বিষয়বস্তুতে চলুন

নব্য-বিজ্ঞান

উইকিসংকলন থেকে

নব্য-বিজ্ঞান
​

আট-আনা সংস্করণমালার সপ্তবিংশ গ্রন্থ


নব্য-বিজ্ঞান

শ্রীচারুচন্দ্র ভট্টাচার্য্য এম্. এ.

আষাঢ়,-১৩২৫


​

প্রকাশক—শ্রীহরিদাস চট্টোপাধ্যায়
গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স।
২০১, কর্ণওয়ালিস্ ষ্ট্রীট্‌ কলিকাতা।

প্রিণ্টার—শ্রীরাধাশ্যাম দাস,
ভিক্টোরিয়া প্রেস
২ গোয়াবাগান ষ্ট্রীট, কলিকাতা।

​

উৎসর্গ

স্বর্গীয়া

মাতৃদেবীর

চরণোদ্দেশে


​

ভূমিকা।

 নব্য-বিজ্ঞানের বয়স পঞ্চাশের মধ্যে রাখা হইল! যে বয়স পার হইলে আমাদের দেশে বনে যাইবার ব্যবস্থা আছে তাহার অধিক বয়স্ক কাহাকে আর যাহাই হউক অন্ততঃ নবীন বলা চলে না। এই অর্দ্ধ শতাব্দীর মধ্যে বিজ্ঞানের নানান্ দিকে যে নানান্ বিকাশ ঘটিয়াছে তাহার কয়েকটা মাত্রের সামান্য একটু আভাস এখানে দিবার চেষ্টা হইয়াছে মাত্র।

 যে সকল পুস্তক হইতে সাহায্য লওয়া হইয়াছে হার্ম‍্সওয়ার্থের পপুলার সায়েন্স তাহাদের মধ্যে বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য।

গ্রন্থকার 

​

অবতরণিকা

 পঞ্চাশ মাইল দূরে সংবাদ পাঠাইতে হইলে দুই হাজার বসৎর পূর্ব্বে আলেকজেণ্ডার দি গ্রেট্ (Alexander the Great) কে যে ব্যবস্থা করিতে হইত শত বর্ষ পূর্ব্বে নেপোলিয়ান (Napoleon) তদপেক্ষা সহজ ও দ্রুতগামী উপায় খুঁজিয়া পান নাই; রাণী এলিজাবেথ (Elizabeth) এর সভায় যে দীপের আলোকে সেক্ষপীয়ার (Shakespeare) ম্যাক‍্বেথ (Macbeth) পাঠ করিয়াছিলেন কবি কালিদাসের সময় বিক্রমাদিত্যের রাজসভার প্রদীপ তদপেক্ষা ম্লান ছিল বলিয়া কোন প্রমাণ নাই; বিজয়সিংহ লঙ্কাজয় করিতে যে জাহাজে চড়িয়াছিলেন, সেই জাতীয় জাহাজে করিয়াই ভাস্কো-ডি-গামা (Vasco-da—Gama) উত্তমাশা (Good Hope) ঘুরিয়া ভারতবর্ষে আসেন।

​ বিজ্ঞান বলিতে যদি বিশিষ্ট জ্ঞান বুঝায় তো এই ভূমণ্ডলে মানবের আবির্ভাবের সঙ্গে সঙ্গেই তাহার উৎপত্তি। দুইখানা কাঠ ঘষিয়া যে ব্যক্তি আগুন বাহির করিয়াছিল, নিউটন (Newton) বা গ্যালিলিও (Galileo) র অপেক্ষা তাহার কৃতিত্ব যে কম বলা যায় না। কিন্তু জন্ম হইতে বিজ্ঞান যে পা পা করিয়া হাঁটিতে আরম্ভ করিয়াছিল, তাহা ঘুচিতে উহার অনেক যুগ চলিয়া গেল। পরে দেখা গেল, সে হঠাৎ একেবারে উর্দ্ধশ্বাসে দৌড়িতে আরম্ভ করিয়াছে।

 পঞ্চাশ বৎসর পূর্ব্বে এই ধরাপৃষ্ঠ হইতে অপহৃত কোন লোককে আজ যদি কোন রকমে এই পৃথিবীতে একবার আনা যায় তো সে বোধ হয় চিনিতে পারে না যে, এইখানে একদিন সে বাস করিয়া গিয়াছে। বিজ্ঞান বলে, মানব আজ মাটি ছাড়িয়া বাতাসে তাহার সাম্রাজ্য বিস্তার করিতেছে, জলের মধ্যে নিজের আধিপত্য স্থাপন করিতেছে, একস্থানে দাঁড়াইয়া তারে এবং বিনা তারে সমস্ত পৃথিবীটাকে নিজের আয়ত্তের মধ্যে ‘আনিতেছে তাহার আবাসস্থল হইতে রোগ জরা ​মারী দুরীকরণের জন্য বদ্ধপরিকর হইয়াছে। সীসা ও সোনার মুলে যে একই অণু আছে আজ তাহা প্রমাণিত হইয়াছে; মানুষ, গাছ ও পাথর বিজ্ঞানে যে একই নিয়মের অধীন, জগদীশচন্দ্র তাহা দেখাইয়াছেন; এমিল ফিসার (Emil Fischer) জীবদেহের উপাদান প্রোটিন (Protein) গঠনে লাগিয়া গিয়াছেন; এবং মেচ্ নিকফ্ (Metchnikoff) এর মত যদি ভ্রান্ত না হয় তো অচিরেই পাঁইট বোতলে ‘ফলেন পরিচীয়তে’ লেবেল যুক্ত দীর্ঘায়ু হইবার ঔষধ বাজারে দেখা দিবে।


পরিচ্ছেদ (মূল গ্রন্থে নেই)

সূচীপত্র

পরিচ্ছেদ 
 পৃষ্ঠা
১ 
 ১
২ 
 ৮
৩ 
 ১৪
৪ 
 ২১
৫ 
 ২৬
৬ 
 ৪৪
৭ 
 ৫৩
৮ 
 ৬২
৯ 
 ৬৭
 ৭৬
 ৮৩
 ৯২
 ৯৮
 ১০৭
 ১২০

এই লেখাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাবলিক ডোমেইনে অন্তর্গত কারণ এটি ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দের ১লা জানুয়ারির পূর্বে প্রকাশিত।


লেখক ১৯৬১ সালে মারা গেছেন, তাই এই লেখাটি সেই সমস্ত দেশে পাবলিক ডোমেইনে অন্তর্গত যেখানে কপিরাইট লেখকের মৃত্যুর ৬০ বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকে। এই রচনাটি সেই সমস্ত দেশেও পাবলিক ডোমেইনে অন্তর্গত হতে পারে যেখানে নিজ দেশে প্রকাশনার ক্ষেত্রে প্রলম্বিত কপিরাইট থাকলেও বিদেশী রচনার জন্য স্বল্প সময়ের নিয়ম প্রযোজ্য হয়।