নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ কনভেনশন (২০০৬)
নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ কনভেনশন
Bengali version of
Convention on the Elimination of all forms of Discrimination against Women
DPI / 993 / Rev.1
Published by:
United Nations Information Centre
Dhaka, Bangladesh
Reprint: November 2006
UNIC/pub/2006/02/1000
নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ কনভেনশন
প্রকাশক:
জাতিসংঘ তথ্য কেন্দ্র
ঢাকা, বাংলাদেশ
পুনর্মুদ্রণ: নভেম্বর ২০০৬
ইউনিক/প্রকাশ/২০০৬/০২/১০০০
প্রথম প্রকাশ: ইউনিসেফ
ভূমিকা
সকল ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতা অর্জনের লক্ষ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক ১৯৭৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ কনভেনশন গৃহীত হয়। প্রয়োজনীয় সংখ্যক রাষ্ট্রপক্ষের অনুমোদনের মধ্য দিয়ে ১৯৮১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কনভেনশনটি কার্যকারিতা লাভ করে। বর্তমানে এই কনভেনশন অনুমোদনকারী রাষ্ট্রপক্ষের সংখ্যা ১৬১।
বাংলাদেশ সরকার ধারা ২, ১৩(ক), ১৬(গ) ও ১৬(চ)-এর ওপর সংরক্ষণ রেখে ১৯৮৪ সালে এই কনভেনশনটি অনুমোদন করে। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালের ২০ জুলাই ধারা ১৩(ক) ও ১৬(চ)-এর ওপর থেকে সংরক্ষণ প্রত্যাহার করে নেয়।
নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ কনভেনশন সবচেয়ে ব্যাপক ও আইনগতভাবে অবশ্য পালনীয় নারীর মানবাধিকার। নারীর আন্তর্জাতিক বিল অব রাইটস হিসেবে অভিহিত এই কনভেনশন বৈষম্যের অবসানে জাতীয় পর্যায়ে ব্যবস্থা গ্রহণের একটি এজেণ্ডা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।
কনভেনশনের শর্তানুযায়ী রাষ্ট্রপক্ষসমূহের প্রতি নারীর মৌলিক মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা; নারী পাচার ও পতিতাবৃত্তিতে নারীর শোষণ রোধ নিশ্চিত করা; রাজনৈতিক ও লোকজীবনে নারীর প্রতি বৈষম্যের অবসান; জাতীয়তা অর্জন, পরিবর্তন বা বহাল রাখার সমান অধিকার নিশ্চিত করা; শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক ও সমাজ জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে বৈষম্যের অবসান ঘটানোর জন্যে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যান্য ধারায় গ্রামীণ নারীর সমস্যা, আইনের দৃষ্টিতে সমতা এবং বিবাহ ও পারিবারিক জীবনে নারীর প্রতি বৈষম্যের অবসান সংক্রান্ত বিষয়গুলো রয়েছে। কনভেনশনে নারীর নিজ নিজ দেশে রাজনৈতিক ও লোকজীবনে অংশগ্রহণ এবং সরকারের সকল পর্যায়ে সকল কাজ করার অধিকারও নিশ্চিত করা হয়েছে।
কনভেনশনের ধারা ১-এ নারীর প্রতি বৈষম্যের সংজ্ঞায় যা বলা হয়েছে তা হলো: 'বৈবাহিক মর্যাদা নির্বিশেষে নারী ও পুরুষের সমতার ভিত্তিতে মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, নাগরিক বা অপর যে কোন মৌলিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে নারীর স্বীকৃতি, ভোগ বা প্রয়োগকে ব্যাহত বা অকার্যকর করা।'
