত্তিপরে
করে আছে চুপ
অসমাপ্ত আকাঙ্ক্ষার অসম্পূর্ণরূপ।
অকথিত বাণীর ইঙ্গিতে
চারিভিতে
নীরবতা উৎকণ্ঠিত মুখ
রয়েছে উৎসুক।
একদা যে যাত্রীদের সংকল্পে ঘটেছে অপঘাত,
অন্য পথে গেছে অকস্মাৎ
তাদের চকিত আশা,
স্থকিত চলার স্তব্ধ ভাষা
জানায়, হয়নি চলা সারা,
দুরাশার দূরতীর্থ আজো নিত্য করিছে ইশারা
আজিও কালের সভামাঝে
তাদের প্রথম সাজে

পড়ে নাই জীর্ণতার দাগ,
লক্ষ্যচ্যুত কামনায় রয়েছে আদিম রক্তরাগ।
কিছু শেষ করা হয় নাই,
হেরো তাই
সময় যে পেল না নবীন
কোনোদিন
পুরাতন হোতে,
শৈবালে ঢাকেনি তা’রে বাঁধা-পড়া ঘাটে-লাগা স্রোতে,
স্মৃতির বেদনা কিছু, কিছু পরিতাপ,
কিছু অপ্রাপ্তির অভিশাপ
তারে নিত্য রেখেছে উজ্জ্বল,
না দেয় নীরস হোতে মজ্জাগত গুপ্ত অশ্রুজল।
যাত্রাপথপাশে
আছ তুমি আধো ঢাকা ঘাসে,
পাথরে খুদিতেছিনু, হে মূর্তি, তোমারে কোন্‌ক্ষণে
কিসের কল্পনে?
অপূর্ণ তোমার কাছে পাই না উত্তর।
মনে যে কী ছিল মোর
যে দিন ফুটিত তাহা শিল্পের সম্পূর্ণ সাধনাতে
শেষ রেখাপাতে,
সে দিন তা জানিতাম আমি,
তার আগে চেষ্টা গেছে থামি।

সেই শেষ না-জানার
নিত্য নিরুত্তরখানি মৰ্মমাঝে রয়েছে আমার,
স্বপ্নে তার প্রতিবিম্ব ফেলি
সচকিত আলোকের কটাক্ষে সে করিতেছে কেলি॥