নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি

উইকিসংকলন থেকে
Jump to navigation Jump to search

পাতা:নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি.pdf/১

 

নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি

 

type=

জাতিসংঘ তথ্য কেন্দ্র,

ঢাকা, বাংলাদেশ

}}

Bengali version of
International Covenant on Civil and Political Rights
DPI / 876

Published by:
United Nations Information Centre
Dhaka, Bangladesh

Executive Editor: Kazi Ali Reza

Published in November 2005
UNIC/PUB/2005/03/1500

নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি
জাতিসংঘ তথ্য কেন্দ্র
ঢাকা, বাংলাদেশ

সম্পাদনায়: কাজী আলী রেজা

প্রকাশকাল: নভেম্বর ২০০৫
ইউনিক/প্রকাশ/২০০৫/০৩/১৫০০

নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক ১৯৬৬ সালে গৃহীত ও স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত করা হয় এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক রাষ্ট্রপক্ষের অনুস্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে ১৯৭৬ সালে কার্যকারিতা লাভ করে। বর্তমানে এই চুক্তিতে অনুস্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রের সংখ্যা ১৪০।

ব্যক্তির জীবনধারণের সহজাত অধিকার, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ব্যক্তিজীবনের নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত করা এই চুক্তির অন্যতম শর্ত। নির্যাতন, নিষ্ঠুরতা ব৷ মর্যাদাহানিকর কোন আচরণ এই চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বন্দীকে তার বন্দিত্বের কারণ অবগত করা এবং কোন ফৌজদারী মামলায় আটক ব্যক্তিকে সত্বর বিচারক বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট সমর্পণ করা এই চুক্তির স্বীকৃত প্রথা হিসেবে পরিগণিত।

আইনসঙ্গতভাবে বসবাসকারী কোন বিদেশীকে বহিষ্কার না করা এবং রাষ্ট্র সীমানায় ব্যক্তির স্বাধীনভাবে চলাচলের অধিকারসহ এই চুক্তি ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, নারী-পুরুষ, রাজনৈতিক বা অন্য কোন মতাদর্শ নির্বিশেষে সকলের অধিকার নিশ্চিত করে। যুদ্ধবিগ্রহসহ জাতি, গোত্র বা ধর্মীয় কোন উত্তেজনাকর আচরণ এই চুক্তি অনুমোদন করে না।

মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণার জয়ন্তী পালন উপলক্ষে আমাদের লক্ষ্য International Covenant on Civil and Political Rights বা নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর কাছে তুলে ধরা। বাংলায় অনূদিত এই আন্তর্জাতিক চুক্তিটি পাঠক সমাজের উপকারে এলে আমাদের শ্রম সার্থক হবে।

জাতিসংঘ তথ্য কেন্দ্র

ঢাকা, বাংলাদেশ

নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি

১৯৬৬ সালের ১৬ই ডিসেম্বর সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্ত ২২০০ ক (২১) মোতাবেক স্বাক্ষরদান, অনুসমর্থন ও যোগদানের জন্য গৃহীত ও উন্মুক্ত।

চুক্তির ৪৯ ধারা অনুযায়ী ১৯৭৬ সালের ২৩শে মার্চ থেকে কার্যকর।

প্রস্তাবনা

এই চুক্তির রাষ্ট্রপক্ষসমূহ,

জাতিসংঘ সনদের ঘোষিত নীতিমালা অনুসারে মানব পরিবারের সকল সদস্যের সহজাত মর্যাদা এবং সমান ও অধিকারের স্বীকৃতি যে বিশ্বে স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং শান্তির ভিত্তি তা বিবেচনা করে;

এই অধিকারগুলো যে মানব ব্যক্তিত্বের সহজাত মর্যাদা থেকে উদ্ভূত তা স্বীকার করে;

মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণা' অনুসারে, নাগরিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং ভয় ও অভাব থেকে মুক্তি লাভের মানবিক আদর্শ অর্জন কেবল তখনই সম্ভব যদি এমন অবস্থার সৃষ্টি হয় যেখানে প্রত্যেক ব্যক্তি তার অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক অধিকারসমূহের সাথে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারও ভোগ করতে পারে এ কথা মেনে নিয়ে;

জাতিসংঘ সনদের অধীন মানবাধিকার ও স্বাধিকারসমূহের প্রতি সর্বজনীন শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও সেগুলো উন্নয়নকল্পে রাষ্ট্রসমূহের দায়িত্বের কথা বিবেচনা করে;

প্রত্যেক ব্যক্তির যেমন অপর ব্যক্তি ও তার সমাজের প্রতি কর্তব্য রয়েছে তেমনই বর্তমান চুক্তিতে স্বীকৃত অধিকারসমূহের উন্নতিবর্ধন ও পালনের জন্য কঠোর চেষ্টা করা যে প্রত্যেকেরই দায়িত্ব তা উপলব্ধি করে;

নিম্নলিখিত ধারাসমূহ সম্পর্কে একমত হয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ

ধারা ১

১.১ সকল জনগোষ্ঠীর আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার রয়েছে। সে অধিকারবলে তারা অবাধে তাদের রাজনৈতিক মর্যাদা নির্ধারণ করে এবং স্বাধীনভাবে তাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মপ্রয়াস অব্যাহত রাখে।

১.২ সকল জনগোষ্ঠী, পারস্পরিক সুবিধা নীতির ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক আইন থেকে উদ্ভূত দায়িত্বসমূহ ক্ষুণ্ণ না করে, নিজেদের স্বার্থে তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ ও সংস্থান স্বাধীনভাবে ব্যবহার করবে। কোনক্রমেই কোন জনগোষ্ঠীকে তাদের জীবিকার উপায় থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।

১.৩ অস্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং অছিভুক্ত অঞ্চল প্রশাসনের দায়িত্ব যেসব রাষ্ট্রের ওপর ন্যস্ত রয়েছে সেসব রাষ্ট্রসহ, বর্তমান চুক্তির রাষ্ট্রপক্ষগুলো আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার বাস্তবায়নের উন্নতিবর্ধন করবে এবং জাতিসংঘ সনদ অনুসারে ঐ অধিকারের প্রতি সম্মান দেখাবে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

ধারা ২

২.১ বর্তমান চুক্তির প্রতিটি রাষ্ট্রপক্ষ চুক্তিতে স্বীকৃত, অধিকারসমূহকে সম্মান দেখাবে বলে প্রতিশ্রুতি প্রদান করে এবং জাত, বর্ণ, নারী-পুরুষ, ভাষা, ধর্ম, রাজনৈতিক অথবা অন্য মতাদর্শ, জাতীয় অথবা সামাজিক উৎপত্তি, সম্পত্তি, জন্ম অথবা অন্য কোন মর্যাদা নির্বিশেষে এর রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে এবং এখতিয়ারাধীন সকলের জন্য উক্ত অধিকারসমূহ নিশ্চিত করবে।

২.২ বর্তমান চুক্তির রাষ্ট্রপক্ষসমূহ প্রতিশ্রুতি প্রদান করে যে, যদি বিদ্যমান আইনের দ্বারা অথবা অন্য কোনভাবে ইতোমধ্যে কোন ব্যবস্থা করা না হয়ে থাকে তবে প্রতিটি রাষ্ট্রপক্ষ নিজ নিজ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এবং বর্তমান চুক্তির বিধানাবলী অনুসারে স্বীকৃত অধিকারসমূহ কার্যকরী করার জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন অথবা অন্য কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

২.৩ বর্তমান চুক্তির প্রত্যেক রাষ্ট্রপক্ষ প্রতিশ্রুতি প্রদান করে যে:

ক) কোন ব্যক্তির এ চুক্তিতে স্বীকৃত কোন অধিকার অথবা স্বাধীনতা লংঘন করা হলে, এমনকি সরকারি ক্ষমতার অধিকারী কোন ব্যক্তি কর্তৃক অনুরূপ লংঘন সংঘটিত হলেও, তার ফলপ্রসূ প্রতিকার নিশ্চিত করবে।
খ) কোন ব্যক্তি প্রতিকার দাবি করলে, উপযুক্ত বিচার বিভাগীয়, প্রশাসনিক অথবা আইন কর্তৃপক্ষ অথবা রাষ্ট্রের আইন পদ্ধতির দ্বারা স্থিরীকৃত অন্য কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উক্ত প্রতিকার লাভের অধিকার নির্ধারণের নিশ্চয়তা প্রদান করবে এবং বিচার বিভাগীয় প্রতিকারের সম্ভাবনার উন্নতি বর্ধন করবে।
গ) অনুরূপ প্রতিকার মঞ্জুর করা হলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এর কার্যকরীকরণ নিশ্চিত করতে হবে।

ধারা ৩

প্রতিটি রাষ্ট্রপক্ষ চুক্তিতে বর্ণিত নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারগুলো উপভোগের ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব গ্রহণ করে।

ধারা ৪

৪.১ জাতির জীবনের প্রতি হুমকি প্রদান করে এমন সাধারণ জরুরি অবস্থার বিদ্যমানতা সরকারিভাবে ঘোষণা করা হলে রাষ্ট্র কর্তৃক কোন পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে, রাষ্ট্রপক্ষগুলো পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে যতটুকু অত্যাবশ্যক কেবল ততটুকু বর্তমান চুক্তির অধীনে স্ব স্ব দায়িত্বসমূহ থেকে বিচ্যুত হতে পারে; তবে অনুরূপ ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে এদের দায়িত্বের পরিপন্থী হবে না এবং এর দ্বারা কেবল জাত, বৰ্ণ, নারী, পুরুষ, ভাষা, ধর্ম অথবা সামাজিক উৎপত্তির ভিত্তিতে কোন ভেদাভেদ করা যাবে না।