রাষ্ট্রপক্ষসমূহ কনভেনশনের শর্তাবলী মেনে চলে কিনা তা পরিবীক্ষণের জন্য ২৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি রয়েছে, যাকে ইংরেজিতে বলা হয় Committee on the Elimination of all forms of discrimination against Women বা CEDAW। এই কমিটি বছরে দু’বার অধিবেশনে মিলিত হয়।
মানবাধিকার ঘোষণার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই কনভেনশনের পুনর্মুদ্রণ প্রকাশিত হলো। নরীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণে এই অনূদিত পুস্তিকাটি সহায়ক হলে আমাদের সবার শ্রম সার্থকতা লাভ করবে।
পরিচ্ছেদ-১
ধারা ১
এই কনভেনশনে, ‘নারীর প্রতি বৈষম্য’ বলতে বোঝাবে পুরুষ-নারী ভিত্তিতে যে কোন পার্থক্য, বঞ্চনা অথবা বিধিনিষেধ যার মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, নাগরিক অথবা অন্য যে কোন ক্ষেত্রে মৌলিক স্বাধীনতা স্বীকার করে নেয়া, তা ভোগ করা, অথবা বৈবাহিক অবস্থা নির্বিশেষে পুরুষ ও নারীর সমতার ভিত্তিতে নারীর দ্বারা তার ব্যবহার বা চর্চা, ক্ষতিগ্রস্ত অথবা দরকার মত প্রভাব বা উদ্দেশ্য রয়েছে।
ধারা ২
এই কনভেনশনে রাষ্ট্রপক্ষসমূহ নারীর প্রতি সকল প্রকারের বৈষম্যের নিন্দা করে এবং উপযুক্ত সকল উপায় ও অবিলম্বে নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণের একটি নীতি অনুসরণে সম্মত হয়। এই লক্ষ্যে তারা যা যা করবে বলে অঙ্গীকার করে তা হচ্ছে—
- ক) পুরুষ ও নারীর সমতার নীতি তাদের জাতীয় সংবিধান অথবা অন্য কোন উপযুক্ত আইনে ইতোমধ্যেই অন্তর্ভুক্ত না হয়ে থাকলে তা অন্তর্ভুক্ত করা এবং আইনের মাধ্যমে ও অন্যান্য উপযুক্ত উপায়ে এই নীতির প্রকৃত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা;
- খ) নারীর প্রতি সকল ধরনের বৈষম্য নিষিদ্ধ করে উপযুক্ত ক্ষেত্রে আইন মানতে বাধ্য করার ব্যবস্থাসহ যথোপযুক্ত আইনগত ও অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা;
- গ) পুরুষের সঙ্গে সমতার ভিত্তিতে নারীর অধিকারসমূহের সুরক্ষা আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠা করা এবং উপযুক্ত জাতীয় আদালতে ও অন্যান্য সরকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যে কোন বৈষম্য থেকে নারীকে রক্ষা কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা;
- ঘ) নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক যে কোন কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত হওয়া থেকে বিরত থাকা এবং সরকারী কর্তৃপক্ষ ও প্রতিষ্ঠানসমূহ যাতে এই দায়িত্ব অনুসারে কাজ করে তা নিশ্চিত করা;
- ঙ) কোন ব্যক্তি, সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান যাতে নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করতে না পারে তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে সকল উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা;
- চ) প্রচলিত যেসব আইন, বিধি, প্রথা ও অভ্যাস নারীর প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি করে সেগুলো পরিবর্তন অথবা বাতিল করার উদ্দেশ্যে আইন প্রণয়নসহ সকল উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা;
- ছ) যে সব জাতীয় দণ্ড বিধান নারীর প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি করে সেগুলো বাতিল করা।
