নিনিবি শহরের রিহাই

উইকিসংকলন থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
বেহেস্তের বয়ান প্রচ্ছদ.jpg

নিনিবি শহরের রিহাই।

 

 

THE DELIVERANCE OF NINEVEH.

 

—— ——

 

শ্রীবিপিন বিহারী শাহ।

 

প্রণীত

 

—— ——

 

কলিকাতা

 

চৌরঙ্গী রোড ২৩ নং ভবনে প্রকাশিত।

C. V. E. S.
মূল্য এক পয়সা।
 

নিনিবি শহরের রিহাই।

—— ——

 ইনসান করিয়া গুনাহ হয় গুনাগার। নাদান হইয়া গোসা ভড়কায় আল্লার॥ আল্লা যদি গোসা ভরে সাজা দেয় তার। দুনিয়াতে পড়ে যায় সেরেফ হাহাকার॥ লেকেন আল্লা গুনাগারে করায় পিয়ার। রাখয়ে হামেশ আল্লা নফরৎ গুনার। আল্লা যদি এক গুনার সাজা দেয় কারে। উম্মিদ না থাকে তার আর বাঁচিবারে। লেকেন আল্লার মর্জ্জি এ কখন নয়। হামেশ গুনাতে ডুবে খলকত রয়॥ এই আল্লার মর্জ্জি শুন বলি তোরে। ছাড়িয়া গুনার পথ তরফ আল্লা ফিরে॥ হয়েছে আকসর এই আগলে জমানেতে। ওসিলা করিল আল্লা ইনসান বাঁচাইতে॥ তাহাদের মাঝে একের করিব বয়ান। এই আরজু করি ভাই করিও ধেয়ান॥

 নিনিবি নামেতে ছিল বৃহৎ শহর। মোকাম তাহার ছিল টিগ্রিস উপর॥ লম্বাই চওড়াই তার ছিল এত বড়। তিন দিন যেতে লাগে এ পার ওপার॥ এক লাক বিশ হাজার আদমি তাহে ছিল। আওরত বচ্চার শুমার কি করিব বল॥ এহেন শহর ছিল কি বলিব ভাই। কেহ না কখন দিত আল্লার দুহাই॥ গোলাম শয়তান হয়ে কাটাইত কাল। না জানিত কারে বলে বুরা আর ভাল॥ করিত হাজার গুনা গুনার উপর। কখন করিত নাক খোদা তালার ডর॥ গুনা করে দিল্‌ তার হইল পাথর। আল্লার গজব ভড়কে তাদের উপর॥ সাজা দিবা তরে আল্লা করিল কসদ। চাহিল মারিতে যত জন বাচ্চা মরদ॥ আবার রহেম তখন করিল রহীম। করম করিল কারণ সে হয় করীম॥ বাঁচাইবারে তাদের জান নবী পাঠাইল। নবীরে করিতে ওাজ হুকুম করিল॥ নবীর নসীহতে যে করিবে তোওবা। আল্লাহ তালার যিনি করিবেক সেবা॥ তাহারে দিবেক আল্লা তখনই রিহাই। গুনাহর সাজা হতে দিবেক বাঁচাই॥ গুনাগারে মারতে কভি আল্লা নাহি চায়। অগর কভি গুনাগার গুনাতে পচতায়॥

 নিনিবি শহরের লোক ছিলেক বজ্জাত। নবীর যাইতে তথা হল না হিম্মত॥ কি ভাবিল কি জানি কহিতে না পারি। ইরাদা করিল দিলে নবী এক ভারি॥ খোদার হজুর হতে পলাতে চাহিল। পলালে বাঁচিবে আপন দিলেতে ভাবিল॥ যাফা নামে ছিল এক বৃহৎ বন্দর। চড়িল তথায় গিয়া জাহাজ উপর॥ ভাবিল পৌছিলে পরে দরিয়ার পার। থাকিবে না সে মুলুকে খোদার একতার॥ ইনসানের বেওকুফি দেখহ ভাবিয়া। খোদায় হজুর হতে যায় পালাইয়া॥