৪.২ এই বিধানের অধীনে ৬, ৭, ৮(১), (২), ১১, ১৫, ১৬ ও ১৮ ধারা থেকে কোনরূপ বিচ্যুতি চলবে না।

৪.৩ কোন রাষ্ট্রপক্ষ যদি বিচ্যুতির অধিকার প্রয়োগ করে তবে কোন কোন বিধান থেকে এবং কি কি কারণে বিচ্যুত হয়েছে তা তৎক্ষণাৎ জাতিসংঘের মহাসচিবের মাধ্যমে চুক্তির অন্যান্য রাষ্ট্রপক্ষকে অবহিত করবে। যে তারিখে উক্ত বিচ্যুতির অবসান ঘটবে সে তারিখ সম্পর্কেও তা একই পদ্ধতিতে আর একটি বিজ্ঞপ্তি প্রেরণ করবে।

ধারা ৫

৫.১ এ চুক্তির কোন কিছুরই এমন কোন ব্যাখ্যা প্রদান করা যাবে না যার অর্থ এই দাঁড়ায় যে, এতে স্বীকৃত অধিকার অথবা স্বাধিকারগুলোর বিনাশসাধনের উদ্দেশ্যে অথবা বর্তমান চুক্তিতে যেরূপ বাধানিষেধের বিধান রয়েছে তা অপেক্ষা অধিক বাধানিষেধ আরোপ করার উদ্দেশ্যে কোন কাজে প্রবৃত্ত হওয়ার অথবা কোন কাজ সম্পাদন করার অধিকার কোন রাষ্ট্র, গোষ্ঠী অথবা ব্যক্তির রয়েছে।

৫.২ কোন দেশের আইন, প্রথা, নিয়ম-কানুন অথবা রীতিনীতি অনুসারে স্বীকৃত অথবা প্রচলিত মৌলিক মানবাধিকারগুলোর ওপর এ অজুহাতে বাধানিষেধ আরোপ করা কিংবা সেগুলো হ্রাস করা যাবে না যে, চুক্তি অনুরূপ অধিকার স্বীকার করে না অথবা অপেক্ষাকৃত গৌণরূপে স্বীকার করে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

ধারা ৬

৬.১ প্রত্যেক মানুষের বাঁচার সহজাত অধিকার রয়েছে। এ অধিকার আইনের দ্বারা রক্ষিত হবে। কোন ব্যক্তিকে খেয়াল-খুশিমত জীবন থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।

৬.২ যেসব দেশে মৃত্যুদণ্ড রহিত করা হয়নি সেসব দেশে কেবল গুরুতর অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেয়া যেতে পারে; তবে অনুরূপ মৃত্যুদণ্ড অপরাধ সংঘটনকালে বলবৎ আইন অনুসারে দিতে হবে এবং তা বর্তমান চুক্তির বিধানাবলী এবং ‘গণহত্যাজনিত অপরাধের নিরোধ ও শাস্তি বিধান সংক্রান্ত কনভেনশন’-এর পরিপন্থী হবে না। উপযুক্ত আদালত কর্তৃক প্রদত্ত চূড়ান্ত রায়ের ভিত্তিতেই কেবল এরূপ দণ্ড কার্যকরী করা যেতে পারে।

৬.৩ যখন গণহত্যাজনিত অপরাধের জন্য কাউকে জীবন থেকে বঞ্চিত করা হয় সেক্ষেত্রে এ ধারার কোন কিছুই কোন রাষ্ট্রপক্ষকে এমন কোন ক্ষমতা প্রদান করে না যার ফলে রাষ্ট্র ‘গণহত্যাজনিত অপরাধের নিরোধ ও শাস্তি বিধান সংক্রান্ত কনভেনশন’-এর অধীনে গৃহীত কোন দায়িত্ব থেকে বিদ্যুত হতে পারে।

৬.৪ কাউকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হলে, তার মার্জনা অথবা দণ্ড লঘুকরণের জন্য আবেদন করার অধিকার থাকবে। সকল ক্ষেত্রেই ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমষ্টির মৃত্যুদণ্ড মার্জনা অথবা লঘু করা যেতে পারে।

৬.৫ আঠার বৎসরের কম বয়সী কোন ব্যক্তি কোন অপরাধ করলে তকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া যাবে না এবং অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরী করা যাবে না।

৬.৬ এ চুক্তির কোন ধারার কোন কিছুর অজুহাতে কোন রাষ্ট্রপক্ষ মৃত্যুদণ্ড বিলম্বিত করতে অথবা ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।

ধারা ৭

কাউকে নির্যাতন অথবা কারো প্রতি নিষ্ঠুর, অমানুষিক কিংবা মর্যাদাহানিকর আচরণ করা যাবে না অথবা অনুরূপ শাস্তি প্রদান করা চলবে না। বিশেষ করে কাউকে তার অবাধ সম্মতি ব্যতিরেকে ডাক্তারি কিংবা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষণের পাত্র করা যাবে না।

ধারা ৮

৮.১ কাউকে ক্রীতদাসরূপে ধরে রাখা চলবে না, সকল ধরনের ক্রীতদাস প্রথা এবং দাস ব্যবসায় নিষিদ্ধ থাকবে।

৮.২ কাউকেও বশ্যতায় আবদ্ধ রাখা চলবে না।

৮.৩

ক) কারো কাছ থেকে জবরদস্তিমূলক অথবা বাধ্যতামূলক শ্রম আদায় করা যাবে না।
খ) ৩ অনুচ্ছেদের (ক)-এর অর্থ এই নয় যে, যেসব দেশে কোন অপরাধের শাস্তি হিসেবে কঠোর পরিশ্রমসহ কারাবাস আরোপ করা হয় সেসব দেশে উপযুক্ত আদালত কর্তৃক প্রদত্ত অনুরূপ কারাদণ্ডের আদেশ অনুসারে কঠোর পরিশ্রম করা নিষিদ্ধ।
গ) এ অনুচ্ছেদের ক্ষেত্রে ‘জবরদস্তিমূলক অথবা বাধ্যতামূলক শ্রম' বলতে নিম্নে বর্ণিত কোন কিছুকে বোঝাবে না:
১. উপ-অনুচ্ছেদ (খ)-এ উল্লিখিত হয়নি এমন কোন কাজ অথবা সেবা যা আদালতের আইনসংগত আদেশ অনুসারে কোন আটক ব্যক্তিকে সাধারণত করতে হয়, অথবা অনুরূপ বন্দীদশা থেকে শর্তাধীন মুক্তির সময় কোন ব্যক্তিতে করতে হয়।

২. সামরিক প্রকৃতির কোন কাজ এবং যেসব দেশে বিবেকজনিত আপত্তির অধিকার স্বীকৃত সেসব দেশে অনুরূপ আপত্তিকারককে আইন অনুসারে যে সমস্ত জাতীয় সেবামূলক কাজ করতে হয়।

৩. জাতির জীবন অথবা সুখ-সমৃদ্ধিকে বিপন্ন করতে পারে এমন জরুরি অবস্থা অথবা দুর্দৈবের সময় যে সমস্ত কাজ আদায় করা হয়।
৪. এমন যে কোন কাজ অথবা সেবা বা স্বাভাবিক নাগরিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে গণ্য।

ধারা ৯

৯.১ প্রত্যেকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং নিরাপত্তার অধিকার রয়েছে। কাউকে খেয়াল খুশিমত আটক অথবা গ্রেফতার করা যাবে না। আইনের দ্বারা নির্দিষ্ট কারণ ও আইনানুগ পদ্ধতি ব্যতীত কাউকে তার স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।

৯.২ কাউকে গ্রেফতারের সময় তাকে গ্রেফতারের কারণ জ্ঞাপন করতে হবে; এবং তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সম্পর্কে তাকে অবিলম্বে অবহিত করতে হবে।

৯.৩ ফৌজদারী অপরাধের দায়ে গ্রেফতারকৃত অথবা আটক ব্যক্তিকে অবিলম্বে কোন বিচারক কিংবা আইনের দ্বারা বিচারক্ষমতা প্রয়োগের কর্তৃত্বপ্রাপ্ত অন্য কোন কর্মকর্তার সম্মুখে হাজির করতে হবে; অনুরূপ ব্যক্তি যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে বিচার অথবা মুক্তি পাওয়ার অধিকারী। বিচারাধীন ব্যক্তিকে প্রহরায় আটক রাখতে হবে—এরূপ কোন সাধারণ নিয়ম হতে পারে না; কিন্তু কারো মুক্তি বিচারসংক্রান্ত কার্যধারার অন্য যে কোন পর্যায়ে বিচারের জন্য এবং প্রয়োজন হলে আদালতের রায় কার্যকরী করার জন্য হাজিরাদানের নিশ্চয়তা শর্তসাপেক্ষ হতে পারে।

৯.৪ গ্রেফতার অথবা আটকের ফলে কেউ স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হলে আদালতে কার্যধারা গ্রহণ করার অধিকার তার থাকবে যাতে আদালত অবিলম্বে তার আটকের বৈধতা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং উক্ত আটক আইনবিরুদ্ধ হলে তার মুক্তির আদেশ দিতে পারে।

