বিষয়বস্তুতে চলুন

নিগ্রো জাতির নূতন জীবন/জংলী পথে

উইকিসংকলন থেকে

জংলী পথে

 রডেসিয়ার দক্ষিণে দক্ষিণ আফ্রিকা। দক্ষিণ আফ্রিকাই আমার গন্তব্য স্থান। বুলোবায়ো হতে দক্ষিণ আফ্রিকার সীমান্ত পর্যন্ত জংলী পথ। জংলা পথে চলা বড়ই বিপদ সঙ্কুল। বাস কিংবা রেলপথের সন্ধান ছিল না বলেই বিপদজনক পথে চলাই স্থির করেছিলাম। অনেক গুজরাতী এরূপ বিপদজনক পথে চলতে নিষেধ করেন, কিন্তু মন এগিয়ে চলছিল, বসে থাকা সম্ভবপর ছিল না।

 ভাবছিলাম জব্বো হয়ত আমার সঙ্গী হতে পারে, কিন্তু তার কোন পাত্তাই পেলাম না, আশায় বুক বেঁধে তার জন্য অপেক্ষা করলাম, সে কিন্তু আর এল না। কয়েকদিন পর তার সন্ধান করবার জন্য একজন গুজরাতী ব্যবসায়ীর স্মরণাপন্ন হলাম। গুজরাতী ব্যবসায়ী জব্বোর কথা কিছুই বলতে পারলেন না, অবশেষে একজন ভারতীয় স্কুল-মাষ্টারের কাছে জব্বোর কথা বললাম। তিনি বললেন “চুপ্ করুন” জব্বো এবং তার বন্ধুদের সম্বন্ধে আর কারো কাছে কোন কথা জিজ্ঞাসা করবেন না। কয়েকদিন পূর্বে অনেকগুলি নিগ্রো যুবককে হত্যা করা হয়েছে। সকলেই মোটর চাপা পড়ে মরেছে, জব্বোও বোধ হয় নিহত এবং আহতের মধ্যে একজন। বেচারী দরিদ্র নিগ্রো, এদের এমনি করে হত্যা করা হয়। লোকের কাছে বলা হয় মোটর চাপা পড়ে মরেছে। পৃথিবীতে অনেক রকমের আশ্চর্য আছে, নিগ্রোদের মোটরের নীচে ফেলে হত্যা করা তার মধ্যে অন্যতম।

 এই ধরণের কথা শুনবার পর আরও কয়েকদিন বুলোবায়তে কাটিয়ে একদিন সকাল বেলা সাইকেল বাইরে রেখে পেটেলের সংগে দেখা করতে গিয়ে দেখলাম তিনি ঘরে নেই, আগের দিন রাতে কোনও কাজে অন্যত্র গিয়েছেন। পিতার পরিবর্তে পুত্র বিদায় দিল। এক ঝোঁকে সাইকেল চালিয়ে শহরের বাইরের একটি নিগ্রো দোকানে এক পেয়ালা চায়ের আশায় বসলাম। নিগ্রো রমণী চোখ মুছতে মুছতে আমাকে চা দিয়ে বলল “একটা পর্যটকের সংগে আমার ছেলে কথা বলেছিল বলেই সে বোধ হয় মোটর চাপা পড়েছে, তুমি কি সেই?” আমি বললাম আমি পর্যটক নই, এই দেখছ না, সাইকেলের পেছনে মাল বেঁধে চলেছি। আমি ব্যবসায়ী। চা খেয়ে আর বসলাম না, একটি পেনী ফেলে দিয়ে হুড় হুড় করে পাহাড়ের উপর উঠলাম। তারপরই উৎরাই। সাইকেল আপনি চলতে লাগল। পাহাড়র উপর সিংহ আছে সেই সিংহ আমার উপর লাফ দিয়ে পড়বে এসব কথা মনে হল না!