 তিন দিন সে জাহাজে সফর করিল। বীচ দরিয়াতে গিয়া আখের পৌছিল॥ চারি দিগে শুন শান কেহ কোথা নাই। উপরে আসমান নীচে সেরেফ দরিয়াই॥ ডাহিনে বায়েতে সব ধুঁয়ার মতন। জেজিরা জমীন কোথা না ছিল যখন॥ সহজে সহজে তুফান আইলেক ভারি। ঢেউ উঠিলেক তবে জাহাজোপরি॥ কাটিল পালের দড়ি চট চট চট। ফাটিল নায়ের কাঠ পট পটা পট॥ জাহাজ করিল তবে টল টলা টল॥ ডর সামাইল তবে দিলেতে সকল॥ দোহাই দোহাই ডাকে যত মাল্লা ছিল। আপন ২ খোদায় সকলো ডাকিল॥ রফতে ২ তুফান বাড়িতে লাগিল। বাঁচিবার আশা তখন সকলে ছাড়িল। কেহ বলে খোল দড়ি কেহ বলে ছাড়। কেহ বলে পাল তোল বাদাম উপর॥ কেহ বলে ছাঁক জল ফুরতি করিয়া। জাহাজ এইবার বুঝি যাইবে ডুবিয়া॥ কেহ বলে হালকা কর সাল ফেলে দেও। কেহ বলে বসে বসে খোদার নাম লও॥ জাহাজে যতেক মাল্লা চড়ন্দাজ ছিল। হরেকে হরেক কাম করিতে লাগিল॥ এক আদমী ছিল লেকেন জাহাজ অন্দর। ঘুমাইতেছিল তার ছিল না খবর॥ সে ছিল ইউনাস নবী বলি শুন ভাই। আল্লার হজুর হতে যাইল পলাই॥ জমীন আশমান যার কুদরতে হইল। পাক পরিন্দা বার কলামে গঠিল॥ তাহার হজুর হতে পলাতে কে পারে। যদিও ছিপায় গিয়া পাতাল ভিতরে॥ খোদা বাড়াইল হাত তাহার উপর। ধরিল তাহারে গিয়া বীচ সমুন্দর॥ যদিও তমাম মাল পানিতে ফেলিল। তবুও তুফানে জাহাজ ডুবিতে লাগিল॥ তখন সর্দ্দার দেখে বড়ই মুস্কিল। সুরতি ডালিবারে করিলেক দিল॥ বলিল সবারে ডাকি শুন মলিভাই। ডালিব সুরতি আমি নামেতে সবাই॥ তাহাতে পাইব টের কাহার কশুনেতে। পড়িয়াছি আমরা আজ এই বিপদেতে॥ তাহাতে যাহার নামে সুরতি উঠিবে। বিপদে পড়েছি তার কসুরে জানিবে॥ অতএব তারা যখন সুরতি করিল। ইউনাসের নামে তখন সুরতি উঠিল॥ পুছিল তাহারা গিয়া মালারা সবাই। কাহার গুনাতে বিপদ বল দেখি ভাই॥ কোথাকার লোক তুমি কিসের পেসাদার। শহর তোমার বল জবান তোমার॥ ইউনাস জবাব দিয়া কহিল তাহারে। ইব্রানি লোক আমি বলিনু তোমারে। আসমান জমিন তৈয়ার কুদরতে যাহার। পরিসতিশ করি আমি ওহেদ খোদার॥ যিহোবা নামেতে মশুর এই দুনিয়ায়। হিকমতে তাকতে তারে হেথা কেবা পায়॥ নিনিবি শহরে মোৱে ভেজিলেক সেই। আল্লার খবর যেন সেখা গিয়া দেই॥ নিনিবির লোক শুনি জাত বড় বদ। তথায় যাইতে মোর না হল হিম্মদ॥ ভাবিলাম তোমাদের জাহাজে উঠিয়া। খোদার হজুব হতে যার পলাইয়া॥

