নেতাজী সুভাষ চন্দ্র/কর্ম্ম-জীবন/দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জনের সাহচর্য্য

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন

তিন

কর্ম্ম-জীবন

দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জনের সাহচর্য্য

আই. সি. এস্. পদত্যাগ—ভারতে প্রত্যাবর্ত্তন—অসহযোগ-আন্দোলন—কলিকাতায় হরতাল—গ্রেপ্তার ও কারাদণ্ড—বন্যা-পীড়িতদের সেবা—কংগ্রেসের গয়া-অধিবেশনে—‘বাংলার কথা’ ও ‘ফরওয়ার্ড’—কলিকাতা কর্পোরেশনে—অর্ডিন্যান্সে গ্রেপ্তার—মান্দালয়ে নির্ব্বাসন—দেশবন্ধুর মৃত্যু—মুক্তিলাভ।

১৯২০ খৃষ্টাব্দে ভারতীয় জাতীয় মহাসমিতির নাগপুর-অধিবেশনে অসহযোগ-আন্দোলনের প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং সমগ্র ভারতবর্ষ মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে সেই আন্দোলনে ঝাঁপাইয়া পড়ে। হিমালয় হইতে কন্যাকুমারী এবং চট্টগ্রাম হইতে গুজরাট পর্য্যন্ত অসহযোগ আন্দোলনের হোমানলে আত্মাহুতি প্রদানে ব্যাকুল হইয়া উঠিল।

 এই আন্দোলনের বিরাট্ তরঙ্গ সুদূর সাগর-পারে ইংলণ্ডে অবস্থিত সুভাষচন্দ্রের চিত্ত-বীণায়ও আঘাত করিল। নবীন সঙ্কল্প, নবীন উৎসাহ, নবীন আশার বাণী তাঁহার অন্তরলোকে নবারুণ-রাগে ফুটিয়া উঠিল। সঙ্গে-সঙ্গে তিনিও অসহযোগ-আন্দোলনের হোমানলে আত্মাহুতি দিতে কৃতসঙ্কল্প হইয়া উঠিলেন এবং কালবিলম্ব না করিয়া আই. সি. এস্.-পদে ইস্তফাপত্র দাখিল করিলেন।

 তৎকালীন ভারত-সচিব মন্টেগু তাঁহাকে পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করিবার জন্য অনুরোধ করিয়াছিলেন; কিন্তু তিনি তাহাতে সম্মত হইলেন না। আবাল্য যে অতৃপ্তির পীড়ন তিনি মর্ম্মে-মর্ম্মে অনুভব করিতেছিলেন, পদত্যাগপত্র দাখিল করিয়া তিনি যেন তাহা হইতে কথঞ্চিৎ মুক্তিলাভ করিলেন! দেশ-মাতৃকার করুণ মুখমণ্ডল তাঁহার অন্তর-মধ্যে যেন স্পষ্ট দিবালোকের ন্যায় ফুটিয়া উঠিল। তিনি দেশসেবার কঠোর ব্রত গ্রহণে সঙ্কল্প করিলেন।

 সুভাষচন্দ্র ১৯২১ খৃষ্টাব্দে ভারতে প্রত্যাবর্ত্তন করিয়া মহাত্মা গান্ধীর সহিত সাক্ষাৎ করিলেন। মহাত্মা গান্ধী তাঁহাকে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ মহাশয়ের নির্দ্দেশক্রমে মাতৃভূমির সেবায় আত্মনিয়োগ করিতে উপদেশ দেন।

 মহাত্মা গান্ধীর উপদেশে সুভাষচন্দ্র বাংলাদেশে ফিরিয়া আসিলেন এবং দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ মহাশয়ের সহিত সাক্ষাৎ করেন। দেশবন্ধুও তাঁহাকে অসহযোগ-আন্দোলনের কর্ম্মিমণ্ডলের অন্তর্ভুক্ত করিয়া লইলেন এবং সর্ব্বকার্য্যে স্বীয় দক্ষিণহস্তস্বরূপ বিবেচনা করিতে লাগিলেন।

 এই প্রসঙ্গে শ্রীযুক্ত হেমেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত লিখিয়াছেন—

 “জুলাই-আগষ্ট মাসে সুভাষচন্দ্র সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় কৃতকার্য্য হইয়াও বাঙালী জীবনের ইন্দ্রপদ পরিত্যাগ করিয়া সেবাব্রত লইয়া দেশবন্ধুর সঙ্গে মাতৃভূমির সেবাকল্পে আত্মাৎসর্গ করেন। এই অকৃত্রিম তেজস্বী ধীমান্ কর্ম্মীটিকে পাইয়া দেশবন্ধুর আনন্দের অবধি ছিল না। **** স্বরাজ-সাধনার সুভাষচন্দ্রের সহযোগিতা জাতীয় ইতিহাসে এক নব অধ্যায়ের সূচনা করিল।”  —দেশবন্ধু-স্মৃতি, পৃঃ ২৮২

 সুভাষচন্দ্র প্রথমে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জনের প্রতিষ্ঠিত বেঙ্গল ন্যাশনাল কলেজ বা গৌড়ীয় সর্ব্ব-বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ-পদে কার্য্য করিতে লাগিলেন এবং বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস-কমিটির পাবলিসিটি অফিসার বা প্রচারাধ্যক্ষের কার্য্যভারও তাঁহার উপর অর্পিত হইল। অতঃপর তিনি জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর ক্যাপ্টেন বা অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। সম্ভবতঃ সামরিক জীবনের উন্মাদনা ও মর্য্যাদা জীবনে এই সর্ব্বপ্রথম তিনি উপলব্ধি করেন।