 দু’শত চব্বিশ মাইল গেলে পরে পাওয়া যাবে দক্ষিণ আফ্রিকার সীমান্ত। যে পথ ধরে চলছিলাম স্থানী মানচিত্রে সেই এলাকাকে পার্বত্য এবং গভীর বন বলেই বর্ণিত করা হয়েছে এই স্থানটিকে নিয়ে অনেক গল্পের বইও লেখা হয়েছে। কিন্তু আমি গল্প লিখছি না। লিখছি যা দেখেছি তাই। এই এলাকাকে পার্বত্য এলাকা বলা চলে, কিন্তু গভীর বন বলা চলে না। বন আছে কিন্তু গভীর নয়। গভীর বনে বন্য জীবের সংখ্যা কম, এখানে হিংস্র জীবের সংখ্যা এত বেশি যে, কথা প্রসংগে হিংস্র জীবের কথা বারবারই বলতে হবে। হিংস্র জীবের নাম করলে অনেক পাঠকের আবার ভয় হয়। বনের নিয়ম মানলে বনের পশু হতে অতি সহজে রেহাই পাওয়া যায় সে সংবাদ অতি অল্প লোকই রাখে।

 বুলোবায়ো হতে ক্রমাগত ত্রিশ মাইল চলার পর হঠাৎ পথটা পাহাড়ের উপর গিয়ে উঠেছিল। বাধ্য হয়ে সাইকেল হতে নামলাম। সাইকেল হতে নামার পরই অবসাদ এল। কিন্তু উপায় নাই বালা-বালা (Balla-Balla) পৌছতে হবেই। ঠিক করলাম বালা-বালাতে গিয়ে রেলগাড়ীর আশ্রয় নেব। পথ ঘেঁসেই রেল লাইন চলছিল সেজন্য বেশ আনন্দ হচ্ছিল। আর মাত্র তের মাইল গেলেই বালা-বালা। পথ ক্রমেই উপরের দিকে উঠছিল। পথের দু’দিকে বন্য জীবের বেশ সাড়া পাচ্ছিলাম। বন্য জীবের অস্তিত্ব বুঝতে পেরেই আর অগ্রসর হলাম না, কতকগুলি শুক্‌না পাতা একত্রিত করে চট্‌পট্ করে আগুন জ্বালিয়ে কয়েকটি শুকনা ডাল তাতে আহুতি দিলাম। আগুনটা জমে উঠবার পর রুটি বের করে আগুনে সেকে খেলাম। ওয়াটার বোতল হতে তৃপ্তির সহিত জল পান করে আগুনের পাশেই শুয়ে থাকলাম। আধ ঘণ্টা সময় ঘুমিয়ে তারপরও আগুনের কাছে বসে থাকতে হল কারণ এই সময়টাতে অনেক পশু খাদ্য আহরণ করে।

 বেলা যখন তিনটা তখন আবার পার্বত্য পথে অগ্রসর হলাম। চলার পথে একটি লোকের মুখও দেখতে পেলাম না। লোক মুখ দেখার জন্য বড়ই উদ্‌গ্রীব ছিলাম। বালা-বালাতে পৌঁছার পূর্বে কয়েকজন নিগ্রোর সংগে দেখা হল। তারা একটি কথাও বলল না। এদিকে নিগ্রোরা বাইসাইকেল যোগে অনেকে আশি-নব্বই মাইল পথ ভ্রমণ করে ও পরের দিন নূতন তেজে আবার চলতে সক্ষম হয়! এই শ্রেণীর লোকের কাছে আমার মত লোকের আদর যত্ন পাওয়া অন্যায় আব্দার মাত্র।