 সকলে বলিল বেকফ তোমার মতন। চকেতে না দেখিলাম আমরা কখন॥ খোদা তালার হাত হতে পলান কি যায়। আসিয়া ধরেছে তোরে বীচ দরিয়ায়॥ এখন বল তো দেখি উপায় কি করি। মোকুফ তুফান হয় মোদের উপরি॥ নবীর দিলেতে তবে রঞ্জ উপজিল। বাঁচিতে সে জনা তার নাহিক চাহিল॥ গুনার সমজ যবে দিল মাঝে হয়। জিন্দিগিতে ধিককার আদমি তবে কয়॥ মরিতে বাসনা করে জিন্দিগি ছাড়িয়া। তাতে ভাবে খোদার হাত যাব এড়াইয়া॥ বারেক না ভাবে দিলে মরিতে বাঁচিতে। হামেশ আছিগো মোরা তাহার হাতেতে॥ পাতাল মাঝেতে যদি যাইয়া লুকাই। খোদাওন্দ হাজির আছে দেখ সেই ঠাঁই। ইউনাস বলিল তবে আমারে ধরিয়া। পানিতে সবাই মিলে দেহ হে ফেলিয়া॥ ইহাতে হইবে মফুফ পানির তুফান। বাঁচিবে ইহাতে আজি তোমাদের জান॥ শুনিয়া তাহার বাত তাজ্জুব করিল। হিম্মত দেখিয়া তার হয়রাণ হইল। হিম্মত না করে কেহ তাহে ফেলিবারে। কোউশিশ করিলা বহু জমি পাইবারে॥ বীচ দরিয়ায় কোথা জমি পাওয়া যায়। হয়রাণ হইল ভাবি কি করে উপায়॥ বেকশুরে দিতে ফেলে ডর হল দিলে। হইবে নারাজ খোদা ভাবে সবে মিলে॥ আখের করিলা দুয়া খোদার দরগাহ। মাপ করিও মোদের যা হবে গুনাহ॥ বেকশুরে দরিয়াতে ফেলিবারে চাই। কেননা তোমার মর্জ্জি জানিনু ইহাই॥ যত কাম করে লোক যদি দুয়া করে। শুবা নাহি থাকে মতলব হাসিল করিবারে॥ হরেকের তরে এই লাজিম দেখা যায়। হরেক কামেতে ডাকে ওাহেদ খোদায়॥ বাদেতে ইহার তারে পানিতে ফেলিল। সমুদ্দর তারে পেয়ে তবে ঠাণ্ডা হল॥ চমকিয়া গেল লোক মাজরা দেখিয়া। দুয়া করিলেক কত মানত করিয়া॥ যিহোবার সামনে তারা কুরবান করিল। যিহোবাকে জিন্দা খোদা সকলে ভাবিল॥

