নেতাজীর জীবনী ও বাণী/আজাদ হিন্দ ফৌজের জন্য নেতাজীর বিভিন্ন ঘোষণা, নির্দ্দেশনামা ও বাণী

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন

আজাদ হিন্দ ফৌজের জন্য নেতাজীর বিভিন্ন ঘোষণা, নির্দেশনামা ও বাণী

আজাদ হিন্দ গভর্ণমেন্টের ঘোষণা

শোনান, ২১শে অক্টোবর ১৯৪৩ সাল

 “১৭৫৭ সালে বাঙালাদেশে বৃটিশের হাতে প্রথম পরাজয়ের পর ভারতবর্ষের জনগণ একশত বৎসর পরে বিরামহীন প্রচণ্ড সংগ্রাম চালিয়েছে।............

 সিরাজদ্দৌলা, বাঙালার মোহনলাল, হায়দারালী, টিপু সুলতান, দক্ষিণ ভারতের ভেলু তাম্পি, আপ্পাসাহেব ভোঁসলে, মহারাষ্ট্রের পেশোয়া বাজীরাও, অযোধ্যার বেগম, পাঞ্জাবের সর্দার শ্যাম সিং আত্রিওয়ণ, ঝাসীর রাণী লক্ষ্মীবাঈ, তাঁতিয়াটোপি, দুমরাওয়নের মহারাজ কুনোয়ার লিং, নানা সাহেব এবং আরো বহু বীরের গৌরবপূর্ণ নাম ইতিহাসের পৃষ্ঠায় স্বর্ণাক্ষরে লিখিত রয়েছে।

 ১৮৫৭ সালের পর বৃটিশ কর্তৃক নিরস্ত্র হ’য়ে সমগ্র ভারতের জনগণ কিছুকাল হতাশ এবং বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। কিন্তু ১৮৮৫ সালে কংগ্রেসের জন্মের পর ভারতীয়দের অন্তরে নবজাগরণের ঢেউ লাগল।............ পরিশেষে ১৯২০ সালে...মহাত্মা গান্ধী অসহযোগিতা ও আইন অমান্যরূপ......নতুন আন্দোলন আরম্ভ করেন।

 এরপর বিশ বছর চলে গেল। এ সময়ের মধ্যে ভারতীয়গণ নানা প্রকার দেশপ্রেমমূলক কাজ করেছে।......ভারতবাসী শুধু রাজনৈতিক চেতনাই লাভ করল না তারা একটি অখণ্ড রাজনৈতিক সত্তায় পরিণত হল।


 এমনিভাবে বর্তমান সামগ্রিক যুদ্ধের প্রাক্কালে ভারতের মুক্তির শেষ সংগ্রামের জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত হল।.........

 “পরিপূর্ণ সমরায়োজন” ধ্বনিতে অনুপ্রাণিত হয়ে পূর্ব এশিয়ায় আজ বিশলক্ষাধিক ভারতীয় এক সুসংবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে সম্মিলিত হয়েছে। তাদের সম্মুখে রয়েছে―ভারতের আজাদ হিন্দ ফৌজ―তাদের মুখে, দৃঢ়তাপূর্ণ বুলি হল―দিল্লী চলো

 কপটতা ও ভণ্ডামীদ্বারা বৃটিশ শাসকগোষ্ঠী ভারতীয়দের শুভেচ্ছা ও সহানুভূতি হতে বঞ্চিত হয়েছে। এক্ষণে বৃটিশরাজ অতীব সঙ্কটজনক পরিস্থিতির মধ্যে অবস্থান করছে। মাত্র একটি অগ্নিস্ফুলিঙ্গের প্রয়োজন এই অপ্রীতিকর শাসন ব্যবস্থার শেষ চিহ্ন লোেপ করবার জন্য। আজাদি ফৌজের উপরই ভার পড়েছে নেই অগ্নিস্ফুলিঙ্গ সৃষ্টির। স্বদেশে অসামরিক জনগণের এবং বৃটিশ সরকার গঠিত ভারতীয় সৈন্যবাহিনীর বহু লোকের বিপুল সমর্থনে, বিদেশে আমাদের অজেয় মিত্রবর্গের সহায়তায় এবং আত্মশক্তির উপর সম্পূর্ণ নির্ভর করে ভারতীয় আজাদী ফৌজ তাদের ঐতিহাসিক ভূমিকায় সফলতা লাভ করবে বলে একান্তভাবে বিশ্বাস করে।

