নৃত্যনাট্য চণ্ডালিকা

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

>gালিকা ীেননাথ কুলু বিশ্বভারতী-গ্ৰন্থালয় ২: ১ নং কণ5য়ালিস ধাই, কলি ক? । করে । ২ ১০ নং কর্ণওয়ালিস স্ট্রট, কলিকাতা প্রকাশক— শ্রকিশোরীমোহন স; তন্ত্ৰ ! চ ছsণলিকা o .اس + مس r" r ~ = N mā تمامی سی ۹ تا ۹* بی بی بع ^'; * সংস্ক : ; { У а з } ෂ’ (H, O AI , :این ۲ ت মূল --- বার অ নি । স্তনিকেতন প্রেল ; শাস্তিনিকেতন, ( বীরভূম } প্রভাত কুমাৰ মুখোপাধ্যায় কত্ত্বক মুদ্রিত । ہ/o রাত্রে তার বাড়িতে এসে উপস্থিত । তিনি বেদীর উপর অসিন গ্রহণ করলে প্রকৃতি র্তার জন্য বিছান। পাততে লাগল। আনন্দের মনে তখন পরিতাপ উপস্থিত হোলে। পরিত্রাণের জন্তে ভগবানের কাছে প্রার্থনা জানিয়ে কাদতে লাগলেন । ভগবান বুদ্ধ তার অলৌকিক শক্তিতে শিন্যের অবস্থা জেনে একটি বৌদ্ধমন্ত্র আবৃত্তি করলেন । সেই মন্ত্রের জোরে চণ্ডালীর বশীকরণবিদ্যা তুৰ্ব্বল হয়ে গেল এবং আনন্দ মঠে ফিরে এলেন ।” প্রথম ক্রম্প্র্য মা প্রকৃতি, ও প্রকৃতি ! গেল কোথায় ! কী জানি কী হোলো মেয়েটার। ঘরে দেখতেই পাইনে । প্রকৃতি এই যে মা, এখানেই আছি । কোথায় ? প্রকৃতি এই যে কুয়োতলায় ম! আশ্চৰ্য্য করলি তুই ! বেলা গেল দুপুর পেরিয়ে, কাঠফাটা রোদ, মাটি উঠেছে তেতে, পা ফেলা যায় & চণ্ডালিকা না ! ঘরের জল কোন সকালে তোলা হয়ে গেছে । পাড়ার মেয়ের সবাই জল নিয়ে গেল ঘরে। ঐ দেখ, ঠোট মেলে গরমে কাক ধুকছে আমলকি গাছের ডালে । তুই এই বৈশেখের রোদ পোয়াচ্ছিস বিনি কাজে । পুরাণ-কথা শুনেছি, উমা তপ করেছিলেন ঘর ছেড়ে বাইরে, রোদে পুড়ে ; তোর কি তাই হোলো ? প্রকৃতি হঁ। মা, তপ করছি তো বটে । यl অবাক করলে ! কার জন্যে ? প্রকৃতি যে আমাকে ডাক দিয়েছে। গান যে আমারে দিয়েছে ডাক দিয়েছে ডাক, বচমহারা অামাকে যে দিয়েছে বাক্ ॥ যে অামারি নাম জেনেছে ওগো তারি নামখানি মোর হৃদয়ে থাক্ ॥ চণ্ডালিক। xSNo কিসের ডাক ? প্রকৃতি আমার মনের মধ্যে বাজিয়ে দিয়ে গেছে “জল দাও।” क्रो পোড়া কপাল ! তোকে বলেছে—‘জল দাও’ ! কে শুনি ! তোর আপন জাতের কেউ ? প্রকৃতি তাই তো বললেন, তিনি আমার আপিন জাতেরই | 지 জাত লুকোসনি ? বলেছিলি যে তুই চণ্ডালিনী ? প্রকৃতি বলেছিলেম । তিনি বললেন, মিথ্যে কথা । তিনি বললেন, শ্রাবণের কালো মেঘকে চণ্ডাল নাম দিলেই বা কী, তাতে তার জাত বদলায় না, তার জলের ঘোচে না গুণ । তিনি বললেন, নিন্দে কোরো না নিজেকে । আত্মনিন্দ পাপ, আত্মহত্যার চেয়ে বেশি ।

  • . 8 চণ্ডালিকা

মা তোর মুখে এ সব কী শুনছি ? তোর কি মনে পড়েছে পূৰ্ব্বজন্মের কোনো কাহিনী ? প্রকৃতি এ কাহিনী আমার নতুন জন্মের । মা হাসালি তুই । নতুন জন্ম ! ঘটল কবে ? প্রকৃতি সেদিন রাজবাড়িতে বাজল বেল পুরের ঘণ্টা, ঝাঝণ করছে রোদকুর । মা-মরা বাছুরটাকে নাওয়াচ্ছিলুম কুয়োর জলে । কখন সামনে দাড়ালেন বৌদ্ধ ভিক্ষু, পীতবসন তার। বললেন, জল দাও । প্রাণট। উঠল চমকে, শিউরে উঠে প্রণাম করলেম দূর থেকে। ভোর বেলাকার অালো দিয়ে তৈরি তার রূপ। বললেম, আমি চণ্ডালের মেয়ে, কুয়োর জল অশুদ্ধ । তিনি বললেন, যে মানুষ আমি, তুমিও সেই মানুষ, সব জলই তীৰ্থজল যা তাপিতকে স্নিগ্ধ করে, তৃপ্ত করে তৃষিতকে । প্রথম শুনলুম এমন কথা, প্রথম দিলুম এক গণ্ড য জল, র্যার পায়ের ধুলোর এক কণা নিতে কেঁপে উঠত বুক । চণ্ডালিকা G: भ ওরে অবোধ মেয়ে, হঠাৎ এত বড়ো হোলো তোর বুকের পাট ! এ পাগলামির প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। জানিসনে কোন কুলে তোর জন্ম ? প্রকৃতি কেবল একটি গওয জল নিলেন আমার হাত থেকে, অগাধ অসীম হোলে৷ সেই জল । সাতসমুদ্র