ধারা ৩
পুরুষের সঙ্গে সমতার ভিত্তিতে মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকারসমূহ প্রয়োগ ও ভোগে নারীকে নিশ্চয়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে এবং নারীর পূর্ণ উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, রাষ্ট্রপক্ষসমূহ সকল ক্ষেত্রে বিশেষ করে রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে আইন প্রণয়নসহ সকল উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ধারা ৪
ধারা ৫
রাষ্ট্রপক্ষসমূহ নিচে যেসব বিষয় বর্ণনা করা হয়েছে সেগুলোর জন্য সকল উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে:
- ক) পুরুষ ও নারীর মধ্যে কেউ উৎকৃষ্ট অথবা কেউ নিকৃষ্ট এই ধারণার ভিত্তিতে কিংবা পুরুষ ও নারীর চিরাচরিত ভূমিকার ভিত্তিতে যে সব কুসংস্কার, প্রথা ও অভ্যাস গড়ে উঠেছে সেগুলো দূর করার লক্ষ্যে পুরুষ ও নারীর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আচরণের ধরন পরিবর্তন করা;
- খ) মাতৃত্বকে একটি সামাজিক কাজ হিসেবে যথাযথভাবে বিবেচনা এবং সকল ক্ষেত্রে শিশুদের স্বার্থই মূল বিবেচ্য বিষয়—এ কথা স্মরণ রেখে সন্তান-সন্ততির লালন-পালন ও উন্নয়ন এবং পুরুষ ও নারীর অভিন্ন দায়িত্বের স্বীকৃতির বিষয় যাতে পারিবারিক শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তা নিশ্চিত করা।
ধারা ৬
রাষ্ট্রপক্ষসমূহ নারীকে নিয়ে সব ধরনের অবৈধ ব্যবসা এবং দেহব্যবসার আকারে নারীর শোষণ দমন করার লক্ষ্যে আইন প্রণয়নসহ সকল উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
পরিচ্ছেদ-২
ধারা ৭
রাষ্ট্রপক্ষসমূহ দেশের রাজনৈতিক ও জনজীবনে নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণে সকল উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং বিশেষ করে পুরুষের সঙ্গে সমান শর্তে যে সব ক্ষেত্রে নারীর অধিকার নিশ্চিত করবে সেগুলো হচ্ছে—
- ক) সকল নির্বাচন ও গণভোটে ভোটদান এবং জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সংস্থাসমূহের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উপযুক্ত বিবেচিত হওয়া;
- খ) সরকারী নীতি প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নে অংশগ্রহণ এবং সরকারী পদে অধিষ্ঠিত হওয়া ও সরকারের সকল পর্যায়ে সরকারী কাজকর্ম সম্পাদন;
- গ) দেশের জনজীবন ও রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেসরকারী সংস্থা ও সমিতিসমূহের কাজে অংশগ্রহণ।
ধারা ৮
রাষ্ট্রপক্ষসমূহ পুরুষের সঙ্গে সমান শর্তে এবং কোন রকম বৈষম্য ছাড়াই নারীর জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজ নিজ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের কাজকর্মে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সকল উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ধারা ৯
পরিচ্ছেদ-৩
ধারা ১০
শিক্ষা ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে, বিশেষ করে পুরুষ ও নারীর সমতার ভিত্তিতে যেসব বিষয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রপক্ষসমূহ নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণের জন্য সকল উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, সেগুলো হচ্ছে—