 স্বাধীনতা আসন্ন। আজ প্রত্যেক ভারতবাসীর কর্তব্য একটি অস্থায়ী গভর্ণমেন্ট গঠন করে তারই পতাকাতলে সমবেত হয়ে স্বাধীনতার শেষ সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া। কিন্তু ভারতের প্রতিটি নেতা আজ কারাগারে; জননাধারণ নিরস্ত্র, এমতাবস্থায় ভারতে অস্থায়ী গভর্ণমেন্ট গঠন করা অথবা সে গভর্ণমেন্টের পরিচালনায় সশস্ত্র বিপ্লব সংগঠন করা সম্ভব নহে। সে জন্যই পূর্ব এশিয়ার স্বাধীনতা লীগের কর্তব্য হল স্বদেশ ও বিদেশের সকল দেশ প্রেমিকের সমর্থনে স্বাধীন ভারতের অস্থায়ী গভর্নমেন্ট গঠন করা। আজাদ হিন্দ ফৌজের সাহায্যে স্বাধীনতার শেষ সংগ্রাম পরিচালনা করতে হবে।

 “ভারতীয় স্বাধীনতা লীগ” এক্ষণে পূর্ব এশিয়ায় আজাদ হিন্দের অস্থায়ী গভর্ণমেণ্ট গঠন করেছেন। এখন আমরা পরিপূর্ণ দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে কর্তব্যে অবতীর্ণ হচ্ছি। ভগবানের নিকট প্রার্থনা, আমাদের কার্যের মধ্যে ও মাতৃভূমির মুক্তি সংগ্রামের ভিতর তার অনাবিল আশীর্বাদধারা বর্ষিত হোক। আজ আমরা এই ঘোষণাদ্বারা আমাদের সকল সাথী ও সহকর্মীর জীবন পণ করছি দেশমাতৃকার জন্য, কল্যাণের জন্য, এবং বিশ্বের দরবারে তাঁকে গৌরবে উচ্চশিখরে প্রতিষ্ঠিত করবার জন্য।

 অস্থায়ী গভর্ণমেন্টের প্রধান কর্তব্য হল ভারত ভূমি হতে বৃটিশ ও তার মিত্রদের বিতাড়িত করবার জন্য সংগ্রাম পরিচালনা করা। এরপর অস্থায়ী গভর্ণমেন্টের কর্তব্য, জনগণের ইচ্ছানুসারে এবং তাদের বিশ্বাস ভাজন স্থায়ী জাতীয় গভর্ণমেন্ট প্রতিষ্ঠা করা। বৃটিশ এবং তার মিত্রবর্গ বিতাড়িত হওয়ার পর যতদিন পর্যন্ত স্থায়ী জাতীয় গভর্নমেন্ট প্রতিষ্ঠিত না হবে ততদিন অস্থায়ী গভর্ণমেণ্ট জনগণের পরিপূর্ণ বিশ্বাসভাজন হয়ে দেশের শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করবে।

 এই গভর্ণমেণ্ট ধর্মগত স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, এবং সমস্ত অধিবাসীর সমান অধিকার ও সমান সুযোগ সুবিধার দাবী স্বীকার করে। এই গভর্ণমেন্ট ঘোষণা করছে, বিদেশী সরকার সৃষ্ট সর্বপ্রকার বিভেদ অতিক্রম করে ইহা দেশের সকল সন্তানকে সমানভাবে পোষণ করবে এবং ইহা দেশের সমস্ত অংশের সুখ-সমৃদ্ধি বিধানের পথে সর্বতোভাবে অগ্রসর হতে দৃঢ় অঙ্কল্প।

 ভগবানের নামে, অতীতে যারা ভারতীয় জনগণকে সংঘবদ্ধ করে গেছেন তাঁদের নামে, এবং পরলোকগত যে সকল শহীদ বীরত্ব ও আত্মত্যাগ দ্বারা আমাদের সামনে মহান আদর্শ স্থাপন করে গিয়েছেন তাদের নামে আমরা ভারতীয় জনগণকে আমাদের গর্বোন্নত পতাকাতলে সমবেত হতে এবং স্বাধীনতা লাভের উদ্দেশ্যে অস্ত্র ধারণ করতে আহ্বান জানাচ্ছি। বৃটিশ এবং তার সমস্ত মিত্রদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সংগ্রাম আরম্ভ করবার জন্য আমরা তাঁদের আহ্বান করছি। যতদিন পর্যন্ত না শত্রু ভারতভূমি হতে চিরতরে বহিষ্কৃত হয় এবং যতদিন পর্যন্ত না ভারতবাসী আবার স্বাধীন হয় ততদিন পর্যন্ত এ লড়াই অনমনীয় সাহস, চরম অধ্যবসায় ও পরিপূর্ণ জয়লাভের প্রত্যয় নিয়ে চালিয়ে যেতে হবে।”