৯.৫ কেউ অবৈধভাবে গ্রেফতার অথবা আটকের শিকার হলে ক্ষতিপূরণ লাভের বলবৎযোগ্য অধিকার তার থাকবে।

ধারা ১০

১০.১ স্বাধিকার থেকে বঞ্চিত সকলের প্রতি মানবোচিত এবং মানব ব্যক্তিত্বের সহজাত মর্যাদার প্রতি সম্মানসুলভ আচরণ করতে হবে।

১০.২

ক) ব্যতিক্রমধর্মী পরিস্থিতি ছাড়া সকল ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের দণ্ডিত অপরাধী থেকে পৃথক রাখতে হবে এবং নিরপরাধ বলে ধরে নিয়ে তাদের প্রতি পৃথক আচরণ করতে হবে।

খ) অভিযুক্ত তরুণদের প্রাপ্তবয়স্কদের থেকে পৃথক রাখতে হবে এবং তাদের যথাসম্ভব দ্রুত বিচার করতে হবে।

১০.৩ কয়েদীদের প্রতি আচরণের ক্ষেত্রে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা থাকবে এবং অনুরূপ ব্যবস্থার অত্যাবশ্যকীয় লক্ষ্য হবে কয়েদীদের সংশোধন ও সামাজিক পুনর্বাসন করা। তরুণ অপরাধীদের প্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীদের থেকে পৃথক রাখতে হবে এবং বয়স ও আইনগত মর্যাদার ভিত্তিতে তাদের প্রতি উপযুক্ত আচরণ করতে হবে।

ধারা ১১

শুধু চুক্তিগত দায়-দায়িত্ব পালনে অসামর্থ্যের কারণে কাউকে কারারুদ্ধ করা যাবে না।

ধারা ১২

১২.১ কোন রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে আইনসম্মতভাবে অবস্থানকারী, প্রত্যেক ব্যক্তির সেই রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যে চলাফেরা করা এবং বসবাসের স্থান নির্বাচন করার স্বাধীনতা থাকবে।

১২.২ প্রত্যেকের নিজ দেশসহ যে কোন দেশ ত্যাগ করার স্বাধীনতা থাকবে।

১২.৩ জাতীয় নিরাপত্তা, জনশৃংখলা, জনস্বাস্থ্য, নৈতিকতা অথবা অন্যের অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষার প্রয়োজনে এবং বর্তমান চুক্তিতে স্বীকৃত অন্য অধিকারগুলোর সাথে সামঞ্জস্য রেখে আইনের দ্বারা নির্ধারিত বাধানিষেধ ব্যতীত উল্লিখিত অধিকারগুলোর ওপর কোন বাধানিষেধ আরোপ করা যাবে না।

১২.৪ কাউকে তার নিজ দেশে প্রবেশের অধিকার থেকে খেয়াল খুশিমত বঞ্চিত করা যাবে না।

ধারা ১৩

এ চুক্তির কোন রাষ্ট্রপক্ষের ভূখণ্ডে আইনসম্মতভাবে অবস্থানকারী কোন বিদেশীকে কেবল আইনানুযায়ী গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুসারে বহিষ্কার করা যেতে পারে। জাতীয় নিরাপত্তার অপরিহার্য কারণে প্রয়োজন না হলে তার ব্যাপারটি কোন উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কিংবা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দ্বারা বিশেষভাবে মনোনীত কোন ব্যক্তি অথবা ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক পুনর্বিবেচনার ও সে উদ্দেশ্যে অনুরূপ কর্তৃপক্ষের নিকট তার বক্তব্য পেশ করার সুযোগ দিতে হবে।

ধারা ১৪

১৪.১ আদালত ও ট্রাইব্যুনালের সমক্ষে সকলেই সমান। কারো বিরুদ্ধে কোন অপরাধের অভিযোগ অথবা তার অধিকার ও দায়িত্ব নির্ধারণকালে, আইনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত উপযুক্ত, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক ন্যায্য ও প্রকাশ্য শুনানীর অধিকার তার থাকবে। গণতান্ত্রিক সমাজে নৈতিকতা জনগৃংখলা অথবা জাতীয় নিরাপত্তার কারণে অথবা মোকদ্দমার বিভিন্ন পক্ষের ব্যক্তিগত জীবনের স্বার্থে প্রয়োজন হলে অথবা বিশেষ পরিস্থিতিতে আদালত যদি মনে করেন যে, তা প্রচারের ফলে ন্যায়বিচার ব্যাহত হতে পারে তবে, সাংবাদিক ও জনসাধারণকে সম্পূর্ণ বিচার অথবা অংশবিশেষ [শ্রবণের সুযোগ] থেকে বঞ্চিত করা যেতে পারে। তরুণদের স্বার্থে অনুরুপ প্রয়োজন না হলে, কিংবা মোকদ্দমাতে বিবাহসংক্রান্ত বিবাদ অথবা সন্তানের অভিভাবকত্বের প্রশ্ন জড়িত না থাকলে, ফৌজদারী মামলা অথবা আইনসংক্রান্ত মোকদ্দমায় প্রদত্ত যে কোন রায় প্রকাশ করতে হবে।

১৪.২ আইন অনুসারে দোষীসাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত ফৌজদারী অপরাধের দায়ে প্রত্যেক অভিযুক্ত ব্যক্তির নির্দোষ বলে বিবেচিত হওয়ার অধিকার থাকবে।

১৪.৩ কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন ফৌজদারী অপরাধের অভিযোগ মীমাংসার ব্যাপারে পূর্ণ সমতার ভিত্তিতে তার নিম্নলিখিত ন্যূনতম নিশ্চয়তা লাভের অধিকার থাকবে।

ক) অভিযুক্ত ব্যক্তি আনীত অভিযোগের কারণ ও ধরন সম্পর্কে যে ভাষা বোঝেন সেই ভাষায়, অবিলম্বে এবং বিস্তারিতভাবে তাকে অবগত করা;
খ) আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রস্তুতি এবং নিজের পছন্দমত কৌসুলির সাথে যোগাযোগ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় ও সুবিধা লাভ;
গ) অযথা বিলম্ব না করে বিচার লাভ;
ঘ) নিজের উপস্থিতিতে বিচার লাভ করা এবং নিজে অথবা নিজের পছন্দমত আইনসংক্রান্ত সাহায্যের মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থন করা; আইনসংক্রান্ত সাহায্য না থাকলে তার এই অধিকার সম্পর্কে অবগত হওয়া; ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রয়োজন হলে আইনসংক্রান্ত সাহায্য লাভ করা এবং অনুরূপ সাহায্য লাভের জন্য অর্থ প্রদানের যথেষ্ট সংস্থান না থাকলে বিনামূল্যে তা লাভ করা;
ঙ) তার বিপক্ষীয় সাক্ষীদের পরীক্ষা করা অথবা করান এবং একই রূপ অবস্থা বা শর্তের অধীনে তার স্বপক্ষীয় সাক্ষীদের হাজিরা ও পরীক্ষার ব্যবস্থা করা;
চ) আদালতে ব্যবহৃত ভাষা বুঝতে অথবা বলতে অসমর্থ হলে বিনামূল্যে দোভাষীর সাহায্য লাভ করা;
ছ) ব্যক্তিগত নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রদান করতে অথবা নিজের দোষ স্বীকার করতে তাকে বাধ্য না করা।

১৪.৪ তরুণদের ক্ষেত্রে, বয়স এবং পুনর্বাসনের উন্নতি বিধানের প্রয়োজনীয়তার প্রতি দৃষ্টি রেখে কার্যপ্রণালী নির্ধারণ করতে হবে।

১৪.৫ কোন অপরাধের জন্য দোষীসাব্যস্ত হয়েছে এমন প্রত্যেক ব্যক্তির উচ্চতর ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক আইন অনুসারে তার অপরাধ এবং দণ্ডাদেশের পুনর্বিবেচনা লাভের অধিকার থাকবে।

১৪.৬ যদি কাউকে ফৌজদারী অপরাধের দায়ে দোষী বলে চূড়ান্ত রায় প্রদান করা হয় এবং পরবর্তীকালে কোন নতুন অথবা নতুনভাবে উদঘাটিত ঘটনার ফলে নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হয় যে, উক্ত ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার হয়নি এবং সে কারণে তার শাস্তি রোধ করা হয় কিংবা তাকে মার্জনা করা হয়, তবে সে ব্যক্তি অনুরূপ শাস্তি দানের ফলে যে কারাভোগ করেছেন তার জন্য তাকে আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিতে হবে; অবশ্য যদি প্রমাণিত হয় যে অজ্ঞাত ঘটনাটি সময়মত প্রকাশ না হওয়ার জন্য উক্ত ব্যক্তি সম্পূর্ণরূপে অথবা অংশত দায়ী, তবে সে ক্ষতিপূরণ লাভের অধিকারী হবে না।

১৪.৭ যে অপরাধের অভিযোগে কাউকে দেশের আইন ও শাস্তিমূলক কার্যবিধি অনুযায়ী একবার চূড়ান্তভাবে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে অথবা অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, সেই অপরাধের জন্য পুনরায় তার বিচার করা কিংবা তাকে শাস্তি প্রদান করা যাবে না।