এক হয়ে গেল সেই জলে, ডুবে গেল আমার কুল, ধুয়ে গেল অামার জন্ম । - ম} তোর মুখের কথা মৃদ্ধ বদলে গেছে যে ! জাছ করেছে তোর কথাকে। কী বলিস নিজে বুঝতে পারিস কিছু ? প্রকৃতি সমস্ত শ্রাবস্তী নগরে আর কি কোথাও জল ছিল না মা ? এলেন কেন এই কুয়োরই ধারে ? এ’কেই তো বলি নতুন জন্মের পালা । আমাকে দান করতে এলেন মানুষের তৃষ্ণ মেটাবার শিরোপা । এই মহা চণ্ডালিকা ט\ পুণ্যই খুজিছিলেন । যে-জলে ব্রত হোলো পূর্ণ সে জল তো আর কোথাও পেতেন না, কোনো তীর্থে ই না । তিনি বললেন, বনবাসের গোড়াতেই জানকী এই জলেই স্নান করেছিলেন, সে জল তুলে এনেছিল গুহক চণ্ডাল । সেই অবধি নেচে উঠছে আমার মন, গভীর কণ্ঠে শুনতে পাচ্চি দিনরাত—দাও জল, দাও জল । গান বলে দা ও জল, দ ও জল । দেব আমি, কে দিয়েছে হেন সস্বল ৷ কালে মেঘ পানে চেয়ে এল ধেয়ে চাতক বিহবল— দাও জল দাও জল ॥ ভূমিতলে হার। উৎসের ধারা অন্ধকারে কারাগাবে } চণ্ডালিকা 속 কার সুগভীর বাণী দিল হানি কালে শিলাতল— দাও জল দাও জল মা কী জানি বাছা, ভালো ঠেকছে না। ওদের মস্তরের খেলা আমি বুঝি নে। আজ তোর কথা চিনছিনে, কাল তোর মুখ চিনতেই পারব না। ওদের এ যে প্রাণবদলানো মস্তর । প্রকৃতি চিনতে পার নি এতদিন । যিনি চিনেছেন তিনি চেনাবেন । তাই আছি তাকিয়ে। রাজদুয়ারে দুপুরের ঘণ্ট। বাজে, মেয়ের জল নিয়ে যায় ঘরে, শঙ্খচিল একলা ওড়ে দূর আকাশে, আমার ঘট নিয়ে এসে বসি কুয়োতলায় পথের ধারে । भ কার জন্যে ? চণ্ডালিকা سوا প্রকৃতি পথিকের জন্তে ? মা তোর কাছে কোন পথিক আসবে পাগলি । প্রকৃতি সেই এক পথিক, মা, সেই এক পথিক । তার মধ্যে আছে বিশ্বের সকল পথের সব পথিক । দিনের পর দিন চলে যায়, এলেন না তো । কোনো কথা না বলে তবু কথা দিয়ে গিয়েছিলেন কিন্তু রাখলেন না কেন কথা ? আমার মন যে হোলো মরুভূমির মতে, ধুধু করে সমস্ত দিন, হু হু করে তপ্ত হাওয়া, সে যে পারছে না জল দিতে । কেউ এসে চাইলে না। গান চক্ষে আমার তৃষ্ণ, ওগো তৃষ্ণা আমার বক্ষ জুড়ে । আমি বৃষ্টিবিহীন বৈশাখী দিন সন্তাপে প্রাণ যায় যে পুড়ে । চণ্ডালিকা >ৈ ঝড় উঠেছে তপ্ত হাওয়ায় মনকে স্থদুর শূন্যে ধাওয়ায়, অবগুণ্ঠন যায় যে উড়ে যে ফুল কানন করত আলো কালো হয়ে সে শুকাল । ঝরণারে কে দিল বাধা তাপের প্রতাপে বাধ৷ দুঃখের শিখরচুড়ে । ম। তোর অাজকেকার কথা কিছু বুঝতে পারছিনে, তোকে কী নেশা লেগেছে কী জানি । কী চাস, অামাকে সাদা করে বল । প্রকৃতি আমি চাই তাকে । তিনি আচমকা এসে আমাকে জানিয়ে গেলেন, অামার সেবাও চলবে বিধাতার ংসারে, এত বড়ো আশ্চৰ্য্য কথা ! সেবিকা অামি এই কথাটি নিন তুলে ধূলোর থেকে তার বুকের কাছে, এই ধূতরো ফুলটাকে । S e চণ্ডালিকা মা মনে রাখিস প্রকৃতি, ওদের কথা কানেই শোনবার, কাজে খাটাবার নয় । অদৃষ্টদোষে যে কুলে জন্মেছিস তার কাদার বেড়া ভাঙতে পারে এমন লোহার খোনতাও নেই কোনোখানে । অশুচি তুই, তোর অশুচি হাওয়া ছড়িয়ে বেড়াসনে বাইরে, যেখানে আছিস সেইখানটুকুতেই থাক সাবধানে । এই জায়গাটুকুর বাইরে সর্বত্রই তোর অপরাধ । প্রকৃতি গান ফুল বলে ধন্য তামি মাটির পরে, তা ওগে, তোমার সেবা আমার ঘরে জন্ম নিয়েছি ধূলিতে দয়া করে দাও ভুলিতে, নাই ধূলি মোর অন্তরে। নয়ন তোমার নত করে 1, দলগুলি কাপে থরে থরে । # ե চণ্ডালিক >> চরণ-পরশ দিয়ে দিয়ে৷ ধূলির ধনকে করে স্বৰ্গীয়, ধরার প্রণাম আমি তোমার তরে ৷ भी বাছা, কিছু কিছু বুঝতে পারি তোর কথা । তুই মেয়েমানুষ, সেবাতেই তোর পূজে, সেবাতেই তোর রাজত্ব । এক নিমিষে জাত ডিঙিয়ে যেতে পারে মেয়েরাই ; ধরা পড়ে সবাই তারা রাজরাণীর অংশ, যদি হঠাৎ সরে পড়ে ভাগ্যের পর্দাটা । সুযোগ তোর তো ঘটেছিল। মৃগয়ায় বেরিয়ে রাজার ছেলে এসেছিল তোরই এই কুয়োতলায়। মনে পড়ে তো ? প্রকৃতি হা মনে পড়ে । মা কেন গেলিনে রাজার ঘরে ? রূপ দেখে সে তো ভুলেছিল। >。 