 তৈয়ার তখন ছিল খোদার হুকুমে। বহুত বড়া এক মছলি তাহার করমে॥ পানিতে পড়িতে ইউনাস তারে নিগলিল। একবারে গিয়া ইউনাস শিকমে পৌঁছিল॥ তিন দিন তিন রাত অন্দরে রহিল। বাদ তারে জমিনেতে উগলিয়া দিল॥ হুকুম তখন হলো তাহার উপর। মনাদি করহ গিয়া নিনিবি শহর॥ চল্লিশ দিন বাদে শহর হইবে গারত। শহর ও তমাম আর যত ইমারত॥ তাজ্জুব করিল ইউনাস উপরে উঠিয়া। হায়রাণ হইল শহর নিনিবি দেখিয়া॥ ইউনাস পৌঁছিল যখন শহর ভিতর। মুনাদি করিল তখন লোকের উপর॥ চল্লিশ দিন পরে গারত হইবে শহর। তোবা করে আল্লা তালায় এই বেলা ধর॥ শুনিয়া নবীর কথা হয়রাণ হইল। চট পরে খাক মেখে তারা তোবা কৈল॥ মজবুত ইমান করি খোদাকে ধরিল। যত দূর পারে তারা সবে তোবা কৈল॥ রোজা করিলেক কত নমাজ করিল। রাজা উজীর সবে মিলে দিলে পচতাইল॥ নন্না বাচ্চা সবে তারা ধরিল খোদায়। করম করিল খোদা আপন হিয়ায়॥ গুনাগার তোবা যখন আপন দিলে করে। করম করয়ে আল্লা তাহার উপরে॥ নিনিবি উপর তখন করম করিল। মকরর সাজা তখন টলাইয়া দিল॥ ইউনাস যাইয়া শহর বাহিরে তখন। ইন্তাজারে রইল গজব পড়িবে কখন॥ চল্লিশ দিন রাত যখন গুজরিয়া গেল। গজব এলাহি নাহি শহরে পড়িল॥ আল্লারে কহিল নবি মিন্নত করিয়া। মোরে তুমি দেও আরাম মৌত ভেজিয়া॥ তোমার রহেম বড়া আমি জানিতাম। তার জন্যে জাহাজেতে আমি ভাগিলাম। গোসসা করতে ধিমা তুমি রহেমেতে বড়। ভাঙ্গিতে চাহিয়া তুমি ফের তারে গড়॥ অতএব জিন্দিগির নাহি কোন কাম। মৌত তুমি ভেজ মোরে আরজ করিলাম॥ নবীর মতলব খোদা বুঝিলেক ভাল। হইল গোসসা নবীর দিলেতে ভাবিল॥ রাতের ভিতরে এক উগাইল গাছ। যথায় ইউনাস নবীর ঘরের কানাছ॥ রাতের মাঝেতে গাছ এতেক বাড়িল। সারা ঘরে ঐ গাছ ছায়া করেছিল॥ ঐ গাছ যখন নবী বিহানে দেখিল। ছায়া পেয়ে তার দিলে বড় খুশি হল॥ দুশরা রাতে খোদা তালা কীড়ারে ভেজিল। কীড়া এসে ঐ গাছ জড়েতে কাটিল॥ যখন উঠিল ধুপ বিহান হইল। পাতা লতা সব গাছের শুকাইয়া গেল॥ লু চলিলেক যখন পূরব হইতে। গশ আইলেক তথন নবী উপরেতে। গাছ জ্বলে গেছে দেখে রঞ্জিদা হইল। খোদার নজদিগে ফের মৌত চাহিল॥ খোদা তালা তখন তারে কহিলেক বাত। গোসসা আপন দিল হতে করহ তফাত॥ গাছেরে তো কভি তুমি নাহি লাগাইলে। জল সেচো নাই তুমি ও গাছের তলে॥ একই রাতেতে সেই উঠিল বাড়িল। একই রাতেতে সেই বরবাদ হইল॥ তাহার লাগিয়া তোমার এত খেদ হয়। এক লাক বিশ হাজার আদমি যাতে রয়॥ তাহা ছাড়া অওরত বাচ্চা আছে তাতে কত। কেমনে এমন শহর আমি করি হত॥ ছোট বড় যত লোক তথায় আছিল। চট পরে খাক মেখে সবে তোবা কৈল॥ তাহা সকলের তোবা আমার হজুর। আসিয়া পৌঁছিল আমি রহমেতে পুর॥ রহিম আমার নাম রহেমেতে বড়। ইনসানে হামেশা বলি তোমরা তোবা কর॥ যত লোক করে তোবা আমার হুকুমেতে। দাখিল করিব তাদের আপন বাদশাহাতে॥ তোবা নাহি করে যে হুকুমে আমার। দোজকে ভেজিব তারে দোজক ঘর তার॥ আল্লা তালার মর্জ্জি যখন জানিতে পারিল। খামোশে হইয়া নবী তখন রহিল॥ আল্লার করম হল নিনিবি উপর। বকশিল যত গুনাহ হয়েছিল তার॥