ধারা ১৫

১৫.১ কাউকে এমন কোন কাজ করা বা না করার জন্য ফৌজদারী অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত করা যাবে না, যা সংঘটনকালে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ফৌজদারী অপরাধ ছিল না। যখন অপরাধ সংঘটিত হয় সে সময় যতটুকু শান্তি প্রযোজ্য ছিল তা অপেক্ষা গুরুতর শাস্তি দেয়া চলবে না। অপরাধ সংঘটনের পর যদি আইনের দ্বারা লঘুতর শাস্তি বিধানের ব্যবস্থা করা হয় তবে অপরাধী এর সুফল ভোগ করতে পারবে।

১৫.২ এ ধারার কোন কিছুই এমন কোন কাজ করা বা না করার জন্য কোন ব্যক্তির বিচার অথবা শাস্তি বিধান ব্যাহত করবে না, যা সংঘটনকালে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কর্তৃক স্বীকৃত আইনের সাধারণ নীতি অনুযায়ী অপরাধ ছিল।

ধারা ১৬

প্রত্যেকের সকল স্থানে আইনের সমক্ষে ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃতি লাভের অধিকার থাকবে।

ধারা ১৭

১৭.১ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, পরিবার, বসতবাড়ি বা চিঠিপত্রের ব্যাপারে খেয়ালখুশি মত হস্তক্ষেপ অথবা সম্মান ও সুনামের ওপর কাউকে বেআইনীভাবে আক্রমণ করা চলবে না।

১৭.২ অনুরূপ হস্তক্ষেপ কিংবা আক্রমণের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয়লাভের অধিকার প্রত্যেকের থাকবে।

ধারা ১৮

১৮.১ প্রত্যেকের চিন্তা, বিবেক এবং ধর্মের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ভোগের অধিকার থাকবে। এই অধিকারের মধ্যে এককভাবে অথবা অন্যের সাথে সম্প্রদায়গতভাবে নিজের পছন্দমত কোন ধর্ম অথবা বিশ্বাস গ্রহণ করার অধিকার এবং প্রকাশ্যে অথবা গোপনে ধর্ম পালন, অনুশীলন ও শিক্ষাদানের মাধ্যমে তার ধর্ম অথবা বিশ্বাস প্রকাশ করার অধিকার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

১৮.২ কাউকে এমন কোন বাধ্যতার অধীন করা যাবে না যার ফলে নিজের পছন্দমত ধর্ম বা বিশ্বাস পোষণ বা গ্রহণ করার স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হতে পারে।

১৮.৩ কোন ব্যক্তির ধর্ম বা বিশ্বাস প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর কেবল আইনের দ্বারা নির্ধারিত এমন সব বাধা-নিষেধ আরোপ করা যেতে পারে যেগুলো জননিরাপত্তা, জনশৃংখলা, জনস্বাস্থ্য অথবা নৈতিকতা, অথবা অন্যান্যের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আবশ্যক।

১৮.৪ এ চুক্তির রাষ্ট্রপক্ষগুলো অঙ্গীকার করছে যে, এরা মাতাপিতা এবং প্রয়োজনমত আইনসঙ্গত অভিভাবকদের স্বীয় বিশ্বাস অনুযায়ী তাদের সন্তান-সন্ততিদের জন্য ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা প্রদান নিশ্চিত করার স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে।

ধারা ১৯

১৯.১ কোনরূপ হস্তক্ষেপ ব্যতিরেকে মতামত পোষণ করার অধিকার প্রত্যেকেরই থাকবে।

১৯.২ প্রত্যেকেরই বাক-স্বাধীনতা থাকবে; সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়ে এ অধিকারের মধ্যে মৌখিক, লিখিতভাবে অথবা মুদ্রিত আকারে, শিল্পকলা অথবা স্বীয় পছন্দমত অন্য কিছুর মাধ্যমে, তথ্য ও সকল প্রকার ধ্যান-ধারণার অন্বেষণ, গ্রহণ এবং জ্ঞাত করার স্বাধীনতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

১৯.৩ এ ধারার (২) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত অধিকারসমূহ প্রয়োগের সাথে বিশেষ কর্তব্য ও দায়িত্ব জড়িত রয়েছে। অতএব এসব অধিকারের ওপর কিছু বাধা-নিষেধ আরোপ করা যেতে পারে। তবে অনুরূপ বাধা-নিষেধসমূহ কেবল আইনের দ্বারা নির্ধারিত হবে এবং সেগুলো:

ক) অন্যের অধিকার ও সুনামের প্রতি সম্মানের জন্য;
খ) জাতীয় নিরাপত্তা অথবা জনশৃংখলা অথবা জনস্বাস্থ্য অথবা নৈতিকতার জন্য যেরূপ আবশ্যক কেবল সেরূপ হবে।

ধারা ২০

২০.১ যুদ্ধের সপক্ষে যে কোন রূপ প্রচারণা আইনের দ্বারা নিষিদ্ধ থাকবে।

২০.২ বিভেদ, শত্রুতা অথবা হিংস্রতা প্ররোচিত করে এমন কোন জাতিগত, বংশগত অথবা ধর্মগত বিদ্বেষের সপক্ষে ওকালতি করা আইনের দ্বারা নিষিদ্ধ থাকবে।

ধারা ২১

২১.১ শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারি স্বীকার করতে হবে। এ অধিকার প্রয়োগের ওপর আইনসম্মত ব্যতিক্রম ব্যতিরেকে এবং একটি গণতান্ত্রিক সমাজে জাতীয় নিরাপত্তা অথবা জননিরাপত্তা, জনশৃংখলা, জনস্বাস্থ্য অথবা নৈতিকতা, অথবা অন্যের অধিকার ও স্বাধীনতা সংরক্ষণের স্বার্থে যা আবশ্যক তা ছাড়া যেরূপ অবশ্য প্রয়োজন সেরূপ ব্যতীত, কোন বাধানিষেধ আরোপ করা যাবে না।

ধারা ২২

২২.১ প্রত্যেকেরই নিজ স্বার্থ রক্ষার্থে শ্রমিক ইউনিয়ন গঠন ও এতে যোগদানের অধিকারসহ অন্যদের স্বার্থে সংঘবদ্ধ হওয়ার অধিকার থাকবে।

২২.২ এ অধিকার প্রয়োগের ওপর আইনানুযায়ী ব্যতীত এবং একটি গণতান্ত্রিক সমাজে জাতীয় নিরাপত্তা, অথবা জননিরাপত্তা, জনশৃংখলা, জনস্বাস্থ্য অথবা নৈতিকতা, অথবা অন্যের অধিকার ও স্বাধীনতা সংরক্ষণের স্বার্থে যেরূপ আবশ্যক সেরূপ ব্যতীত, কোন বাধানিষেধ আরোপ করা যাবে না। এ ধারা উক্ত অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে, সশস্ত্র বাহিনী এবং পুলিশ বাহিনীর সদস্যের ওপর আইনসঙ্গত বাধানিষেধ আরোপে কোনরূপ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে না।

২২.৩ এ ধারার কোন কিছুই ‘সমাবেশের স্বাধীনতা এবং সংগঠন করার অধিকার সংরক্ষণ' সম্পর্কিত ১৯৪৮ সালের ‘আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার কনভেনশন' এর রাষ্ট্রপক্ষগুলোকে এমন কোন আইন প্রণয়ন অথবা এমনভাবে আইন প্রয়োগ করার কর্তৃত্ব প্রদান করে না যার ফলে উক্ত কনভেনশনে প্রদত্ত নিশ্চয়তাসমূহ ক্ষুণ্ণ হতে পারে।

ধারা ২৩

২৩.১ পরিবার সমাজের স্বাভাবিক এবং মৌলিক একক গোষ্ঠী; সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক এর সংরক্ষণ লাভের অধিকার রয়েছে।

২৩.২ বিবাহযোগ্য বয়সের পুরুষ ও নারীর বিবাহ করার অধিকার এবং পরিবার গঠন করার অধিকার স্বীকার করতে হবে।

২৩.৩ বিবাহ-ইচ্ছুক পাত্র-পাত্রীর অবাধ ও পূর্ণসম্মতি ব্যতিরেকে কোন বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে না।

২৩.৪ রাষ্ট্রপক্ষসমূহ বৈবাহিক সম্পর্ক, বিবাহিত অবস্থা এবং বিবাহ-বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রীর সমান অধিকার ও দায়িত্ব নিশ্চিত করার জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। যদি বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটে তবে সন্তানাদির (যদি সন্তান থাকে) জন্য প্রয়োজনীয় সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

ধারা ২৪

২৪.১ জাত, বর্ণ, নারী, পুরুষ, ভাষা, ধর্ম, জাতীয় অথবা সামাজিক উৎপত্তি, সম্পত্তি অথবা জন্ম নির্বিশেষে প্রত্যেক শিশু তার পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের নিকট থেকে অপ্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি হিসেবে প্রয়োজনীয় সংরক্ষণ ব্যবস্থা লাভের অধিকার পাবে।

২৪.২ প্রত্যেক শিশুকে জন্মের অব্যবহিত পরে নিবন্ধভুক্ত করতে হবে এবং তার একটি নাম রাখতে হবে।