চণ্ডালিকা প্রকৃতি ভুলেছিল না তো কী । ভুলেইছিল যে আমি মানুষ ! পশু মারতে বেরিয়েছিল ;–চোখে ঠেকে পশুকেই, তাকেই চায় বাধতে সোনার শিকলে । भी তবু তো শিকার বলেও ঐ মুখ লক্ষ্য করেছিল সে । আর, ভিক্ষু, সে কি নারী বলে চিনেছে তোমাকে ? প্রকৃতি বুঝবে না তুমি বুঝবে না। আমি বুঝেছি, এতদিন পরে সে-ই আমাকে প্রথম চিনেছে । সে বড়ো আশ্চর্য্য ! গান ওগো তোমার চক্ষু দিয়ে মেলে সত্যদৃষ্টি, আমার সত্যরূপ প্রথম করেছ সৃষ্টি ॥ তোমায় প্রণাম, তোমায় প্রণাম, তোমায় প্রণাম শতবার ॥ আমি তরুণ অরুণ লেখা, আমি বিমল জ্যোতির রেখা, চণ্ডালিক। SS) আমি নবীন শ্যামল মেঘে প্রথম প্রসাদ বৃষ্টি । তোমায় প্রণাম, তোমায় প্রণাম, তোমায় প্রণাম শতবার ॥ প্রকৃতি র্তাকে চাই মা । নিতান্তই চাই । তার সামনে সাজিয়ে ধরতে চাই আমার এজন্মের পুজার ডালি । অশুচি হবে না তাতে র্তার চরণ । দেখুক সবাই আমার , স্পৰ্দ্ধা । গৌরব করে বলতে চাই আমি তোমার সেবিকা—নইলে সংসারে সবারই পায়ের কাছে চিরদিন বাধা পড়ে থাকতে হবে দাসী হয়ে । মা so মিছে রাগ করিস কেন বাছা । দাসীজন্মই যে তেরি । বিধাতার লিখন খণ্ডাবে কে । প্রকৃতি ছি ছি, মা, আবার তোকে বলছি ভুলিসনে, মিথ্যে নিন্দে রটাসনে নিজের, পাপ সে পাপ | রাজার বংশে 38 চণ্ডালিক। কত দাসী জন্মায় ঘরে ঘরে, আমি দাসী নই। ব্রাহ্মণের ঘরে কত চণ্ডাল জন্মায় দেশে দেশে, আমি নই চণ্ডাল । ম! তোর সঙ্গে কথা কইতে পারি এমন কথা আমি জানিনে । তা ভালো, আমি নিজে যাব তার কাছে । পায়ে ধরে বলব, তুমি অন্ন নিয়ে থাক সব ঘর থেকেই, অামার ঘরে কেবল এক গণ্ড ষ জল নিতে এসে । প্রকৃতি গান না না, ডাকব না ডাকব না আমন করে বাইরে থেকে । পারি যদি, অন্তরে তার ডাক পাঠাব আনব ডেকে ॥ দেবার ব্যথা বাজে আমার বুকের তলে, নেবার মানুষ জানিনে তো কোথায় চলে, এই দেওয়া-নেওয়ার মিলন আমার ঘটাবে কে ॥ মিলবে না কি মোর বেদন তার বেদনাতে, গঙ্গাধারা মিশবে না কি কালো যমুনাতে । চণ্ডালিকা * Ꮌ☾ আপনি কী সুর উঠল বেজে অাপনা হতে এসেছে যে, গেল যখন অাশার বচন গেছে রেখে ॥ পুথিবী যখন অনাবৃষ্টিতে ফেটে চোচীর, কী হবে মা এক ঘটি জল সংগ্রহ করে ? আপনি আসবে না মেঘ আপন টানে, আকাশ ভরে দিয়ে ? ম৷ এ সব কথা বলে লাভ কী ? মেঘ আপনি আসে তো আসে, না আসে তো আসেই না । ক্ষেত খন্দ যদি শুকিয়ে যায় তাতে কার কিসের গরজ ? আমরা আকাশে তাকিয়ে থাকি, আর কী করতে পারি ! প্রকৃতি সে হবে না । তাকিয়ে বসে থাকব না, মস্তর জানিস তুই, সেই মন্তর হোক আমার বাহুবন্ধন, আমুক তাকে টেনে । 지 ওরে সৰ্ব্বনাশী, বলিস কী ! সাহস কেবলি বাড়ছে দেখি ! গগুন নিয়ে খেলা ! এরা কি সাধারণ চণ্ডালিকা ›ማ প্রকৃত্তি না কিছুই থাকবে না ; আমার জন্মজন্মান্তরের সেই দায়, কিছুই থাকবে না, একেবারে সমস্তই মিটিয়ে দিতে পারলেই বেঁচে যাব । তাই তো চাই তাকে । কিছু থাকবে না আমার । আমার যুগযুগের অপেক্ষ করে থাকা এই জন্মেই সার্থক হবে, মন কেবলি তাই বলছে । সার্থক হবে । সেইজন্তেই তো শুনলুম এমন আশ্চৰ্য্য কথা—জল দাও । আজ জেনেছি আমি ও পারি দিতে । এই কথা সবাই আমাকে ভুলিয়ে রেখেছিল । দেব দেব, তাজ আমার সব কিছু দেব বলেই বসে আছি তার পথ চেয়ে । | তুই ধৰ্ম্ম মানিস নে ? প্রকৃতি কী করে বলব ! তাকেই মানি যিনি তামাকে মানেন । যে ধৰ্ম্ম অপমান করে সে ধৰ্ম্ম মিথ্যে । অন্ধ করে মুখ বন্ধ করে—সবাই মিলে সেই ধৰ্ম্ম আমাকে মানিয়েছে । কিন্তু সেদিন থেকে এই ধৰ্ম্ম মান আমার বারণ । কোনো ভয় অfর নেই আমার— ૨ b* চণ্ডালিক{ পড়, তোর মন্তর, ভিক্ষুকে নিয়ে আয় চণ্ডালের মেয়ের পাশে । আমিই দেব তাকে সম্মান । এত বড়ে সম্মান আর কেউ দিতে পারবে না । গান আমি তারেই জানি তারেই জানি আমায় যে জন আপিন জানে,— তারি দানে দাবী অামার যার অধিকার অামার দানে ॥ যে অামারে চিনতে পারে সেই চেনাতেই চিনি তারে, একই আলো চেনার পথে তার প্রাণে অণর আমার প্রাণে । আপন মনের অন্ধকারে ঢাকল যারা, অামি তাদের মধ্যে আপন-হারা । ছু ইয়ে দিল সোনার কাঠি, ঘুমের ঢাকা গেল ফাটি, নয়ন আমার ছুটেছে, তার আলো-করা মুখের পানে ॥ চণ্ডালিকা డిసి והג শাপ লাগার ভয় করিসনে তুই ? প্রকৃতি শাপ তো লেগেই অাছে জন্মকাল থেকে । এক শাপের বিষে অার এক শাপের বিষ ক্ষয় হয়ে যায় । কোনো কথাই শুনব ন ম শুনব না, শুনব না । স্বরু করে দে মন্ত্র । পারব না দেরি সইতে । ম] আচ্ছা, ত হোলে কী নাম তার বল । প্রকৃতি তার নাম আনন্দ ম! আনন্দ ? ভগবান বুদ্ধের শিষ্য ? প্রকৃতি হঁ। সেই ভিক্ষু । ম! তুই আমার বুক-চেরা ধন, আমার চোখের মণি,— তোর কথাতেই এত বড়ো পাপে হাত দিচ্চি । < ο চ গুলিক। প্রকৃতি কিসের পাপ ! যিনি সবাইকেই কাছে আনেন র্তাকে কাছে অানব তাতে দোষ হয়েছে কী ? ম{ ওঁরা পুণ্যের জোরে টেনে আনেন মানুষকে । আমরা মস্তুর পড়ে টানি, পশুকে টানে যে-ফঁাসে । আমরা মথন করে তুলি পাক । প্রকৃতি ভালোই সে ভালোই, নইলে পঙ্কোদ্ধার হয় না । ম। ওগো তুমি মহাপুরুষ, অপরাধ করবার শক্তি আমার যত, ক্ষমা করবার শক্তি তোমার তার চেয়ে অনেক বেশি। প্রভু, অসম্মান করতে বসেছি তবু প্রণাম গ্রহণ করে । প্রকৃতি কিসের ভয় তোমার মা ! মন্ত্র আমিই পড়ছি মায়ের মুখ দিয়ে। আমার বেদন যদি তানে তাকে টেনে, আর তাই যদি হয় অপরাধ, তবে করবই তাপরাধ, চণ্ডালিকা २S করবই । যে বিধানে কেবল শাস্তিই আছে সাম্বন৷ নেই মানব না সে বিধানকে । গান দোষী কলে, দোষী করে । ধূলায়-পড়া মান কুস্থম পায়ের তলায় ধরে ৷ অপরাধে ভরা ডালি নিজ হাতে করে খালি, তারপরে সেই শূন্য ডালায় তোমার করুণ ! ভরো ॥ তুমি উচ্চ আমি তুচ্ছ, ধরব তোমায় ফ’াদে অামার অপরাধে । আমার দোষকে তোমার পুণ্য করবে তো কলঙ্কশূন্ত, ক্ষমায় গেথে সকল ক্রটি গলায় তোমার পরে ॥ ম। আচ্ছ। সাহস তোর প্রকৃতি । २९ চণ্ডালিক । প্রকৃতি আমার সাহস ! ভেবে দেখ, তার সাহসের জোর ! কেউ যে-কথা আমার কাছে বলতে পারেনি তিনি সহজেই বললেন–জল দাও । ঐটুকু বাণী, তার তেজ কত,—আলো করে দিলে আমার সমস্ত জন্ম, বুকের উপরে কালে। পাথরটা চিরকাল চাপ ছিল, দিলে সেটাকে ঠেলে, উছলে উঠল রসের ধারা । মিথ্যে তোর ভয়, তুই যে তাকে দেখিসনি। সমস্ত সকালবেল ভিক্ষা শেষ করলেন শ্রাবস্তীনগরে, এলেন মাঠ পেরিয়ে, শ্মশান পেরিয়ে, নদীর তীর বেয়ে, প্রখর রৌদ্র মাথায় করে । কিসের জন্যে ? আমার মতো মেয়েকেও কেবল ঐ একটি কথা বলবার জন্তে— জল দাও । মরে যাই, মরে যাই । কোথা থেকে নামল এত দয়া এত প্রেম ! নামল সেই ভীরুর কাছে যে সবার চেয়ে অযোগ্য । আর কিসের ভয় অামার ! জল দাও ! সেই জল-যে আমার এ জন্ম ভরে উপচে উঠেছে, না দিতে পারলে তো বঁ1চব না । জল দাও ! এক নিমেষে জেনেছি জল আছে আমার, অষ্ণুরান জল, সে আমি জানাব ককে ? তাই তো ডাকছি দিনরাত । শুনতে যদি না পান, ভয় নেই, দে তোর মন্তর পড়ে । সইবে তার সইবে । চণ্ডালিকা Rరి भ} মাঠ-পারের রাস্ত দিয়ে ঐ যে কারা চলেছে প্রকৃতি, পীতবসন পরা । প্রকৃতি তাই তো, ও যে দেখছি সংঘের সব শ্রমণ। শুনছ না পড়ছেন মন্ত্র ? ( পথে শ্রমণেবা ) বুদ্ধো স্বযুদ্ধে করুণা মহাপ্লবে। যোচ্চন্ত স্থদ্ধকবর-এঃান লোচনে, লোকস্স পাপুপকিলেসঘাতকো বন্দামি বুদ্ধং অহমাদরেণ তং । প্রকৃতি মা, ঐ যে তিনি চলেছেন সবার আগে আগে। এই কুয়োতলার দিকে ফিরে তাকালেন না। আর একবার তো বলে যেতে পারতেন, জল দাও । মনে হয়েছিল তামাকে উনি ফেলে যেতে পারবেন না—আমি যে ওঁর নিজের হাতের নতুন স্থষ্টি । ( বসে পড়ে বারবার মাটিতে মাথা ঠুকে ) এই মাটি, এই মাটি, এই ૨8 চণ্ডালিকা মাটিই তোর আপন—হতভাগিনী, কে তোকে আলোতে ফুটিয়ে তুলেছিল এক মুহূৰ্ত্তের জন্তে ? তাকে কি দয়া বলে ? শেষে পড়তে হোলে এই মাটিতেই—চিরদিন মিশিয়ে থাকতে হবে এই মাটিতেই, যত লোক চলে রাস্তায় তাদের পায়ের তলায় । וזל বাছা, ভুলে যা, ভুলে যা এ সমস্ত কিছু। তোর এক নিমেষের স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে ওরা যাচে চলে, যাক যাক । যা টেকবার নয় তা যত শীঘ্ৰ যায় ততই マう書び斉|| প্রকৃতি এই প্রতিদিনের চাই চাই চাই, এই প্রতি মুহূৰ্ত্তের অপমান, বুকের ভিতরে এই খাচীর পাখীর পাখাআছড়ে-মরা, একেই বলে স্বপ্ন ? যা বুকের সব শির। কামড়ে ধরে থাকে ছড়িতে চায় না তাই স্বপ্ন ? অার ঐ ওরা, নেই কোনো বাধন, নেই কোনো সুখদুঃখ, নেই কোনো সংসারের বোঝা—ভেসে চলে যায় শরৎকালের মেঘের মতো—ওরাই আছে জেগে, ওরাই স্বপ্ন নয় ? : চণ্ডালিকা ২৫ ম তোর কষ্ট দেখতে পারিনে প্রকৃতি । ওঠ, তুই । আনবই তাকে মন্ত্র পড়ে। নিয়ে আসব ধুলোর পথ দিয়েই । কিছু চাই না’ বলার অহঙ্কার ভাঙব তার,— ‘চাই চাই’ বলেই আসতে হবে তাকে ছুটে ! প্রকৃতি মা, তোমার মন্ত্র জীবস্মৃষ্টির আদিকালের । এদের মন্ত্র কাচা এই সেদিনকার ! ওরা পারবে না তোমার সঙ্গে । তোমার মন্ত্রের টানে খুলবে ওদের মস্ত্রের গাঠ । ওঁকে হরতেই হবে, হারতেই হবে । ম। কোথায় যাচ্চে ওরা ? প্রকৃতি ওরা যায় এইমাত্র জানি, ওরা কোনোখানেই যায় না। বর্ষ। আসবে কিছুদিন পরে তখন বসবে চাতুম্ম স্ত্যে । আবার যাবে, কী জানি কোথায় । এ’কেই ওরা বলে জেগে থাকা ! পাগলি, তবে কী বলছিস মন্তরের কথা ? চলে যাচ্চে কত দূরে,—কোথা থেকে আনিব ফিরিয়ে ? २७> চগুলিকা প্রকৃতি যেখানেই যাক ফেরাতেই হবে, দূর নেই তোর মন্তরের কাছে । গান যায় যদি যাক সাগরতীরে । আবার আসুক, তাবার আসুক, আস্থক ফিরে ! রেখে দেল আসেন পেতে হৃদয়েতে, পথের ধূলো ভিজিয়ে দেব অশ্রুনীরে । যায় যদি যাক শৈলশিরে তাস্থক ফিরে আসুক ফিরে । লুকিয়ে রব গিরিগুহায় ডাকব উহায়, আমার স্বপন ওর জাগরণ রইবে ঘিরে ॥ অামাকে করলে ন! দয়া, আমি ওকে দয়া করব না। তোর সব চেয়ে যে নিষ্ঠুর মন্ত্র, পড়িস তাই—পাকে পাকে দাগ দিয়ে দিয়ে জড়াক ওর মনকে । যাবে কোথায় আমাকে এড়িয়ে, পারবে কেন ? চণ্ডালিকা 업 ग ভাবনা করিসনে । অসাধ্য হবে না । তোকে দেব মায়াদর্পণ । সেইটি হাতে নিয়ে নাচবি । তার ছায়া পড়বে তাতে । সেই আয়নাতেই দেখতে পাবি কী হোলো তার, কতদূর সে এল । প্রকৃতি ঐ দেখ, পশ্চিমে জমল মেঘ, ঝড়ের মেঘ । মন্ত্র খাটবে না, খাটবে। উড়ে যাবে শুষ্ক সাধন, শুকনে পাতার মতো । নিবৰে বাতি। পথ দেখা যাবে না, ঘুরে ঘুরে এসে পড়বে এই দরজায়, নিশীথ-রাতে ঝড়ে বাসাভাঙা পাখী যেমন করে এসে পড়ে অন্ধকার আঙিনায় । বুক ছরজুর করছে, মনের মধ্যে ঝিলিক দিচ্চে বিজুলি, ফেনিয়ে ফেনিয়ে ঢেউ উঠছে যে-সমুদ্রে, তার পর দেখিলে । মা এখনো ভেবে দেখ । মাঝখানে তো তাৎকে উঠবিনে ভয়ে ? ধৈর্য্য থাকবে তোর ? মন্ত্রের বেগ চড়ে যাবে যখন, হঠাৎ ঠেকতে গেলে আমার প্রাণ বেরিয়ে যাবে। জলবার জিনিষ সমস্ত যাবে ছাই হয়ে তবে নিববে আগুন, এই কথাটা মনে রাখিস । Հե- চণ্ডালিক। প্রকৃতি তুই ডরছিস কার জন্যে ? সে কি তেমনি মানুষ ? কিছুতে কিছু হবে না তার—শেষ পর্য্যন্তই আস্থক সে চলে, আগুনের পথ মাড়িয়ে মাড়িয়ে । আমি মনের