- ক) কর্মজীবন ও বৃত্তিমূলক নির্দেশনা, পল্লী ও শহরাঞ্চলে সকল ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাগ্রহণ ও ডিপ্লোমা লাভের সুযোগের জন্য একই শর্তাবলী; স্কুল-পূর্ব, সাধারণ, কারিগরি, পেশাগত ও উচ্চতর কারিগরি শিক্ষা, সেই সাথে সকল ধরনের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে এই সমতা নিশ্চিত করা।
- খ) সহশিক্ষা এবং পুরুষ ও নারীর ভূমিকা সম্পর্কিত চিরাচরিত ধারণা দূরীকরণের লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক অন্য ধরনের শিক্ষা উৎসাহিত করার মাধ্যমে, বিশেষ করে পাঠ্যপুস্তক ও বিদ্যালয় কর্মসূচী সংশোধন এবং উপযুক্ত শিক্ষাপদ্ধতি গ্রহণের মাধ্যমে সকল পর্যায়ে এবং সকল ধরনের শিক্ষায় পুরুষ ও নারীর ভূমিকা সম্পর্কিত চিরাচরিত যে কোন ধারণা দূরীকরণ;
- গ) বৃত্তি এবং অন্যান্য শিক্ষা মঞ্জুরি লাভবান হওয়ার একই সুযোগ প্রদান;
- ঘ) বয়স্ক ও কর্মমূলক শিক্ষা কর্মসূচীসহ শিক্ষা অব্যাহত রাখার কর্মসূচী, বিশেষ করে পুরুষ ও নারীর মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে বিরাজমান যে কোন দূরত্ব স্বল্পতম সম্ভব সময়ের মধ্যে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রণীত কর্মসূচীসমূহে সুযোগ লাভের একই সুবিধা প্রদান;
- ঙ) ছাত্রীদের বিদ্যালয় ত্যাগের হার কমানো এবং যেসব বালিকা ও মহিলা নির্দিষ্ট সময়ের আগেই বিদ্যালয় ত্যাগ করেছেন তাদের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচীর আয়োজন;
- চ) খেলাধুলা ও শারীরিক শিক্ষায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য একই সুযোগ প্রদান;
- ছ) পরিবারের স্বাস্থ্য ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কিত তথ্য ও পরামর্শসহ নির্দিষ্ট শিক্ষামূলক তথ্য পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি।
ধারা ১১
- ক) সকল মানুষের মৌলিক কর্মসংস্থানের অধিকার;
- খ) কর্মে নিয়োগের ক্ষেত্রে একই বাছাই মান প্রয়োগসহ একই নিয়োগ সুবিধা পাওয়ার অধিকার;
- গ) পেশা ও চাকরি স্বাধীনভাবে বেছে নেয়ার অধিকার; পদোন্নতি, চাকরির নিরাপত্তা এবং চাকরির সকল সুবিধা ও শর্ত ভোগ করার অধিকার এবং শিক্ষানবিস হিসেবে প্রশিক্ষণ, উচ্চতর বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ পুনঃপ্রশিক্ষণ গ্রহণের অধিকার;
- ঘ) বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাসহ সমান পারিশ্রমিক, একই মানের কাজের ক্ষেত্রে একই আচরণ, সেই সাথে কাজের মান মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সমান আচরণ পাওয়ার অধিকার;
- ঙ) বিশেষ করে অবসরগ্রহণ, বেকারত্ব, অসুস্থতা, অক্ষমতা ও বার্ধক্য এবং কাজ করার অন্যান্য অক্ষমতার ক্ষেত্রে সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার এবং সেই সাথে সবেতন ছুটি ভোগের অধিকার;
- চ) সন্তান জন্মদান প্রক্রিয়া নিরাপদ রাখাসহ স্বাস্থ্য রক্ষা এবং কাজের পরিবেশে নিরাপত্তার অধিকার।
- ক) গর্ভধারণ অথবা মাতৃত্ব সংক্রান্ত ছুটির কারণে বরখাস্ত এবং বৈবাহিক অবস্থার ভিত্তিতে বরখাস্ত করার ক্ষেত্রে বৈষম্য নিষিদ্ধ করা;