 বালা-বালা ছোট্ট গ্রাম। এখানে একটি ইউরোপীয়ান হোটেল আছে। হোটেলে ইণ্ডিয়ানদের প্রবেশ নিষেধ। হোটেলের পাশেই কতকগুলি নিগ্রো বাস করে। তাদের বাড়ীতে আশ্রয় নেওয়া ছাড়া গত্যন্তর ছিল না। একটি নিগ্রো গৃহের সামনে দাঁড়ালাম। গৃহিণী বাইরে এসে কি চাই জিজ্ঞাসা করলেন। গৃহিণীকে একটি শিলিং উপহার দিয়ে থাকতে চাই জানালাম। গৃহিণী আমার আবেদন গ্রাহ্য করলেন এবং ঘরের এক কোণে আমার থাকার স্থান দেখিয়ে দিলেন। কিন্তু এতেই সন্তুষ্ট থাকা উচিত ছিল, কিন্তু মন অন্য ধরণে গঠিত বলে চুপ করে বসে থাকা সম্ভব হল না। চা, চিনি, চাল, নূন, মাখন ইত্যাদির জন্য আর একটি শিলিং দিলাম এবং ইংগিতে জানালাম আমার এসবের দরকার, রাত্রে খেতে হবে। এতগুলি বিষয় ইংগিতে যে-কোন সভ্য অথবা অসভ্য জাতের লোককে বুঝানো সম্ভব হয় কিন্তু ভারতবাসী হয়ে ভারতবাসীকে এতগুলি কথা ইংগিতে বুঝানো সম্ভব হয় না। কেন যে হয় না তার কারণ এখনও নির্ণয় করতে সক্ষম হই নাই।

 গৃহিণী সকল কথা বুঝে শিলিং নিয়ে ঘরের বাইরে গেল এবং দরকারী জিনিসগুলি নিয়ে এল। পাকের ব্যবস্থা আরম্ভ হল! নিগ্রোরা যদিও একটু অপরিষ্কার, তবুও তাদের অপরিষ্কারতা মোটেই চোখে পড়ল না। যখন ক্ষুধায় পেটের নাড়ীগুলি পর্যন্ত জ্বলতে থাকে তখন পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কথা মনে হয় না।

 গৃহিণী যখন পাক করছিল তখন তার স্বামী এবং পুত্র-কন্যাগণ আমাকে ঘরে দেখে প্রত্যেকে অবাক হয়ে গেল। তারা হয়ত ভেবেছিল তাদের মা নূতন স্বামী গ্রহণ করেছে। গৃহিণীর স্বামী ত আমাকে প্রত্যক্ষ সংগ্রামে আহ্বানে করতে চাইছিল, কিন্তু গৃহিণী যখন আমার পরিচর দিল এবং কাল সকালে চলে যাব জানাল তখন বুঝলাম তাদের মন পরিষ্কার হয়েছে। প্রত্যেককে একটা করে সিগারেট দিলাম, এতে এদের মুখে হাসি ফুটে উঠল। রাত্রি যাপন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হল। পরের দিন সকালে অজানা পথে অজানাকে জানবার জন্য পুনরায় রওয়ানা হলাম।

 বালা-বালা হতে গাওএণ্ডা (GWANDA) চল্লিশ মাইল পথ। ভাবছিলাম চল্লিশ মাইল পথ চার ঘণ্টার মধ্যেই চলে যাব। পথও বেশি উঁচু-নীচু নয়, কিন্তু অর্দ্ধেক পথে এসেই গাছের মড়মড়ি, ভূমিকম্প এসব অনুভব করলাম। এতে একটুও ভীত হলাম না, রাস্তা ধরে এগিয়ে চলালম। এক মাইল পর্যন্ত রাস্তার উপর সবই দেখা যায় অথচ এত গণ্ডগোল কিসের? একটু আগে যেয়ে দেখি বনগরুর পালে সিংহ পড়েছে। একটা সিংহ একটা গরুকে নেবেই, আর গরুগুলি প্রাণ বাঁচাবেই। দেখলাম একটা দুগ্ধবতী গাই বেশ লড়াই করছে আর এক পা এক পা করে হটে যাচ্ছে। অমনি গরুগুলি সিংহটাকে আক্রমণ করছে। এদিকের বনগরুগুলিও মহা হিংস্র। এদের সংগে সিংহ সর্বদা জয়ী হয় না। যে-স্থানটাতে দাঁড়িয়ে ছিলাম তার আশে-পাশ একটিও বৃক্ষ ছিল না। পবনবেগে সাইকেল চালালাম, ভয় হতে লাগল হয় সিংহ নয় বন্য গরু আক্রমণ করবে। শেষটায় আর পারলাম না, সাইকেল হতে নেমে বিশ্রাম করতে বসলাম! বন্যজীব কিন্তু এল না, আপন মনেই বললাম “বনের বাঘ হতে মনের বাঘই বড়।” আর যদি সাইকেল চালাই তবে কলিজা ফেটে মারা যাব। অনেকক্ষণ বিশ্রাম করার পর হঠাৎ একখানা মালগাড়ী আমারই পাশ দিয়ে চলে যেতে দেখে মনে বেশ আনন্দ হল এবং সাহসও বাড়ল।