মধ্যে দেখতে পাচ্চি সামনে প্রলয়ের রাত্রি, মিলনের ঝড়, ভাঙনের আনন্দ । গান হৃদয়ে মন্দ্রিল ডমরু গুরু গুরু, ঘন মেঘের ভুরু, কুটিল কুঞ্চিত, তোলে। রোমাঞ্চিত বন বনান্তর ; দুলিল চঞ্চল বক্ষ হিন্দোলে মিলন স্বপ্নে সে কোন অতিথি রে সঘন-বর্ষণ-শব্দ-মুখরিত বজ্র-সচকিত ত্রস্ত শর্বর্বরী, মালতী-বল্লবী কঁপিায় পল্লব করুণ কল্লোলে, কানন শঙ্কিত ঝিল্লিঝঙ্কত । প্রকৃতি বুক ফেটে যাবে ! আমি দেখব না আয়না, দেখতে পারব না। কী ভয়ঙ্কর দুঃখের ঘূর্ণিঝড় ! বনস্পতি শেঘকালে কি মড়মড় করে লুটোৰে ধূলোয়, অভ্ৰভেদী গৌরব তাঁর পড়বে ভেঙে ? ठी দেখ বাছা, এখনো যদি বলিস, ফিরিয়ে আনবার চেষ্টা করি আমার মন্ত্রকে । তাতে আমার নাড়ী ছিড়ে যায় যদি, য{য় নিজের প্রাণ, সেও ভালে। কিন্তু ঐ r মহাপ্রাণ রক্ষে পাক । প্রকৃতি সেই ভালো মা, থাক তোমার মন্ত্র । আর কাজ নেই –না না না না—পথ আর কতখানিই বা ! শেষ চণ্ডালিকা ○> প্রকৃতি ভয় নেই মা, আর একটু সয়ে থাক্ ! একটুখানি । বেশি দেরি নেই। १] আষাঢ় তো পড়েছে, ওঁদের চাতুৰ্ম্মাস্ত তো আরম্ভ হোলো । প্রকৃতি ওঁরা গেছেন বৈশালীতে গোশিরসংঘে । 자 কী নিষ্ঠুর তুই ! সে যে অনেক দূর । প্রকৃতি বহুদূর নয়। সাত দিনের পথ । পনেরে দিন তো কেটে গেল। এতদিনে মনে হচ্চে টলেছে আসন, আসছে আসছে, যা বহুদূর, যা লক্ষযোজন দূর, যা চন্দ্রসূৰ্য্য পেরিয়ে, আমার দু-হাতের মাগাল থেকে যা অসীম দূরে তাই আসছে কাছে। আসছে, কঁপিছে আমার বুক ভূমিকম্পে । ৩২ চণ্ডালিকা ম{ মন্ত্রের সব অঙ্গ পূর্ণ করেছি—এতে বজ্রপাণি ইন্দ্রকে আনতে পারত টেনে। তবু দেরি হচ্চে। কী মরণান্তিক যুদ্ধই চলছে। কী দেখেছিলি তুই আয়নাতে ? প্রকৃতি প্রথম দেখেছি আকাশজোড় কুয়াশী, দৈত্যের সঙ্গে লড়াই করে ক্লান্ত দেবতার ফ্যাকাশে মুখের মতো । কুয়াশার ফঁাকে ফাকে বেরোচ্চে আগুন । তার পরে কুয়াশটি। স্তবকে স্তবকে ছি ড়ে ছিড়ে গেল— ফুলে-ওঠা ফেটে-পড়া প্রকাণ্ড পিযফোড়ার মতে—ললে হয়ে উঠল রং । সেদিন গেল। পরের দিন দেখি পিছনে ঘন কালে মেঘ, বিদ্যুৎ খেলছে, সামনে দাড়িয়ে তাছেন তিনি—জ্বলছে আ গুন সৰ্ব্বাঙ্গ ঘিরে । আমার حاصر রক্ত এল হিম হয়ে । ছুটে তোকে বলতে গেলুম—এখনি দে তোর মন্ত্র বন্ধ করে । গিয়ে দেখি তুই শিবনে ত্র, কাঠের মতো বসে, ঘন ঘন নিশ্বাস পড়ছে, জ্ঞান নেই। মনে হোলো তোর মধ্যেও কোনোখানে দাউ দাউ জলছে আগুন । যে পাবক দিয়ে তিনি ঢেকেছেন আপনাকে, তোর অগ্নিনাগিনী ফোস ফোস করে তাকে ছোবল চণ্ডালিকা SJ) মারছে, চলছে দ্বন্দ্বযুদ্ধ। ফিরে এসে আয়না তুলে দেখি আলো গেছে—শুধু ছঃখ দুঃখ হুঃখ, অসীম হুঃখের মূৰ্ত্তি। I মরে পড়ে গেলিনে তাই দেখে ! তারি তো ঝলক লেগেছিল অামার প্রাণের মধ্যে, মনে হোলো অার সইবে না । প্রকৃতি যে দুঃখের রূপ দেখেছি সে তো তার একলার নয়, সে অামারও ; আমাদের দু-জনের । ভীষণ আগুনে গলে মিশেছে সোনার সঙ্গে তাবা । 지 ভয় হোলো না তোর মনে ? প্রকৃতি ভয়ের চেয়ে অনেক বেশি—মনে হোলো দেখলুম স্থষ্টির দেবতা, প্রলয়ের দেবতার চেয়ে ভয়ঙ্কর— আগুনকে চবিকাচ্ছেন তার কাজে, তার অাগুন কেবলি গোমরাচ্চে গজ্জাচ্চে । সপ্তধাতুর কেীটোতে কী আছে (يا O8 চণ্ডালিকা তার পায়ের সামনে—প্রাণ না মৃত্যু ? আমার মনে ফুলতে লাগল একটা আনন্দ । তাকে কী বলব ? বলব নতুন স্থষ্টির বিরাট বৈরাগ্য। ভাবনা নেই, ভয় নেই, দয়া নেই, তুঃখ নেই,—ভাঙছে, জ্বলে উঠছে, গলে যাচ্চে, ছিটুকে পড়ছে ফুলিঙ্গ থাকতে পারলুম না, আমার সমস্ত শরীর মন নেচে নেচে উঠল, অগ্নিশিখার মতো । গান হে মহাতুঃখ, হে রুদ্র, হে ভয়ঙ্কর, ওহে শঙ্কর, হে প্রলয়ঙ্কর । হোক জটানিঃস্থত অগ্নিভুজঙ্গমদংশনে জর্জর স্থাবর জঙ্গম, ঘন ঘন ঝনঝন, বাননন ঝননন পিণাক টঙ্করে। মা কী রকম দেখলি তোর ভিক্ষুকে ? প্রকৃতি দেখলুম তার অনিমেষ দৃষ্টি বহুদূরে তাকিয়ে, চণ্ডালিকা වේද গোধূলি আকাশের তারার মতো । ইচ্ছে হোলো আপনার কাছ থেকে চলে যাই অনন্ত যোজন দূরে । 