২৪.৩ প্রত্যেক শিশুর একটি জাতীয়তার অধিকার রয়েছে।

ধারা ২৫

প্রত্যেক নাগরিক নিম্নলিখিত অধিকার ও সুযোগ লাভ করবে এবং এসব ক্ষেত্রে ২ ধারায় বর্ণিত কোন কারণের ভিত্তিতে কোনরূপ ভেদাভেদ করা চলবে না এবং কোন অযৌক্তিক বাধানিষেধ আরোপ করা যাবে না—

ক) সরকারি কাজকর্ম পরিচালনায় প্রত্যক্ষভাবে, অথবা অবাধে নির্বাচিত প্রতিনিধিবৃন্দের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করা;
খ) সর্বজনীন ও সম ভোটাধিকারের ভিত্তিতে এবং নির্বাচকদের অবাধে মতপ্রকাশের নিশ্চয়তা প্রদান করে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ান্তরে অনুষ্ঠিত সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোটদান করা ও নির্বাচিত হওয়া;
গ) সাধারণ সমতার ভিত্তিতে নিজ নিজ দেশের সরকারি কর্মে প্রবেশ করা।

ধারা ২৬

আইনের কাছে সকলেই সমান এবং কোনরূপ বৈষম্য ব্যতিরেকে সকলেরই আইনের দ্বারা সমভাবে রক্ষিত হওয়ার অধিকার রয়েছে। এ ক্ষেত্রে জাত, বৰ্ণ, নারী, পুরু, ভাষা, ধর্ম, রাজনৈতিক বা অন্য কোনরূপ মত, জাতীয় বা সামাজিক উৎপত্তি, সম্পত্তি, জন্ম অথবা অন্য কোন মর্যাদার ভিত্তিতে যে কোন বৈষম্য আইনের দ্বারা নিষিদ্ধ থাকবে এবং অনুরূপ বৈষম্যের বিরুদ্ধে দেশের আইন সবাইকে সমান ও কার্যকরী সংরক্ষণের নিশ্চয়তা প্রদান করবে।

ধারা ২৭

যেসব দেশে জাতিগত, ধৰ্মগত অথবা ভাষাগত সংখ্যালঘু রয়েছে সেসব দেশে অনুরূপ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের জন্য তাদের গোষ্ঠীর অন্যান্য সদস্যের সাথে সম্মিলিতভাবে নিজেদের সংস্কৃতি উপভোগ, নিজেদের ধর্ম ব্যক্ত ও অনুশীলন অথবা নিজেদের ভাষা ব্যবহার করার অধিকার অস্বীকার করা যাবে না।

ধারা ২৮

২৮.১ একটি 'মানবাধিকার কমিটি' (বর্তমান চুক্তিতে অতঃপর শুধু ‘কমিটি’ বলে উল্লেখিত) প্রতিষ্ঠিত হবে। এটা ১৮ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে এবং পরে বর্ণিত কার্যাবলী সম্পাদন করবে।

২৮.২ এই কমিটি বর্তমান চুক্তির রাষ্ট্রপক্ষগুলো এমন সব নাগরিক নিয়ে গঠিত হবে যারা উচ্চ নৈতিক চরিত্রের অধিকারী এবং মানবাধিকারের ক্ষেত্রে যথেষ্ট পারদর্শী বলে স্বীকৃত; এ কমিটিতে আইন সম্বন্ধে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কতিপয় ব্যক্তির অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ও বিবেচনা করতে হবে।

২৮.৩ কমিটির সদস্যগণ নির্বাচিত হবেন এবং ব্যক্তিগত মর্যাদায় কাজ করবেন।

ধারা ২৯

২৯.১ ২৮ ধারায় নির্ধারিত যোগ্যতার অধিকারী এবং বর্তমান চুক্তির রাষ্ট্রপক্ষগুলো কর্তৃক নির্বাচনের উদ্দেশ্যে মনোনীত ব্যক্তিদের তালিকা থেকে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে কমিটির সদস্যগণ নির্বাচিত হবেন।

২৯.২ প্রতিটি রাষ্ট্রপক্ষ অনধিক দু’জনকে মনোনীত করবে। তাঁরা অবশ্যই মনোনয়নকারী রাষ্ট্রের নাগরিক হবেন।

২৯.৩ তাঁদের পুনঃমনোনয়ন লাভের অধিকার থাকবে।

ধারা ৩০

৩০.১ বর্তমান চুক্তি বলবৎ হওয়ার অনূর্ধ্ব ছয় মাসের মধ্যে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

৩০.২ ৩৪ ধারা অনুসারে ঘোষিত শূন্যপদ পূরণের জন্য কোন নির্বাচন ব্যতীত, কমিটি প্রত্যেক নির্বাচনের তারিখের অন্যূন চার মাস পূর্বে জাতিসংঘের মহাসচিব বর্তমান চুক্তির রাষ্ট্রপক্ষগুলোকে তিন মাসের মধ্যে কমিটির সদস্যপদের জন্য মনোনয়ন দাখিল করতে লিখিতভাবে আমন্ত্রণ জানাবেন।

৩০.৩ জাতিসংঘের মহাসচিব অনুরূপভাবে মনোনীত সকল ব্যক্তির নাম বর্ণানুক্রমে সাজিয়ে একটি তালিকা প্রণয়ন করবেন এবং তাতে মনোনয়নদানকারী রাষ্ট্র সম্পর্কেও উল্লেখ থাকবে। তিনি প্রত্যেক নির্বাচনের তারিখের অন্যূন এক মাস পূর্বে বর্তমান চুক্তির রাষ্ট্রপক্ষগুলোর নিকট উক্ত তালিকা পেশ করবেন।

৩০.৪ জাতিসংঘের মহাসচিব কর্তৃক জাতিসংঘের সদর দফতরে আহূত বর্তমান চুক্তির রাষ্ট্রপক্ষসমূহের বৈঠকে কমিটির সদস্যদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অনুরূপ বৈঠকে কোরামের জন্য বর্তমান চুক্তির দুই-তৃতীয়াংশ রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থিতি প্রয়োজন হবে এবং সেখানে যেসব মনোনীত ব্যক্তি সর্বাপেক্ষা অধিক সংখ্যক উপস্থিত ও ভোটদানকারী রাষ্ট্রপক্ষ প্রতিনিধিবৃন্দের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট লাভ করবেন তাঁরা কমিটির সদস্যপদে নির্বাচিত হবেন।

ধারা ৩১

৩১.১ একই রাষ্ট্রের একাধিক নাগরিক কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত না হওয়াই বাঞ্ছনীয়।

৩১.২ কমিটির নির্বাচনকালে সদস্যপদের ন্যায়সঙ্গত ভৌগোলিক বন্টন এবং বিভিন্ন প্রকার সভ্যতা ও প্রধান প্রধান আইন পদ্ধতির প্রতিনিধিত্বের বিষয় বিচার-বিবেচনা করতে হবে।

ধারা ৩২

৩২.১ কমিটির সদস্যগণ চার বছর মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হবেন। প্রথম নির্বাচনে নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে নয়জনের মেয়াদ দুই বছর পর সমাপ্ত হবে; প্রথম নির্বাচনের অব্যবহিত পরে ৩০ ধারার (৪) অনুচ্ছেদে উল্লিখিত বৈঠকের সভাপতি লটারির মাধ্যমে এই নয়জন সদস্য বাছাই করবেন।

৩২.২ মেয়াদ শেষে বর্তমান চুক্তির এই পরিচ্ছেদে বর্ণিত পূর্ববর্তী ধারাগুলো অনুসারে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ধারা ৩৩

৩৩.১ যদি অন্য সকল সদস্য সর্বসম্মতভাবে অভিমত প্রদান করেন যে, কমিটির কোন সদস্য অস্থায়ী ধরনের অনুপস্থিতি ব্যতিরেকে অন্য কোন কারণে তার কার্যাবলী সম্পাদন করছেন না, তবে কমিটির সভাপতি জাতিসংঘের মহাসচিবকে তা জ্ঞাত করবেন। মহাসচিব তখন ঐ সদস্যের আসন শূন্য বলে ঘোষণা দিবেন।

৩৩.২ কমিটির কোন সদস্যের মৃত্যু ঘটলে অথবা তিনি পদত্যাগ করলে কমিটির সভাপতি অবিলম্বে জাতিসংঘের মহাসচিবকে তা জ্ঞাত করবেন, তখন মহাসচিব যে তারিখে তাঁর মৃত্যু ঘটেছে অথবা পদত্যাগ কার্যকরী হয়েছে সে তারিখ থেকে উক্ত সদস্যের আসন শূন্য বলে ঘোষণা দিবেন।

ধারা ৩৪

৩৪.১ যদি ৩৩ ধারা অনুযায়ী কোন সদস্যের আসন শূন্য বলে ঘোষণা করা হয় এবং অনুরূপ ঘোষণার ছয় মাসের মধ্যে উক্ত সদস্যের কার্যকাল সমাপ্ত না হয়, তবে জাতিসংঘের মহাসচিব বর্তমান চুক্তির প্রত্যেক রাষ্ট্রপক্ষকে উহা জ্ঞাত করবেন; তখন রাষ্ট্রপক্ষসমূহ উক্ত শূন্য আসন পূরণের জন্য দুই মাসের মধ্যে ২৯ ধারা অনুযায়ী মনোনয়ন দাখিল করবে।