 এদিকে সিংহ এবং বনগরুতে প্রায়ই লড়াই হয়। গরু মানুষকে যেমন আক্রমণ করে না, সিংহও মানুষের কাছে আসে না। যদি তাই হত তবে আজ আর আমাকে আফ্রিকার ভ্রমণ কাহিনী লিখতে হত না।

 বিকালে গোয়াণ্ডাতে পৌঁছলাম। এখানেও প্রকাণ্ড একটা হোটেল আছে। সেই হোটেলে শ্বেতকায় ছাড়া আর কেহই স্থান পায় না। হোটেলে গেলাম না, নিগ্রো গ্রামেই থাকতে মনস্থ করলাম। একখানা ঘর এক শিলিং দিয়ে ভাড়া করলাম। যে লোকটা ঘরে থাকত তার একটা বিছানাও ছিল, বেশ সুন্দর বিছানা। গানি-বেগের ভিতর খড় পূরে গদি করেছে। সেই গদির উপর মস্ত একটা হরিণের চামড়া বিছানো। ভদ্রতা করে হরিণ বলছি, আসলে কিন্তু তা হল বন্যগরুর চামড়া। বিকালে নিগ্রোটি পাক করে দিল। লোকটা পাকে বেশ ওস্তাদ। একটা ছোট মুরগী কেটে তার ঝোল এবং ভাত পাক করেছিল। পাড়ার লোকের কাছ থেকে ঘিয়ে ভাজা রুটি এবং দুধও নিয়ে দিয়েছিল। সন্ধ্যার পূর্বেই আমাকে খাইয়ে সেও কিছু খেয়ে নিল এবং কোথায় চলে গেল। আমি আর কোথাও না গিয়ে ঘরের ভেতর আগুন জ্বালালাম এবং রাত্রে যাতে কোনও বন্যজীব ঘরের ভেতর মুখ না ঢুকোয় সেজন্য অনেকগুলি শুকনো কাঠ জমা করে রাখলাম। বাইসিকেলের বাতিতে তেল ছিল। সংগে মোমবাতি ছিল, টিপ্‌পাতির ব্যাটারী ঠিক ছিল সেজন্য অনেকটা নিশ্চিন্ত ছিলাম এবং সন্ধ্যা না হতেই দরজা ভেজিয়ে দিরে শুয়ে পড়লাম।