지 তুই আয়নার সামনে তখন নাচছিলি—তিনি ==ے দেখতে প{{চছলেন । প্রকৃতি ধিক্ ধিক্‌ কী লজ্জা । মনে হচ্ছিল থেকে থেকে চোখ লাল হয়ে উঠছে, অভিশাপ দিতে যাচ্ছেন । আবার তখনি পা দিয়ে মাড়িয়ে দলে ফেলছেন রাগের অঙ্গারগুলো । শেষ কালে দেখলেম তার রাগ ফিরল কাপতে কপিতে শেলের মতো নিজের দিকে—বি ধল গিয়ে মৰ্ম্মের মধ্যে । भ{ সমস্ত সহ্য করলে তুই ? প্রকৃতি আশ্চৰ্য্য হয়ে গেলুম। আমি, এই আমি, এই তোমার মেয়ে, কোথাকার কে তার ঠিকন। নেই—তার দুঃখ আর এর দুঃখ আজ এক । কোন চণ্ডালিকা ويSON স্থষ্টির যজ্ঞে এমন ঘটে—এত বড়ো কথা কেউ কোনোদিন ভাবতে পারত ? भी এই উৎপাত শান্ত হবে কতদিনে ? প্রকৃতি যতদিন না অামার দুঃখ শান্ত হবে । ততদিন দুঃখ তাকে দেবই । আমি মুক্তি যদি না পাই তিনি মুক্তি পাবেন কী করে ? ম৷ তোর আয়না শেষ দেখেছিস কবে ? প্রকৃতি কাল সন্ধ্যেবেলায় । বৈশালীর সিংহদরজা পেরিয়েছেন কিছুদিন আগে, গভীর রাত্রে । বোধ হয় গোপনে, শ্রমণদের না জানিয়ে । তার পরে কখনো দেখেছি নদী পেরলেন খেয়া নৌকোয়, দেখেছি দুর্গম পাহাড়ে, দেখেছি সন্ধ্যে হয়ে এসেছে, মাঠে তিনি এক, দেখেছি অন্ধকারে গভীর রাত্রে বনের পথে । যত যাচ্চে দিন, স্বপ্নের ঘোর আসছে ঘন হয়ে, চলেছেন চণ্ডালিকা రిa কোনো বিচার না করে, নিজের সঙ্গে সমস্ত দ্বন্দ্ব শেষ করে দিয়ে। মুখে একটা বিহবলতা, দেহে একটা শৈথিল্য—জুই চোখের সামনে যেন বস্তু নেই, নেই সত্য মিথ্যা, নেই ভালোমন্দ, অাছে চিন্তহীন অন্ধ লক্ষা, নেই তার কোনো অর্থ । ম৷ আজ কোথায় এসেছেন আন্দাজ করতে পারিস ? প্রকৃতি কাল সন্ধ্যার সময় দেখেছি উপলী নদীর ধারে পাটল গ্রামে । নববর্ষায় জলের ধারা উন্মত্ত,—ঘাটের কাছে পুরোনো পিপুল গাছ-—জোনাকি জ্বলছে ডালে ডালে, তলায় শেওলা-ধরা বেদী—সেইখানে এসেই হঠাৎ চমকে দাড়ালেন। অনেকদিনের চেনা জায়গা, শুনেছি ঐখানে বসে ভগবান বুদ্ধ একদিন রাজা মু প্রভাসকে উপদেশ দিয়েছিলেন । তুই হাতে মুখ ঢেকে বসে পড়লেন, স্বপ্ন বুঝি ভাঙল হঠাৎ ৷ তখনি ছুড়ে ফেলে দিলেম আয়না—ভয় হোলো কী জানি কী দেখব । তারপরে গেছে সমস্ত দিন, কিছু জানতে চাইনি, আশা করছি, আশা ছাড়ছি—এমনি চণ্ডালিকা سوالفنية করে আাছি বসে —এখন রাত আসছে অন্ধকার হয়ে । প্রহরী হাক দিয়ে চলেছে রাস্তায়, এক প্রহর গেল বুঝি কেটে ! আর সময় নেই, সময় নেই মা, এ রাত ব্যর্থ করিসনে । তোর সব জোরটা দে ঐ মন্ত্রে । 지 আর পারছিনে বাছা । মন্ত্র তুৰ্ব্বল হয়ে এল, তামার প্রাণ ও শরীর এসেছে তা বশ হয়ে । প্রকৃতি দুৰ্ব্বল হোলে চলবে না। দিসনে হাল ছেড়ে । ফেরবার দিকে মুখ ফিরিয়েছেন বা, বধিনে শেষ টান পড়েছে---হয়তে টিকবে না । হয়তো বেরিয়ে যাবেন অামার এ জন্মের সংসার থেকে, আর পাব না নাগাল কিছুতেই। তখন আমারই স্বপ্নের পাল, আবার চণ্ডালিনীর মায়ামূৰ্ত্তি। পারব ন সইতে সেই মিথ্যে । পায়ে পড়ি মা, দে একবার তোর সমস্ত শক্তি । এবার স্থরু কর তোর বসুন্ধর মন্ত্র, টলতে থাক পুণ্যবানদের তুষিত স্বর্গলোক । চণ্ডালিকা ՎՉՏ) গান আমি তোমারি মাটির কন্যা, জননী বসুন্ধরা । তবে অামার মানবজন্ম কেন বঞ্চিত করা ॥ পবিত্র জানি যে তুমি পবিত্র জন্মভূমি, মানব কন্য। আমি যে ধন্ত্যা প্রাণের পুণ্যে ভরা ॥ কোন স্বর্গের তরে ওরা তোমায় তুচ্ছ করে, রতি’ তোমার বক্ষ পরে । অামি যে তোমারি অাছি নিতান্ত কাছাকাছি, তোমর মোহিনীশক্তি দাও আমারে হৃদয়-প্রাণহর । ম। যেমন বলেছিলেম তেমনি প্রস্তুত হয়েছ তো ? 