 কেচ্ছা তো সকল তুমি এখন শুনিলে। নসিহত কি তুমি হাশিল করিলে॥ নসিহত যাহা কিছু ইহ হৈতে পাই। বয়ান করিনু আমি শুন বলি ভাই॥ দুনিয়া নিনিবি শহর জানিবেক ভাই। আমরা সবে গুনাগার দুনিয়াতে রই॥ গুনা করে মোরা সব হয়েছি লাচার। গোসসা ভড়কিয়াছে মোদের উপরে খোদার॥ তবভি খোদা হইয়াছে বড় মেহেরবান। বড়ই তাহার করম বড় তার শান॥ এই জমানাতে তিনি ভেজিল বেটারে। ইমান যে আনিবেক তাহার উপরে॥ বাঁচিবেক সেই জন গজব হইতে। নজাত পাইবে সেই সব আখেরেতে॥ বাদশাহাতে খোদা তালার দাখিল হইবে। খোদার বরকতে সাজা সেই এড়াইবে॥ আসিয়া ফরজন্দ খোদা এই দুনিয়াতে। কোরবানিল আপন জান গুনার বাবতে॥ উঠাইল সব সাজা আপন উপরে। তকলিফ উঠাইল কত আপন শরীরে॥ আখেরেতে জান দিল গাছের উপর। গোনাগারে না রহিল মৌতের ডর॥ আপন কলামে তিনি বলিয়াছে ভাই। গুনাগার যত আছ তোমরা সবাই॥ আইস নজদিগ মোর যদি মান্দা হও। নাজাত আমর কাছে এসে সবে লও॥ অতএব আরজু এই তোমার খিদমতে। আপনাকে সুঁপে দেও মসীর কদমেতে॥ ইমান আনহ তুমি তাহার উপর। তোমার থাকিবে নাক মৌতের তর॥ যখন করিবে কুচ দুনিয়া হইতে। দাখিল তখন হবে খোদার বাদশাহাতে॥ খোদার ওসিলা তুমি না ধরিলে ভাই। কখনই পাবে নাক জানের রেহাই॥ এক রোজ ইসা মসীহ নাসহত দিল। চারিদিগে যিহুদিরা ঘেরিয়া দাড়াল॥ ইসারে কহিল লোক তার দরমিয়ান। তুমি যে মশীহ তার দেখাও নিশান॥ রঞ্জিদা হইল ইসা দিলের ভিতর। প্রদান করিল তবে তাহারে উত্তর॥ এত কাল তোমাদের দরমিয়ানে আছি। কেরামত কত মত রোজ দেখা ইতেছি॥ হায় হায় কিবা সঙ্‌দিল তোমাদের। নিশান দেখিতে খাহেশ করিতেছ ফের॥ এলাহি নিশান আর কত দেখাইব। একই পেশিন গোই তোমারে কহিব॥ পুরা যবে পেশিন গোই আমার হইবে। আমি যে ইসা মসীহ তখন জানিবে॥ ইউনাস নামেতে নবী আছিলেক যিনি। তিন দিন মছলি পেটে রহিলেক তিনি॥ তিনদিন বাদে সেই উগলিয়া দিল। আপন শিকমে আর রাখিতে নারিল॥ জানিবে তাহার মত ইনসান বেটারে। তিন দিন থাক্‌তে হবে জমিন অন্দরে॥ তিন দিন বেশি জমি রাখিতে নারিবে। তিন দিন বাদে মোরে উঠিতে হইবে॥