- খ) বেতনসহ ছুটি অথবা পূর্বেকার চাকরি জ্যেষ্ঠতা অথবা সামাজিক ভাতাদি না হারিয়ে তুলনাযোগ্য সামাজিক সুবিধাসহ মাতৃত্ব সংক্রান্ত ছুটি প্রবর্তন করা;
- গ) বিশেষ করে একটি শিশু পরিচর্যা সুবিধা নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নের মাধ্যমে পিতা-মাতাদেরকে তাদের কাজের দায়িত্বের সঙ্গে পারিবারিক দায়িত্ব সংযুক্ত করে নাগরিক জীবনে অংশগ্রহণে সক্ষম করে তোলার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সহায়ক সামাজিক সার্ভিসের ব্যবস্থা উৎসাহিত করা;
- ঘ) গর্ভাবস্থায় যে ধরনের কাজ নারীর জন্য ক্ষতিকর বলে প্রমাণিত, গর্ভকালে তাদেরকে সে ধরনের কাজ থেকে বিশেষভাবে রক্ষার ব্যবস্থা করা;
ধারা ১২
ধারা ১৩
রাষ্ট্রপক্ষসমূহ পুরুষ ও নারীর সমতার ভিত্তিতে একই অধিকার, বিশেষ করে নিম্নলিখিত অধিকারসমূহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনের অপরাপর ক্ষেত্রে নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করার জন্য সকল উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে;
- ক) পারিবারিক কল্যাণের অধিকার;
- খ) ব্যাংক ঋণ, বন্ধক ও অন্যান্য আর্থিক ঋণ গ্রহণের অধিকার;
- গ) বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ড, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক জীবনের সকল বিষয়ে অংশগ্রহণের অধিকার।
ধারা ১৪
- ক) সকল পর্যায়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্প্রসারণ ও বাস্তবায়নে অংশগ্রহণ করা;
- খ) পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে তথ্য, পরামর্শ ও সেবা লাভসহ পর্যাপ্ত স্বাস্থসেবা সুবিধা লাভের সুযোগ পাওয়া;
- গ) সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী থেকে সরাসরি লাভবান হওয়া;
- ঘ) উপযোগী শিক্ষা সম্পর্কিত প্রশিক্ষণসহ আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক সকল ধরনের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা এবং সেই সাথে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে, তাদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সকল সামাজিক ও সম্প্রসারণ সার্ভিসের সুবিধা লাভ করা;
- ঙ) কর্মসংস্থান অথবা স্বকৰ্ম সংস্থানের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সুবিধাদি লাভের সমান সুযোগ পাওয়ার উদ্দেশ্যে স্বসাহায্য গ্রুপ ও সমবায় সংগঠিত করা;
- চ) সকল সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা;
- ছ) কৃষি ঋণ ও অন্যান্য ঋণ, বাজারজাতকরণ সুবিধা ও উপযুক্ত প্রযুক্তি লাভের সুযোগ পাওয়া এবং ভূমি ও কৃষি সংস্কার ও সেই সাথে ভূমি পুনর্বণ্টন স্কিমের ক্ষেত্রে সমান অধিকার লাভ করা;
- জ) বিশেষ করে গৃহায়ণ, পয়ঃনিষ্কাশন, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ, পরিবহন ও যোগাযোগ ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সুবিধা ভোগ করা।
পরিচ্ছেদ-৪
ধারা ১৫
ধারা ১৬
- ক) বিবাহে আবদ্ধ হওয়ার জন্য একই অধিকার;
- খ) স্বাধীনভাবে স্বামী/স্ত্রী হিসেবে সঙ্গী বেছে নেয়ার এবং তাঁদের স্বাধীন ও পূর্ণ সম্মতিতে বিবাহে আবদ্ধ হওয়ার জন্য একই অধিকার;
- গ) বিবাহ এবং এর বিচ্ছেদকালে একই অধিকার ও দায়িত্ব;