৩৪.২ জাতিসংঘের মহাসচিব অনুরূপভাবে মনোনীত ব্যক্তিদের নাম বর্ণানুক্রমে তালিকাভুক্ত করবেন এবং বর্তমান চুক্তির রাষ্ট্রপক্ষসমূহের নিকট উক্ত তালিকা পেশ করবেন। অতঃপর বর্তমান চুক্তির এই প্রাসঙ্গিক বিধানাবলী অনুসারে শূন্য আসন পূরণের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

৩৪.৩ ৩৩ ধারা অনুযায়ী ঘোষিত শূন্য আসনে নির্বাচিত কোন সদস্য, এ ধারার বিধানাবলীর অধীনে যে সদস্যের আসন শূন্য ঘোষিত হয়েছে সে সদস্যের কার্যকালের অবশিষ্টাংশ অবধি কমিটির সদস্য থাকবেন।

ধারা ৩৫

কমিটির সদস্যগণ, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অনুমোদনক্রমে, জাতিসংঘের তহবিল থেকে সাধারণ পরিষদ যেরূপ স্থির করবে সেরূপ নিয়ম ও শর্তের অধীনে পারিতোষিক পাবেন।

ধারা ৩৬

কমিটি যাতে বর্তমান চুক্তির অধীনে এর কার্যাবলী কার্যকরীভাবে সম্পাদন করতে পারে সেজন্য জাতিসংঘের মহাসচিব প্রয়োজনীয় কর্মচারী ও সুবিধাদি প্রদানের ব্যবস্থা করবেন।

ধারা ৩৭

৩৭.১ জাতিসংঘের মহাসচিব জাতিসংঘের সদর দফতরে কমিটির প্রথম বৈঠক আহ্বান করবেন।

৩৭.২ প্রথম বৈঠকের পর কমিটি এর কার্যপ্রণালী বিধিতে নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে বিভিন্ন সময় বৈঠকে মিলিত হবে।

৩৭.৩ কমিটি সাধারণত জাতিসংঘের সদর দফতরে অথবা জাতিসংঘের জেনেভাস্থ কার্যালয়ে বৈঠকে বসবে।

ধারা ৩৮

কমিটির প্রত্যেক সদস্য, নিজ নিজ দায়িত্বভার গ্রহণের পূর্বে প্রকাশ্য কমিটিতে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করবেন যে, তিনি নিরপেক্ষভাবে এবং বিবেকচালিত হয়ে তাঁর কার্যাবলী সম্পাদন করবেন।

ধারা ৩৯

৩৯.১ কমিটি দুই বছরের জন্য এর কর্মকর্তাদের নির্বাচন করবে। তাঁরা পুনর্নির্বাচিত হতে পারবেন।

৩৯.২ কমিটি এর নিজস্ব কার্যপ্রণালী বিধি প্রণয়ন করবে। কিন্তু এসব বিধিতে অন্যান্যের মধ্যে ব্যবস্থা থাকবে যে—

ক) বারজন সদস্য নিয়ে কোরাম গঠিত হবে;
খ) উপস্থিত সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে কমিটির সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।

ধারা ৪০

৪০.১ রাষ্ট্রপক্ষসমূহ অঙ্গীকার করছে যে, চুক্তিতে স্বীকৃত অধিকারসমূহ কার্যকরী করার জন্য এদের গৃহীত ব্যবস্থাবলী এবং ঐ অধিকারগুলো উপভোগের ক্ষেত্রে অগ্রগতি সম্পর্কে রিপোর্ট প্রদান করবে—

ক) সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষের জন্য বর্তমান চুক্তি বলবৎ হওয়ার এক বছর পর;
খ) অতঃপর কমিটি যখনই সেরূপ অনুরোধ জানাবে।

৪০.২ সকল রিপোর্ট জাতিসংঘের মহাসচিবের নিকট দাখিল করতে হবে। তিনি সেগুলো বিচার-বিবেচনার জন্য কমিটির নিকট প্রেরণ করবেন। এসব রিপোর্টে বর্তমান চুক্তি বাস্তবায়ন ব্যাহত করছে এমন কোন কারণ ও অসুবিধা থাকলে সে সম্পর্কে উল্লেখ থাকবে।

৪০.৩ জাতিসংঘের মহাসচিব কমিটির সহিত পরামর্শের পর অনুরূপ রিপোর্টসমূহের প্রতিলিপি কর্তৃত্বের ক্ষেত্র অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত সংস্থাগুলোর নিকট প্রেরণ করতে পারেন।

৪০.৪ কমিটি বর্তমান চুক্তির রাষ্ট্রপক্ষগুলো কর্তৃক পেশকৃত রিপোর্টসমূহ অনুশীলন করবে। কমিটি এর রিপোর্ট এবং যেরূপ উপযুক্ত মনে করবে সেরূপ সাধারণ মন্তব্য রাষ্ট্রপক্ষগুলোর নিকট প্রেরণ করবে। কমিটি এর অনুরূপ মন্তব্যসমূহ এবং বর্তমান চুক্তির রাষ্ট্রপক্ষগুলোর নিকট থেকে প্রাপ্ত রিপোর্টসমূহের প্রতিলিপি অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের নিকটেও প্রেরণ করতে পারে।

৪০.৫ এ ধারার (৪) অনুচ্ছেদের অধীনে যে সমস্ত মন্তব্য করা হবে বর্তমান চুক্তির রাষ্ট্রপক্ষসমূহ সেগুলো সম্পর্কে নিজেদের মন্তব্য কমিটির নিকট পেশ করতে পারে।

ধারা ৪১

৪১.১ যদি কোন রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে যে অন্য রাষ্ট্রপক্ষ চুক্তি অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছে না, তবে শেষোক্ত রাষ্ট্রপক্ষ যেসব চিঠিপত্র প্রেরণ করবে সেগুলো গ্রহণ ও বিচার-বিবেচনা করার ক্ষমতা যে কমিটির রয়েছে তা স্বীকার করে এ ধারার অধীনে যে কোন রাষ্ট্রপক্ষ যে কোন সময় ঘোষণা দিতে পারে। যে রাষ্ট্রপক্ষ নিজের ক্ষেত্রে কমিটির অনুরূপ ক্ষমতা স্বীকার করে ঘোষণা প্রদান করেছে, কেবল সেই রাষ্ট্র কর্তৃক পেশকৃত অভিযোগ কমিটি কর্তৃক গ্রহণ বা বিবেচনা করা যেতে পারে। অনুরূপ ঘোষণা প্রদান করেনি এমন রাষ্ট্রপক্ষের সংশ্লিষ্ট কোন অভিযোগ কমিটি গ্রহণ করবে না। এ ধারার অধীনে প্রাপ্ত চিঠিপত্রসমূহ নিম্নবর্ণিত কার্যপ্রণালী অনুসারে বিবেচনা করা হবে—

ক) অন্য কোন রাষ্ট্রপক্ষ চুক্তির বিধানাবলী কার্যকরী করছে না বলে মনে হলে যে কোন রাষ্ট্রপক্ষের লিখিত পত্রের মাধ্যমে বিষয়টি ঐ রাষ্ট্রপক্ষের গোচরিভূত করতে পারে। অনুরূপ পত্র প্রাপ্তির তিন মাসের মধ্যে গ্রাহকরাষ্ট্র উক্ত বিষয়টি পরিষ্কার করে একটি লিখিত ব্যাখ্যা বা বিবৃতি অভিযোগ প্রেরণকারী রাষ্ট্রকে প্রদান করবে। এই ব্যাখ্যা বা বিবৃতির মধ্যে, যে পরিমাণ সম্ভব এবং প্রাসঙ্গিক সেই পরিমাণে উক্ত বিষয় সম্পর্কে অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রণালী এবং গৃহীত অথবা বিবেচনাধীন অথবা লভ্য সকল প্রতিকার ব্যবস্থার উল্লেখ থাকবে।
খ) গ্রাহকরাষ্ট্র কর্তৃক প্রথম পত্র প্রাপ্তির ছয় মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষদ্বয়ের সন্তোষ অনুযায়ী যদি বিষয়টি নিষ্পত্তি না হয়, তবে রাষ্ট্র দ্বয়ের যে কোন একটি, কমিটি এবং অপর রাষ্ট্রটির প্রতি নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে বিষয়টি কমিটির নিকট পেশ করতে পারবে।
গ) সাধারণভাবে স্বীকৃত আন্তর্জাতিক আইনের নীতি অনুযায়ী সকল লভ্য অভ্যন্তরীণ প্রতিকার ব্যবস্থার আশ্রয় গ্রহণ করা হয়েছে এবং সেগুলো নিঃশেষিত হয়েছে সে সম্পর্ক নিশ্চিত হওয়ার পরই কেবল কমিটি এর নিকট পেশকৃত বিষয়টি বিবেচনা করবে। যেখানে এসব প্রতিকার ব্যবস্থার প্রয়োগ অযৌক্তিকভাবে দীর্ঘায়িত করা হবে সেখানে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।
ঘ) এ ধারার অধীনে চিঠিপত্রসমূহ পরীক্ষা করার সময় কমিটি নিভৃত বৈঠকে মিলিত হবে।
ঙ) উপ-অনুচ্ছেদ (গ)-এর বিধানাবলী সাপেক্ষে, বর্তমান চুক্তিতে স্বীকৃত মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতাসমূহের প্রতি সম্মানের ভিত্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে যাতে বিষয়টির সমাধান হয় সে উদ্দেশ্যে কমিটি সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষগুলোর প্রতি এর শুভ সংযোগ প্রসার করবে।