 আজাদ হিন্দ সাময়িক গভর্ণমেন্টের পক্ষে—

 সুভাষচন্দ্র বসু (রাষ্ট্রনায়ক, প্রধান মন্ত্রী, সমর ও পররাষ্ট্র সচিব)। ক্যাপ্টেন মিস্ লক্ষ্মী (নারী সংগঠন)। এস্‌, এ, আয়ার (প্রচার)। লেঃ কঃ এ, সি, চ্যাটাজি (অর্থ)।

 লেঃ কঃ আজিজ আহম্মদ, লেঃ কঃ এন, ভগৎ, লেঃ কঃ জে, কে, ভোঁসলে, লেঃ কঃ এম, জেড্‌, কিয়ানি, লেঃ কঃ এ ডি লগানাদান, লেঃ কঃ এহ্‌সান কাদির এবং লেঃ কঃ শাহ নওয়াজ। (সৈন্যবাহিনীর প্রতিনিধি)।

 এ, এম, সহায় (মন্ত্রীর পদ মর্যাদাসম্পন্ন সেক্রেটারী), রাসবিহারী বসু (প্রধান পরামর্শদাতা), করিমগণি, দেবনাথদাস, ডি এম খাঁ, এ ইরেলাপ্পা, জে, থিবি, সর্দার ঈশ্বর সিং (পরামর্শদাতাগণ), এ, এন, সরকার (আইন বিষয়ক পরামর্শদাতা)।

নেতাজী ভারত অভিযানের পূর্বে বীর যোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে নিম্নলিখিত বাণী দেন:—

দিল্লী চলো

 দূরে বহুদূরে ঐ নদী, অরণ্যপূর্ণ ভূখণ্ড ছাড়াইয়া, পাহাড় পর্বত ছাড়াইয়া আমাদের দেশ—সে দেশে আমরা জন্মেছি। আবার আমরা ফিরে যাচ্ছি আমাদের দেশের মৃত্তিকায়। —ঐ শোন! স্বদেশ আমাদের আহ্বান কচ্ছে —ভারতের রাজধানী দিল্লী আমাদের ডাকছে—আটত্রিশ কোটী আশী লক্ষ দেশবাসী আমাদের জানাচ্ছে তাদের সাদর আহ্বান —পরিজনের ডাক ভেসে আসছে পরিজনদের কানে। ওঠ, নষ্ট করবার মত সময় আর নেই —তোমাদের জাগতে হবে —হাতে নিতে হবে অস্ত্র। সম্মুখে পড়ে আছে প্রদর্শিত পথ —সে পণ পরে যেতে হবে এগিয়ে। বিদেশী শত্রুকে পর্যুদস্ত করে আমরা অগ্রগামী হব জয়রাত্রার পথে। সে পথে যদি নেমে আসে মৃত্যুর বিধান, শহীদের ন্যায় তাকে আমরা নেব বরণ করে। যে পথে আমাদের বিজয় বাহিনী দিল্লীতে উপনীত হবে মৃত্যুর আগে নেই পথের ধূলায় এঁকে দিব শেষ চুম্বনরেখা। দিল্লীর পথই আমাদের মুক্তির পথ...এগিয়ে চল দিল্লীর পথে।


সুভাষচন্দ্র সৈনিকগণকে ভারতভূমিতে পতাকা উত্তোলনের আহ্বান জানাইয়া নিম্নলিখিত বাণী দেন