 পেশিনগোই দেখ ভাইপূরিত হইল। ইসাকে মারিয়া সবে কবরে রাখিল॥ যেমন বয়ান ইসা আপনি করিল। তিন দিন বাদে কবর হইতে উঠিল॥ জাহির হইল অনেক লোকের উপর। পথে ঘাটে দেখা দিল গেল লোকের ঘর॥ পূরা হল পেশন গোই দেখিয়া সবাই। তাহার উপর ইমান আনিলেক ভাই॥ অতএব আরজু এই খিদমতে তোমার। ইমান আনহ তুমি উপর তাহার॥ সচ মুচ জেন ভাই দিলের অন্দর। তাহা বই নাই নজাত দুনিয়া উপর॥ তারে যদি কর তুমি এবে অবহেলা। বড়ই মুস্কিল হবে আকবতের বেলা॥ অতএব শুন তুমি মান নসিহত। তোবা করি ইসা মসীহ কর খিদমত॥ ফের জেন নিনিবিতে ইউনাস যেমন। মছলি পেট হইতে বাহির হইল যখন॥ মুনাদি করিল গিয়া সেই শহরেতে। ইসা মসীহ করে ভাই এই জমানাতে॥ কবর হইতে বাহির হইল যখন। শাগিদের হুকুম দান করিল তখন॥ যেন সব দুনিয়াতে সকলেতে গিয়া। আগাহ করে সকল জানে তার বাত দিয়া॥ মসীহি সকলে সেই হুকুম মানিয়া। মুনাদি করিছে সব দুনিয়াতে গিয়া॥ তকলিফ উঠাছে কত দেখহ ভাবিয়া। তবু তারা নাহি দেয় মসীহেরে ছাড়িয়া॥ অনেকে লিখেছে বই অনেকরকম। যাহাতে বরবাদ হয় লোকের ভরম॥ এইরূপে খোদাবন্দের যত লোক আছে। সকলের কাছে গিয়া ইঞ্জিল শুনাইতেছে॥ এইরূপ ইসা মসীহ মুনাদি করিছে। সেই কালে ইউনাস নবী যেমন করিয়াছে॥ ইমান আনিবে সেই নজাত পাইবে। নতুবা জরুর সাজা আখের হইবে॥ ইঞ্জিল তাহার কিতাব দুনিয়াতে গিয়া। দিতেছে খপর ইসা জাত না বাছিয়া॥ তোমার তরেতে ইঞ্জিল আছয়ে তৈয়ার। পাঠ কর লয়ে তাহা ঘরে আপনার॥ ইনসাফ করিয়া তুমি কবুল করে লও। মসীহরে আপন তেঁই সুঁপে তুমি দেও॥ এমন বকতে তুমি না করিও হেলা। মুস্কিল যেন নাহি পড়ে মৌতের বেলা॥ পায়ে দিয়া ঠেল নাক এমন এহসান। ঠেলিলে হইবে নাক মুস্কিলে আসান॥

তমাম॥

নিনিবি শহরের রিহাই ১৮.jpg

খোদা

দুনিয়াকে এমন পিয়ার করিলেন,

যে তিনি আপনার এক জাত বেটাকে

দিলেন;

যেন যে কেহ তাঁহার উপর

ইমান লয়,

সে নষ্ট না হয়, কিন্তু হামেশার জিন্দিপি

পায়।


যুহান্নকী ইঞ্জীল ৩;১৬।


এই লেখাটি বর্তমানে পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত কারণ এটির উৎসস্থল ভারত এবং ভারতীয় কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ অনুসারে এর কপিরাইট মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। লেখকের মৃত্যুর ৬০ বছর পর (স্বনামে ও জীবদ্দশায় প্রকাশিত) বা প্রথম প্রকাশের ৬০ বছর পর (বেনামে বা ছদ্মনামে এবং মরণোত্তর প্রকাশিত) পঞ্জিকাবর্ষের সূচনা থেকে তাঁর সকল রচনার কপিরাইটের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়। অর্থাৎ ২০১৭ সালে, ১ জানুয়ারি ১৯৫৭ সালের পূর্বে প্রকাশিত (বা পূর্বে মৃত লেখকের) সকল রচনা পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত হবে।