চ) কমিটির নিকট উপস্থাপিত কোন বিষয় সম্পর্কে প্রাসঙ্গিক তথ্য সরবরাহ করার জন্য তা উপ-অনুচ্ছেদ (খ)-এ উল্লিখিত সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষগুলোকে আহ্বান জানাতে পারে।
ছ) কমিটি কর্তৃক বিষয়টি বিচার-বিবেচনা করার সময় উপ-অনুচ্ছেদ (খ)-এ উল্লিখিত সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষগুলোর কমিটিতে প্রতিনিধি প্রেরণ করার এবং মৌখিক অথবা লিখিতভাবে যুক্তি উপস্থাপন করার অধিকার থাকবে।
জ) উপ-অনুচ্ছেদ (খ)-এর অধীনে নোটিশ প্রাপ্তির পর বার মাসের মধ্যে কমিটি একটি রিপোর্ট দাখিল করবে—
অ. যদি উপ-অনুচ্ছেদ (ঙ)-এর শর্ত মোতাবেক কোন সমাধান হয়ে থাকে তবে কমিটি এর রিপোর্ট ঘটনাবলী এবং উপনীত সমাধানের সংক্ষিপ্ত বর্ণনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবে;
আ. যদি উপ-অনুচ্ছেদ (ঙ)-এর শর্ত অনুসারে কোন সমাধান উপনীত হওয়া না যায় তবে কমিটি এর রিপোর্ট কেবল ঘটনাবলীর সংক্ষিপ্ত বর্ণনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবে; এবং সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষগুলো কর্তৃক উপস্থাপিত লিখিত এবং মৌখিক যুক্তিগুলোর লিপি রিপোর্টের সাথে সংযুক্ত থাকবে।
ই. প্রতিটি ক্ষেত্রে রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর নিকট প্রেরণ করতে হবে।

৪১.২ চুক্তির দশটি রাষ্ট্রপক্ষ যখন এ ধারার (ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ঘোষণা প্রদান করবে তখন এ ধারার বিধানাবলী বলবৎ হবে। রাষ্ট্রপক্ষগুলো অনুরূপ ঘোষণা জাতিসংঘের মহাসচিবের নিকট জমা দিবে। মহাসচিব সেগুলোর প্রতিলিপি অন্যান্য রাষ্ট্রপক্ষের নিকট প্রেরণ করবেন। মহাসচিবের নিকট প্রদত্ত নোটিশের মাধ্যমে যে কোন সময় কোন ঘোষণা প্রত্যাহার করা যেতে পারে। তবে অনুরূপ প্রত্যাহারের কারণে এ ধারার অধীনে ইতিপূর্বে প্রেরিত চিঠিপত্রের অন্তর্ভুক্ত কোন বিষয়ের বিচার-বিবেচনা ব্যাহত হবে না। মহাসচিব কর্তৃক কোন রাষ্ট্রপক্ষের নিকট থেকে ঘোষণা প্রত্যাহারের নোটিশ প্রাপ্তির পর সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষের নিকট থেকে আর কোন চিঠিপত্র গ্রহণ করা হবে না, যদি না ঐ রাষ্ট্রপক্ষ নতুনভাবে ঘোষণা প্রদান করে।

ধারা ৪২

৪২.১

ক) ৪১ ধারা অনুযায়ী কমিটির নিকট উপস্থাপিত কোন বিষয় যদি রাষ্ট্রপক্ষগুলোর সন্তোষ অনুযায়ী নিষ্পত্তি না হয়, তবে কমিটি সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষগুলোর পূর্ব সম্মতিক্রমে একটি অস্থায়ী আপোষ কমিশন (যা অতঃপর কেবল কমিশন বলে উল্লিখিত) নিয়োগ করতে পারে। বর্তমান চুক্তির প্রতি সম্মানের ভিত্তিতে যাতে বিষয়টির বন্ধুত্বপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি হয় সে উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষগুলোর নিকট কমিশনের শুভ সংযোগ লভ্য করতে হবে।

খ) সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষগুলোর নিকট গ্রহণযোগ্য পাঁচ ব্যক্তির সমন্বয়ে কমিশন গঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষগুলো যদি তিন মাসের মধ্যে পূর্ণ কমিশন কিংবা এর আংশিক গঠন সম্পর্কে একমত হতে না পারে, তবে কমিশনের যে কয়জন সদস্য সম্পর্কে মতৈক্য হচ্ছে না তাঁরা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে কমিটি কর্তৃক এর সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন।

৪২.২ কমিশনের সদস্যগণ ব্যক্তিগত মর্যাদার কাজ করবেন। তাঁরা সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষগুলোর অথবা যে রাষ্ট্র বর্তমান চুক্তির পক্ষ নয় সে রাষ্ট্রের, কিংবা যে রাষ্ট্রপক্ষ ৪১ ধারার অধীনে ঘোষণা প্রদান করেনি সে রাষ্ট্রের নাগরিক হবেন না।

৪২.৩ কমিশন এর সভাপতি নির্বাচন এবং নিজস্ব কার্যপ্রণালী বিধি প্রণয়ন করবেন।

৪২.৪ কমিশনের বৈঠক সাধারণত জাতিসংঘের সদর দফতরে অথবা জাতিসংঘের জেনেভাস্থ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। অবশ্য জাতিসংঘের মহাসচিব এবং সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষগুলোর সাথে পরামর্শক্রমে কমিশন যেরূপ নির্ধারণ করবেন সেরূপ সুবিধাজনক অন্য কোন স্থানে বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।

৪২.৫ ৩৬ ধারা-এর অধীনে যেরূপ ব্যবস্থা করা হয়েছে সেরূপ জাতিসংঘের সচিবালয় এ ধারার অধীনে নিযুক্ত কমিশনসমূহেরও সেবা করবে।

৪২.৬ কমিটি কর্তৃক প্রাপ্ত এবং পরীক্ষার উদ্দেশ্যে সংগৃহীত তথ্যাদি কমিশনকে দিতে হবে। কমিশন সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষগুলোকেও প্রাসঙ্গিক অন্যান্য তথ্য সরবরাহ করার জন্য আহ্বান জানাতে পারে।

৪২.৭ কমিশন বিষয়টি পূর্ণরূপে বিবেচনা করার পর, কিন্তু কোনক্রমেই বিষয়টি হাতে নেয়ার বার মাস পরে নয়, সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষগুলোর নিকট প্রেরণ করার জন্য কমিটির সভাপতির কাছে একটি রিপোর্ট পেশ করবে।

ক) যদি কমিশন বার মাসের মধ্যে বিষয়টি বিচার-বিবেচনা সমাপ্ত করতে অসমর্থ হয় তবে এর রিপোর্টে শুধু বিষয়টির বিচার-বিবেচনার পর্যায় সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা থাকবে।
খ) বর্তমান চুক্তিতে স্বীকৃত মানবাধিকারসমূহের প্রতি সম্মানের ভিত্তিতে যদি বিষয়টি সম্পর্কে বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধানে উপনীত হওয়া যায়, তবে কমিশন সে সম্পর্কিত ঘটনাবলী ও উপনীত সমাধান সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনার মধ্যে এর রিপোর্ট সীমাবদ্ধ রাখবে।
গ) উপ-অনুচ্ছেদ (খ)-এর শর্ত অনুসারে যদি কোন সমাধানে উপনীত হওয়া না যায়, তবে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষগুলোর মধ্যকার বিবাদ সম্বন্ধে সকল প্রাসঙ্গিক ঘটনাবলী এর প্রাপ্ত তথ্যাদি এবং বিষয়টির বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনা সম্পর্কে কমিশনের রিপোর্টে অভিমত থাকবে।
ঘ) যদি উপ-অনুচ্ছেদ (গ)-এর অধীনে কমিশন এর রিপোর্ট দাখিল করে, তবে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষগুলোর রিপোর্ট প্রাপ্তির তিন মাসের মধ্যে এর অন্তর্ভুক্ত বক্তব্য স্বীকার করে কি না তা কমিটির সভাপতিকে জানাবে।

৪২.৮ এ ধারার বিধানাবলী ৪১ ধারার অধীনে কযিটির দায়িত্বসমূহ ক্ষুণ্ণ করবে না।

৪২.৯ সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষগুলো জাতিসংঘের মহাসচিব কর্তৃক প্রণীতব্য হিসাব অনুযায়ী কমিশনের সদস্যবর্গ বাবদ সকল ব্যয় সমানভাবে বহন করবে।

৪২.১০ সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষগুলো কর্তৃক এ ধারার (৯) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করার পূর্বে, যদি প্রয়োজন হয়, কমিশনের সদস্যদের ব্যয়নির্বাহ করার ক্ষমতা জাতিসংঘের মহাসচিবের থাকবে।

ধারা ৪৩

কমিটির সদস্যগণ এবং ৪২ ধারার অধীনে কোন অস্থায়ী আপোষ কমিশন নিযুক্ত হলে এর প্রাসঙ্গিক ধারাসমূহ জাতিসংঘের বিশেষ অধিকার ও অব্যাহতি সংক্রান্ত কনভেনশনের প্রাসঙ্গিক ধারাসমূহ জাতিসংঘের কোন কমিশনের বিশেষজ্ঞদের জন্য যেসব বিশেষ অধিকার ও অব্যাহতি বিধিবদ্ধ রয়েছে সেসব অধিকার ও অব্যাহতি লাভের অধিকারী।