 “বন্ধুগণ, ১৮৫৭ সালের পর এই প্রথমবার আমরা স্বীয় গভর্ণমেন্ট প্রতিষ্ঠা করিলাম। বিদেশের বহু শক্তিশালী রাষ্ট্র এই গভর্ণমেন্টকে স্বীকার করিয়া লইয়াছেন। ১৮৫৭ সালের পর এই প্রথমবার ভারতের বাহিরে বিশেষতঃ ইউরোপ ও এশিয়ার ভারতীয়েরা স্বদেশের স্বাধীনতার যোদ্ধাদের পাশাপাশি দাঁড়াইয়াছে। ভারতে বিপ্লবের ভিত্তিভূমি প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে। অত্যাচারীর নির্দয় শোষণের ফলে ভারতে দুর্ভিক্ষ ও অনাহারের যে তাণ্ডবলীলা চলিতেছে, তাহাই ভারতবাসিগণকে বিপ্লবের পথে ঠেলিয়া দিতেছে। ভারতের স্বাধীনতার শেষ সংগ্রাম আরম্ভ করার উপযোগী সময় আজ উপস্থিত। স্বদেশে ও বিদেশে অবস্থিত আমার দেশবাসীগণ! আর সময় নষ্ট করিও না। তোমরা প্রস্তুত হও এবং এ মুহূর্তেই শেষ সংগ্রামে অবতীর্ণ হও। পূর্ব এশিয়ায় শক্তিশালী মিত্ররাষ্ট্রের সাহায্য লইয়া আমরা যথাসাধ্য কাজ করিতেছি। শীঘ্রই আমরা ভারতের সীমান্ত অতিক্রম করিব এবং ভারতভূমিতে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করিব। অতঃপর দিল্লী অভিমুখে আমাদের ঐতিহাসিক যাত্রা সুরু হইবে। সর্বশেষ ইংরাজটি ভারতবর্ষ ত্যাগ করিলেই এ যাত্রা শেষ হইতে পারে, কিন্তু তাহার পূর্বে নহে। দিল্লীর বড়লাট ভবনে যেদিন আমাদের জাতীয় পতাকা সগৌরবে উড়িতে থাকিবে এবং যেদিন ভারতের মুক্তিফৌজ প্রাচীন লালকেল্লার অভ্যন্তরে বিজয়-উৎসবে মাতিয়া উঠিতে পারিবে—কেবলমাত্র সেদিনই এ অভিযানের শেষ হইবে।”

—সুভাষচন্দ্র বসুর নির্দেশনামা।

ঝাসীর রাণী বাহিনীর উদ্বোধনে সুভাসচন্দ্রের বক্তৃতা

 “ঝাসীর রাণী বাহিনীর শিক্ষাকেন্দ্র উদ্বোধন একটা বিশেষ উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এশিয়ার পুর্বাঞ্চলে আমাদের সংগ্রামের অগ্রগতির পথে ইহা একটি স্মরণীয় কাহিনী। এর সুদূর প্রসারী সম্ভাবনা উপলব্ধি করতে হলে আমাদের অন্তরে সকল অনুভূতি দিয়ে মনে রাখতে হবে যে আমাদের এ আন্দোলন, এ সংগ্রাম শুদ্ধমাত্র রাজনৈতিক নয়। আমরা আমাদের মাতৃভূমিকে নতুন করে, নব আদর্শে গড়ে তোলবার মহান কার্য্যে অবতীর্ণ হয়েছি। ভারতের জন্য আমরা নিয়ে আসছি এক নবযুগ, সুতরাং আমাদের নব-জীবনের বনিয়াদ হবে অতীব সুদৃঢ়। আপনারা মনে রাখুন এটা শুধু গলাবাজী নয়। আমরা দেখতে পাচ্ছি ভারতের পুনর্জীবন আসন্ন। ভারতীয় নারীদের মধ্যেও এই নব জাগরণের শিহরণ উঠা স্বাভাবিক।

 যে শিক্ষা শিবিরের আজ উদ্বোধন করা হল তাতে আমাদের ১৫৬ জন ভগিনী শিক্ষালাভ করবেন। আমি মনে প্রাণে আশা করি, শোনানে শীঘ্রই তাদের সংখ্যা হবে এক হাজার। থাইল্যাণ্ডে ও ব্রহ্মদেশেও নারী শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় শিবির হল শোনানে। আমি একান্তভাবে বিশ্বাস করি, এক হাজার “ঝাসীর রাণী” এই কেন্দ্রীয় শিবিরে তৈরী হবে।”


নেতাজীর শেষ নির্দ্দেশ বাণী

(আজাদ হিন্দ ফৌজের অধ্যক্ষ ও সৈন্যবৃন্দের প্রতি)