 রাত বারটার সমর ঘুম ভেংগে গেল। উপর হতে টুপ্‌টাপ্ করে বৃষ্টি পড়তে লাগল। আগুনটা একটু চড়িয়ে দিয়ে বিছানার উপর উঠে বসলাম, বাইসিকেলের লেম্প্ ভাল করে জ্বালিয়ে কাছে রেখে দিলাম। কিছু সময় না যেতেই দেখি একটা ছোট সাপ ঘরের ভেতর মুখ ঢুকিয়ে দিচ্ছে। তখনই জ্বলন্ত একটুকরা কাঠ তার সামনে ধরে দিলাম, সাপ পালাল। তারপর একদল খরগোস ঘরের কাছে এসে গলাবাজি আরম্ভ করল। খরগোসের কিচির-মিচির শব্দ যদি আমার অজানা থাকত তবে আমি হয়ত অজগর ভেবে অজ্ঞানই হয়ে যেতাম। এইভাবে রাত তিনটা পর্যন্ত কাটল। তারপর বৃষ্টি বন্ধ হয়ে আকাশ পরিষ্কার হল। চন্দ্র দেখা দিল। চাঁদের আলো দিনের মতই মনে হল। দরজা খুলে দিয়ে একটি মাটির হাড়ীতে জল গরম করতে বসলাম। গরম জলের সাহায্যে কাফি তৈরী করে খেয়ে বড় ছুরিটা হাতে নিয়ে বাইরে পাইচারী করতে বের হলাম। ভাবলাম এমন সুন্দর চাঁদের আলো ক’জন দেখেছে। মনটা আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে উঠল এবং মনের মধ্যে কি দু’টা চিন্তা এমনই মল্লযুদ্ধ আরম্ভ করে দিল যাতে ভুলে গেলাম আমি বাইরে দাঁড়িয়ে আছি। হঠাৎ মনে হ’ল ভাবপ্রবন হলে চলবে না বাস্তব চিন্তা করতে হবে। মাথার উপর দিয়ে দু’টা পাখী চলে গেল। বুঝলাম তারাও আহার অন্বেষনে বের হয়েছে।

 কাফির বিস্বাদটা তখনও মুখে ছিল। সংগে চিনি না থাকায় বিনা চিনিতেই কাফি খেয়েছিলাম। ওয়াটার বোতল হতে জল নিয়ে মুখটা ধুয়ে ফেললাম এবং একটি সিগারেট ধরিয়ে আবার সেই পুরাতন চিন্তায় মন দিলাম। মনে হচ্ছিল আমি এসব করছি কেন? এত কষ্ট মাথা পেতে নিচ্ছি, এত নির্জনতা ভোগ করছি কার জন্য? বাস্তববাদীর পক্ষে এসব চিন্তা করা অন্যায়। হঠাৎ দেখতে পেলাম একটা কালো চিতাবাঘ আমারই দিকে চেয়ে আছে। তৎক্ষণাৎ আগুনটা বাড়িয়ে দিয়ে টিপবাতিটা চিতাবাঘটার উপর ফেলতেই চিতাবাঘ এক লাফে জংগলে চলে গেল। আফ্রিকাতে সুন্দর বনের বাঘ নাই, আছে চিতাবাঘ। চিতাবাঘ মানুষ আক্রমণ করে সত্যকথা কিন্তু মানুষ যদি চিতাবাঘের সংগে লড়াই করে তবে চিতাবাঘ মানুষকে সহজে কাবু করতে পারে না। অনেক নিগ্রো খালি হাতে লড়াই করে চিতাবাঘকে হত্যা করতে সক্ষম হয়। চিতাবাঘটাকে দেখার পর দরজা খুলে বসে থাকতে ইচ্ছ হল না। সত্য কথা বলতে কি বেশ একটু ভয় হল। দরজাটা ভেজিয়ে দিয়ে পুনরায় কাফি তৈরী করে খেলাম। কাফি খাওয়ার জন্য যদিও ঘুম এল না কিন্তু বসে থাকতে পারলাম না। কতক্ষণ বসেছিলাম তারপরই ঘুমে চোখ দু’টো বুঁজে যাচ্ছিল। ঘুম যাতে অভিভূত না করে সেজন্য খুবই চেষ্টা করলাম কিন্তু আমার অজ্ঞাতে কখন যে ঘুম আমাকে অভিভূত করল বুঝতে পারলাম না। যখন ঘুম ভাংল তখন আকাশে সূর্যের সোনালী আলো ছড়িয়ে পড়ছিল। শরীরটা ভাল করে পরীক্ষা করে দেখলাম কোথাও কোন ক্ষত নাই, শরীরে দুর্বলতাও নাই, ভামপার্ রক্ত শুষে খায় নাই।