8 o চণ্ডালিকা প্রকৃতি হয়েছি। কাল ছিল শুক্লাদ্বিতীয়ার রাত, করেছি গম্ভীরায় অবগাহন স্নান । এই তো চাল দিয়ে, দাড়িমের ফুল দিয়ে, সি দূর দিয়ে, সাতটি রত্ন দিয়ে, চক্র একেছি আঙিনায় । পুতেছি হলদে কাপড়ের ধ্বজ গুলি, থালায় রেখেছি মাল! চন্দন, জালিয়েছি বাতি । স্নানের পর কাপড় পরেছি ধানের অস্কুরের রং, চাপার রঙের ওড়না—পূব দিকে আসন করে সমস্ত রাত ধ্যান করেছি তার মূৰ্ত্তি । ষোলোটি সোনালি স্বতোয় যোলেটি গ্রন্থি দিয়ে রাখী পরেছি বা হাতে । 지 আচ্ছা, তবে নাচে তোমার সেই আহবানের নাচ— প্রদক্ষিণ করে । অামি বেদীর কাছে মন্ত্র পড়ছি । গান মম রুদ্ধ মুকুলদলে এসো সৌরভ অমৃতে । মম আখ্যাত তিমিরতলে এসে। গৌরব নিশীথে ॥ চণ্ডালিকা 8X. এই মূল্যহারী মম শুক্তি এসে মুক্তাকণায় তুমি মুক্তি, মম মৌনী বীণার তারে তারে এসো সঙ্গীতে ॥ নব অরুণের এসে আহবান চির রজনীর হোক অবসান, এসে । এসো শুভস্মিত শুকতারায়, এসো শিশির অশুরুধারায়, সিন্দুর পরাও উষারে তব রশ্মিতে ॥ প্রকৃতি, এইবার তোমার আয়নাটা নিয়ে দেখো । দেখছ কালো ছায় পড়েছে বেদীটার উপরে ? আমার বুক ভেঙে যাচ্চে পারছিনে। দেখো আয়নাটা, আর কত দেরি । প্রকৃতি না দেখব না দেখব না—আমি শুনব মনের মধ্যে ধ্যানের মধ্যে । হঠাৎ সামনে দেখব যদি দেখা দেন । আর একটু সয়ে থাকো মা—দেবেন দেখা, নিশ্চয় দেবেন। ঐ দেখে হঠাৎ এল ঝড়, আগমনীর ঝড়, 8之 চণ্ডালিকা পদভরে পৃথিবী কঁপিছে থরথরিয়ে, বুক উঠছে গুরগুর করে । ম! তানছে তোর অভিশাপ হতভাগিনী। তামাকে তো মেরে ফেললে ! ছিড়ল বুঝি শিরাগুলো । প্রকৃতি অভিশাপ নয়, অভিশাপ নয়, আনিছে অামার জন্মান্তর, মরণের সিংহদ্বার খুলছে, বজের হাতুড়ি মেরে । ভাঙল দরজা, ভাঙল প্রাচীর, ভাঙল আমার এ জন্মের সমস্ত মিথ্যে । ভয়ে কপিছে অামার মন, আনন্দে তুলছে আমার প্রাণ ( ও অামার সবর্বনাশ, ও আমার সবর্বস্ব, তুমি এসেছ—আমার সমস্ত অপমানের চূড়ায় তোমাকে বসাব, গাথর তোমার সিংহাসন । iমার লজ্জা দিয়ে ভয় দিয়ে আনন্দ দিয়ে । সময় হয়ে আসছে আমার । আর পারছিনে । শীগগির দেখ তোর আয়নাটা ! প্রকৃতি মা ভয় হচে । তার পথ আসছে শেষ হয়ে— চণ্ডালিকা 8-9 তার পরে ? তারপরে কী ? শুধু এই অামি । আর কিছু না । এতদিনের নিষ্ঠুর দুঃখ এতেই ভরবে ? শুধু আমি ? কিসের জন্যে এত দীর্ঘ এত দুর্গম পথ ! শেষ কোথায় এর । শুধু এই অামাতে ! গান পথের শেষ কোথায় শেষ কোথায় কী অাছে শেষে ? এত কামনা এত সাধনা কোথায় মেশে ? ঢেউ ওঠে-পড়ে কাদার, সম্মুখে ঘন আঁধার, পার তা{ছে কোন দেশে অাজ ভাবি মনে মনে মরীচিকা অন্বেষণে বুঝি তৃষ্ণার শেষ নেই মনে ভয় লাগে সেক্ট, হাল-ভাঙা পাল-ছেড়া ব্যথা চলেছে নিরুদেশে ॥ 88 চণ্ডালিকা মা ও নিষ্ঠুর মেয়ে, দয়া কর আমাকে । আমার আর সহ হয় না । শীগগির আয়নাটা দেখ । প্রকৃতি ( আয়নাটা দেখেই ফেলে দিল ) মা, ওমা, ওমা, রাখ রাখ রাখ রাখ, ফিরিয়ে নে ফিরিয়ে নে তোর মন্ত্ৰ ! এখনি, এখনি ওরে ও রাক্ষুসী, কী করলি, কী করলি, তুই মরলিনে কেন ? কী দেখলেম ! ওগে। কোথায় অামার সেই দীপ্ত উজ্জ্বল সেই শুভ্ৰ নিৰ্ম্মল সেই সুদূর স্বর্গের আলো ! কী স্নান, কী ক্লান্ত, আত্মপরাজয়ের কী প্রকাণ্ড বোঝা নিয়ে এল আমার দ্বারে । মাথ। হেঁট করে এল ! যাক, যাক, এ সব যাক—( পা দিয়ে মন্ত্রের উপকরণ ভেঙে ছড়িয়ে ফেললে )—ওরে তুই চণ্ডালিনী না হোস যদি, অপমান করিস নে বীরের । জয় হোক তার জয় হোক । ( আনন্দের প্রবেশ ) প্রভু এসেছ আমাকে উদ্ধার করতে—তাই এত তুঃখই পেলে—ক্ষমা কোরো ক্ষমা কোরো । অসীম গ্লানি পদাঘাতে দূর করে দাও । টেনে এনেছি