- ঘ) তাঁদের বৈবাহিক অবস্থা নির্বিশেষে, তাঁদের সন্তান-সন্ততির বিষয়ে, পিতা-মাতা হিসেবে একই অধিকার ও দায়িত্ব; সকল ক্ষেত্রে শিশুদের স্বার্থই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়;
- ঙ) তাঁদের সন্তান সংখ্যা কত হবে ও সন্তান জন্মদানে কতটা বিরতি দেয়া হবে সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে ও দায়িত্বের সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিভিন্ন অধিকার প্রয়োগে সক্ষমতা অর্জনের জন্য তথ্য, শিক্ষা ও উপায় লাভের একই অধিকার;
- চ) অভিভাবকত্ব, প্রতিপালকত্ব, ট্রাস্টিশিপ ও পোষ্যসন্তান গ্রহণ অথবা অনুরূপ ক্ষেত্রে, যেখানে জাতীয় আইনে এসব ধারণা বিরাজমান, একই অধিকার ও দায়িত্ব; সকল ক্ষেত্রে শিশুদের স্বার্থই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ;
- ছ) পারিবারিক নাম, পেশা অথবা বৃত্তি পছন্দের অধিকারসহ স্বামী অথবা স্ত্রী হিসেবে সমান অধিকার;
- জ) বিনামূল্যে অথবা মূল্যের বিনিময়ে সম্পত্তির মালিকানা, তা অর্জন, ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা, ভোগ ও নিষ্পত্তির ব্যাপারে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের একই অধিকার।
পরিচ্ছেদ-৫
ধারা ১৭
ধারা ১৮
- ক) কনভেনশনে সংশ্লিষ্ট অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর এক বছরের মধ্যে; এবং
- খ) তারপর প্রতি চার বছর অন্তর এবং কমিটি যখনই অনুরোধ করবে, সেই সময়।
ধারা ১৯
ধারা ২০
ধারা ২১
ধারা ২২
এই কনভেনশনের যেসব বিধান বিশেষজ্ঞ সংস্থাসমূহের কর্মপরিধির আওতায় পড়ে, সেগুলোর বাস্তবায়ন বিবেচনার ক্ষেত্রে তার প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে। যেসব ক্ষেত্রে কনভেনশনের বাস্তবায়ন বিশেষজ্ঞ সংস্থাসমূহের কর্মপরিধির আওতায় পড়ে, সেগুলো সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ সংস্থাসমূহকে রিপোর্ট করার জন্য কমিটি আহ্বান জানাতে পারবে।
পরিচ্ছেদ-৬
ধারা ২৩
এই কনভেনশনের কোন কিছুই পুরুষ ও নারীর মধ্যে সমতা অর্জনের লক্ষ্যে অধিক উপযোগ্য এমন কোন বিধানের জন্য অন্তরায় সৃষ্টি করবে না, যে বিধান অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে:
- ক) শরিক একটি দেশের আইনে; অথবা
- খ) ঐ দেশের জন্য কার্যকর অন্য যে কোন আন্তর্জাতিক সনদ, চুক্তি অথবা সমঝোতায়।
ধারা ২৪
রাষ্ট্রপক্ষসমূহ এই কনভেনশনে স্বীকৃত অধিকারসমূহের পূর্ণ বাস্তবায়ন অর্জনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।
ধারা ২৫
ধারা ২৬
ধারা ২৭
ধারা ২৮
ধারা ২৯
ধারা ৩০
এই লেখাটি জাতিসংঘের প্রাতিষ্ঠানিক নথি থকে গ্রহণ করা হয়েছে। জাতিসংঘ প্রকাশনার সম্ভাব্য চিন্তাভাবনা যতদূর সম্ভব ছড়িয়ে দেওয়ার উদেশ্যে এই সংস্থা তাদের বেশির ভাগ নথি পাবলিক ডোমেইনে সকলের জন্য মুক্ত রেখেছে।
জাতিসংঘের প্রশাসনিক দিগ্নির্দেশনা (ইংরেজি) অনুসারে, নিম্নলিখিত নথিগুলি সারা বিশ্বব্যাপী পাবলিক ডোমেইনে মুক্ত:
- প্রাতিষ্ঠানিক রেকর্ড (সম্মেলনের কার্যবিবরণী, আক্ষরিক ও সারসংক্ষেপ, ...)
- জতিসংঘের চিহ্নযুক্ত জাতিসংঘের নথি
- জাতিসংঘের কার্যাবলী সম্বন্ধে জনগণকে অবহিত করার প্রাথমিক উদ্দেশ্যে তৈরি তথ্য উপাদান (বিক্রয়ের জন্য প্রযোজ্য তথ্য উপাদান নয়)।