ধারা ৪৪

জাতিসংঘের এবং বিশেষায়িত সংস্থাসমূহের সাংবিধানিক দলিল ও কনভেনশনসমূহ কর্তৃক বা এদের অধীনে নির্ধারিত মানবাধিকার সংক্রান্ত কার্যপ্রণালীকে কোনরূপ ক্ষুণ্ণ না করে বর্তমান চুক্তি বাস্তবায়ন সম্পর্কিত বিধানাবলী প্রয়োগ করতে হবে এবং এ বিধানাবলী বর্তমান চুক্তির রাষ্ট্রপক্ষগুলোকে, কোন বিরোধ মীমাংসার জন্য, এদের মধ্যে বলবৎ কোন সাধারণ বা বিশেষ আন্তর্জাতিক ঐকমত্য অনুসারে অন্য কোন কার্যপ্রণালীর আশ্রয় গ্রহণ করা হতে বিরত করবে না।

ধারা ৪৫

কমিটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের মাধ্যমে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের নিকট এর কার্যকলাপ সম্পর্কে একটি বাৎসরিক রিপোর্ট পেশ করবে।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ

ধারা ৪৬

চুক্তির কোন কিছুরই এমন ব্যাখ্যা প্রদান করা যাবে না যা চুক্তিভুক্ত বিষয়সমূহ সম্পর্কে জাতিসংঘ সনদের এবং কোন বিশেষায়িত সংস্থার সংবিধানের ঐসব বিধানকে কোনরূপে ক্ষুণ্ণ করতে পারে, যেসব বিধানে যথাক্রমে জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গ এবং বিশেষায়িত সংস্থাগুলোর নিজ নিজ দায়িত্ব নির্ধারিত রয়েছে।

ধারা ৪৭

চুক্তির কোন কিছুরই এমন ব্যাখ্যা প্রদান করা যাবে না যা সকল জনগোষ্ঠীর নিজ নিজ প্রাকৃতিক সম্পদ ও সংস্থানের উপভোগ এবং সেগুলো পূর্ণমাত্রায় ও অবাধে ব্যবহার করার অধিকার ক্ষুণ্ণ করতে পারে।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

ধারা ৪৮

৪৮.১ এ চুক্তি জাতিসংঘের অথবা এর বিশেষায়িত সংস্থাগুলোর যে কোন সদস্য, আন্তর্জাতিক আদালতের সংবিধির যে কোন রাষ্ট্রপক্ষ এবং বর্তমান চুক্তির পক্ষ হওয়ার জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক আমন্ত্রিত অন্য যে কোন রাষ্ট্রের স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

৪৮.২ চুক্তিটি অনুসমর্থনসাপেক্ষ। অনুসমর্থনপত্রসমূহ জাতিসংঘের মহাসচিবের নিকট জমা দিতে হবে।

৪৮.৩ এ ধারার (১) অনুচ্ছেদে উল্লিখিত যে কোন রাষ্ট্রের যোগদানের জন্য বর্তমান চুক্তি উন্মুক্ত থাকবে।

৪৮.৪ জাতিসংঘের মহাসচিবের নিকট যোগদানপত্র জমাদানের মাধ্যমে এ চুক্তিতে যোগদান কার্যকরা হবে।

৪৮.৫ জাতিসংঘের মহাসচিব এ চুক্তিতে স্বাক্ষরদানকারী এবং যোগদানকারী সকল রাষ্ট্রকে প্রত্যেকটি অনুসমর্থনপত্র কিংবা যোগদানপত্র জমাদান সম্পর্কে অবগত করবেন।

ধারা ৪৯

৪৯.১ জাতিসংঘের মহাসচিবের নিকট পঁয়ত্রিশতম অনুসমর্থনপত্র কিংবা যোগদানপত্র জমাদানের তারিখের তিন মাস পর থেকে বর্তমান চুক্তি বলবৎ হবে।

৪৯.২ পঁয়ত্রিশতম অনুসমর্থনপত্র কিংবা যোগদানপত্র জমাদানের পর যেসব রাষ্ট্র বর্তমান চুক্তি অনুসমর্থন করবে কিংবা এতে যোগদান করবে সেসব রাষ্ট্রের প্রত্যেকের ক্ষেত্রে নিজ নিজ অনুসমর্থনপত্র কিংবা যোগদানপত্র জমাদানের তারিখের তিন মাস পর থেকে চুক্তিটি কার্যকর হবে।

ধারা ৫০

বর্তমান চুক্তির বিধানসমূহ কোনরূপ সীমাবদ্ধতা বা ব্যতিক্রম ব্যতিরেকে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সকল অংশে প্রযোজ্য হবে।

ধারা ৫১

৫১.১ যে কোন রাষ্ট্রপক্ষ বর্তমান চুক্তি সংশোধনের জন্য প্রস্তাব দিতে পারে এবং সে সংশোধনী প্রস্তাব জাতিসংঘের মহাসচিবের নিকট পেশ করতে পারে। মহাসচিব অনুরূপ যে কোন সংশোধনী প্রস্তাব বর্তমান চুক্তির রাষ্ট্রপক্ষসমূহের নিকট প্রেরণ করবেন, এবং সেই সঙ্গে তারা উক্ত প্রস্তাব বিবেচনা ও সেই সম্পর্কে ভোট গ্রহণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপক্ষসমূহের একটি সম্মেলন অনুষ্ঠানের পক্ষপাতী কি না তা তাঁকে জ্ঞাত করার জন্য রাষ্ট্রপক্ষগুলোকে অনুরোধ জানাবেন। যদি রাষ্ট্রপক্ষসমূহের অন্যূন এক-তৃতীয়াংশ সম্মেলনের অনুকূলে মত প্রকাশ করে, তবে মহাসচিব জাতিসংঘের কর্তৃত্বাধীনে একটি সম্মেলন আহ্বান করবেন। সম্মেলনে উপস্থিত ও ভোটদানকারী রাষ্ট্রপক্ষসমূহের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সংশোধনী প্রস্তাব গৃহীত হলে তা অনুমোদনের জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে পেশ করতে হবে।

৫১.২ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত হলে এবং বর্তমান চুক্তির রাষ্ট্রপক্ষসমূহের দুই-তৃতীয়াংশ কর্তৃক নিজ নিজ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী গৃহীত হলে সংশোধনীটি বলবৎ হবে।

৫১.৩ যখন সংশোধনীটি বলবৎ হবে তখন তা যেসব রাষ্ট্রপক্ষ কর্তৃক গৃহীত হয়েছে সেসব রাষ্ট্রের জন্য বাধ্যতামূলক হবে; অন্যান্য রাষ্ট্রপক্ষ তখনও বর্তমান চুক্তির বিধানাবলী এবং এরা পূর্ববর্তী কোন সংশোধনী গ্রহণ করে থাকলে তার প্রতি বাধ্য থাকবে।

ধারা ৫২

৪৮ ধারার (৫) অনুচ্ছেদ অনুসারে অবগত করা হোক বা না হোক, জাতিসংঘের মহাসচিব ঐ ধারার (১) অনুচ্ছেদে উল্লিখিত সকল রাষ্ট্রকে নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে অবহিত করবেন—

ক) ৪৮ ধারার অধীনে স্বাক্ষরদান, অনুসমর্থন এবং যোগদান;
খ) ৪৯ ধারার অধীনে বর্তমান চুক্তি বলবৎ হওয়ার তারিখ এবং ৫১ ধারা অনুযায়ী কোন সংশোধনী বলবৎ হওয়ার তারিখ।

ধারা ৫৩

৫৩.১ বর্তমান চুক্তির চীনা, ইংরেজি, ফরাসি, রুশ, এবং স্পেনীয় ভাষায় পাঠ সমভাবে প্রমাণসিদ্ধ এবং উহা জাতিসংঘের সেরেস্তায় গচ্ছিত রাখতে হবে।

৫৩.২ জাতিসংঘের মহাসচিব ৪৮ ধারায় উল্লিখিত সকল রাষ্ট্রের নিকট বর্তমান চুক্তির সত্যায়িত প্রতিলিপি প্রেরণ করবেন।

এই লেখাটি জাতিসংঘের প্রাতিষ্ঠানিক নথি থকে গ্রহণ করা হয়েছে। জাতিসংঘ প্রকাশনার সম্ভাব্য চিন্তাভাবনা যতদূর সম্ভব ছড়িয়ে দেওয়ার উদেশ্যে এই সংস্থা তাদের বেশির ভাগ নথি পাবলিক ডোমেইনে সকলের জন্য মুক্ত রেখেছে।

জাতিসংঘের প্রশাসনিক দিগ্‌নির্দেশনা (ইংরেজি) অনুসারে, নিম্নলিখিত নথিগুলি সারা বিশ্বব্যাপী পাবলিক ডোমেইনে মুক্ত:

  1. প্রাতিষ্ঠানিক রেকর্ড (সম্মেলনের কার্যবিবরণী, আক্ষরিক ও সারসংক্ষেপ, ...)
  2. জতিসংঘের চিহ্নযুক্ত জাতিসংঘের নথি
  3. জাতিসংঘের কার্যাবলী সম্বন্ধে জনগণকে অবহিত করার প্রাথমিক উদ্দেশ্যে তৈরি তথ্য উপাদান (বিক্রয়ের জন্য প্রযোজ্য তথ্য উপাদান নয়)