 ১৯৪৪ সালের ফেব্রুয়ারী থেকে যেখানে দাঁড়িয়ে আপনারা বীরের মত সংগ্রাম করে চলেছেন গভীর মর্ম বেদনা নিয়ে ব্রহ্মদেশের সেই সংগ্রামক্ষেত্র ছেড়ে আজ আমকে বিদায় নিতে হচ্ছে। ইম্ফলে ও ব্রহ্মদেশে আমাদের মুক্তি সংগ্রামের প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেল। কিন্তু এ মাত্র সূচনা, বারবার আমাদের সে চেষ্টায় ব্রতী হতে হবে। চিরদিন আমি আশা পোষণ করে এসেছি,—তাই পরাজয় বরণ করে নিতে পারব না। ইম্ফলের সমতলক্ষেত্রে— আরাকানের জঙ্গল আব ব্রহ্মদেশে আপনারা শত্রুর বিপক্ষে সংগ্রাম করেছেন। আপনাদের মুক্তি সংগ্রামের এ বীরত্ব কাহিনী চিরদিনের জন্য ইতিহাসের পাতায় লেখা হয়ে থাকবে। ইনক্লাব জিন্দাবাদ―আজাদ হিন্দ ফৌজ জিন্দাবাদ—জয় হিন্দ।

 স্বাঃ — সুভাষচন্দ্র বসু, আজাদ হিন্দ ফৌজের সর্বাধিনায়ক, ২১শে এপ্রিল ১৯৪৫


আজাদী ফৌজের সমর সঙ্গীত

কদম কদম বাড়ায়ে যায়
খুসীকে গীত গায়ে যায়।
এ জিন্দগী হ্যায় কোম কাঁ
(তে) কোম পে লুটায়ে যায়।
তু শেরে হিন্দ আগে বাড়
মরণেলে ফিরভি তুণ ভর
আসমান তক উঠাকে শর
জোসে বতন্ বাড়ায়ে যায়?
তোরে হিম্মৎ বাড়তি রহে
খুদা তেরী শুনতা রহে
যে সামনে তোরে চড়ে
তো পাক‍্মে মিলায়ে যায়।
চলো দিল্লী পুকারকে
কোমী নিশান সামালকে
লাল কিল্লে গাড়কে
লহরায়ে য! লহরায়ে যা৷৷

আজাদী বাহিনীর সঙ্কল্পবাণী

 সৈন্যদিগকে এক আবেদন পত্রে কতক গুলি জ্ঞাতব্য বিষয় লিখিতে হয় যথা পূর্ব্ব এশিয়ার বাসস্থান, ভারতে বাসস্থান, বয়স, শিক্ষা, বিবাহিত কিনা; তাহারা নিম্নলিখিত সংকল্প বাক্যও সহি করিত।

 “আমি স্বেচ্ছায় আজাদ হিন্দ ফৌজে যোগদান ও এর সৈন্য শ্রেণী ভুক্ত হচ্ছি। আমি সম্পূর্ণ নিষ্ঠার সঙ্গে স্বাধীনতার জন্য জীবনপণ করছি। আমি সর্বপ্রকারে এমন কি জীবন পণেও ভারতের সেবা করব এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে প্রত্যক্ষ অংশ গ্রহণ করব। নিজেকে দেশ সেবায় উৎসর্গ করে কখনো ব্যক্তিগত স্বার্থ কামনা করবনা। প্রত্যেক ভারতীয়কে আমি ভ্রাতা ব ভগ্নী বলে মনে করি। ধর্ম, ভাষা বা ভৌগোলিক সংস্থানকে আমি কখনো প্রাধান্য দিব না। আমি বিশ্বস্তভাবে এবং দ্বিধাশূন্যচিত্তে সঙ্ঘের সমস্ত ন্যায়সঙ্গত হুকুম মানিয়া চলিব।”


তিরঙা ঝাণ্ডা

[আজাদ-হিন্দ ফৌজের জাতীয় পতাকা-গীত]

কৌমী তিরংগে ঝণ্ডে উঁচে রহে জহাঁমে
হো তেরী সিং, বুলন্দী জ্যো চাঁদ আসমানে
তু, জিতকা নিশাঁ হো তু জান হৈ হমারী!
হরএক বশরকী লব পৈ জারী হৈ এ দুয়ারে
কৌমী তিরংগা ঝণ্ডা হম্ শৌকসে উড়ায়ে।
আকাশ ঔ জমী পর হো তেরা বোলবোলা,
ঝুক্ জায় তোরে আগে হর তাজ তখতওয়ালা।
হর কৌমকী নজরমে হৈ নিশা অমনকা
তো এসা মুঅস্যর তো, সারা তেরা জঁহা হো।
‘মুস্তাক ওয়ে নবাব' এ খুশ হোকে গা রহা হৈ।
শিরপর তিরংগা ঝণ্ডা জলওয়া দিখা রহা হৈ।
কৌমী তিরংগা ঝণ্ডা উ চা রহে জঁহামে