 ১৯২১ খৃষ্টাব্দে ১৭ই নভেম্বর মহামান্য প্রিন্স অব্ ওয়েল্‌স্ মহোদয় ভারত-পরিদর্শনার্থ বোম্বাই বন্দরে পদার্পণ করেন। গভর্ণমেন্টের সহিত সর্ব্বপ্রকার সহযোগিতা বর্জ্জনের নিদর্শনসরূপ কংগ্রেসের পূর্ব্ব-নির্দ্দেশানুসারে ঐ দিন ভারতের সর্ব্বত্র হরতাল অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। কলিকাতায়ও এই হরতাল পূর্ণভাবে প্রতিপালিত হয়। সুভাষচন্দ্র এই হরতালকে সাফল্যমণ্ডিত করিতে প্রাণপণ পরিশ্রম করেন।

 এই প্রসঙ্গে শ্রীযুক্ত হেমেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত লিখিয়াছেন—

 “ষ্টেশন হইতে সুভাষচন্দ্র গাড়ীর উপরে বসিয়া স্ত্রীলোকদিগকে গন্তব্য স্থানে পৌঁছাইয়া দিতেছিলেন এবং বাহিরে লেখা ছিল ‘On National Service’—অর্থাৎ ‘জাতীয় সেবাব্রতে’। কোনও যান চলে নাই; বাইসিকেল পর্য্যন্ত বন্ধ ছিল।”  —দেশবন্ধু-স্মৃতি, পৃঃ ২৭।

 সুভাষচন্দ্রের অক্লান্ত পরিশ্রমে হরতাল সাফল্যমণ্ডিত হইল বটে, কিন্তু সঙ্গে-সঙ্গে অতি নির্ম্মমভাবে সরকারী দমন-নীতির সূত্রপাত হইল।

 ইহাতে বিস্ময়ের কিছুই ছিল না, ইহা অপ্রত্যাশিতও নহে। কারণ, মহামান্য ভারত-সম্রাটের জ্যেষ্ঠ পুত্র এবং ভারতের ভবিষ্যৎ ভাগ্য-বিধাতাকে যাঁহারা অবহেলায় অপাংক্তেয় করিতে সাহসী হন, চরম রাজরোষ যে তাঁহাদের মস্তকে বজ্রের আকারে পতিত হইবে, তাহাতে আর সন্দেহের কি আছে?

 হরতালের একদিন পরে বঙ্গীয় গভর্ণমেন্ট ১৯শে নভেম্বর তারিখে কংগ্রেস ও খিলাফৎ স্বেচ্ছাসেবক-বাহিনীকে বে-আইনি বলিয়া ঘোষণা করিলেন এবং এই উভয় আন্দোলনকে নিষ্ক্রিয় করিবার অভিপ্রায়ে প্রত্যেক কংগ্রেস ও খিলাফৎ-অফিসে ধারাবাহিকভাবে খানা-তল্লাসী চলিতে লাগিল। ইহার প্রতিবাদে কলিকাতার জাতীয়তাবাদী নেতা ও কর্ম্মিগণের সাক্ষরিত এক বিবৃতি প্রকাশিত হয়। ইহাতে প্রাদেশিক ও জেলা কংগ্রেস-কমিটির সমস্ত সভ্যকে জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক-বাহিনীর সভ্যশ্রেণীভুক্ত হইবার জন্য আহ্বান করা হইল।

 এই সম্পর্কে ১৯২১ সালের ১০ই ডিসেম্বর দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, মৌলানা আবুল কালাম আজাদ, সুভাষচন্দ্র বসু ও অন্যান্য কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন ও সুভাষচন্দ্র বসু বিনাশ্রমে ছয় মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।

 এই কারাজীবন সম্বন্ধে সুভাষচন্দ্র নিজে একখানি পত্রে লিখিয়াছিলেন—

 “১৯২১ ও ১৯২২ সালে দেশবন্ধুর সহিত আট (?) মাস কাল কারাগারে কাটাইবার সৌভাগ্য আমার হইয়াছিল; তন্মধ্যে দুইমাস কাল আমরা পাশাপাশি সেলে প্রেসিডেন্সী জেলে ছিলাম এবং বাকী ছয় মাস কাল আরও কয়েকজন বন্ধুর সহিত আলিপুর সেন্ট্রাল জেলের একটি বড় ঘরে ছিলাম। এই সময়ে তাঁহার (দেশবন্ধুর) সেবার ভার কতকটা আমার উপর ছিল। আলিপুর জেলে শেষ কয়েকমাস তাঁহার একবেলার রান্নাও আমাদিগকে করিতে হইত, গভর্ণমেন্টের কৃপায় আমি যে আট মাস কাল তাঁহার সেবা করিবার অধিকার ও সুযোগ পাইয়াছিলাম,—ইহা আমার পক্ষে পরম গৌরবের বিষয়।”  —দেশবন্ধু-স্মৃতি, পৃঃ ৫৪৯

 ১৯২২ খৃষ্টাব্দে সুভাষচন্দ্র কারাবাস হইতে মুক্তিলাভ করেন। তখন ভগবানের অলঙ্ঘ্য বিধানে ভীষণ বন্যায় উত্তরবঙ্গ ভাসিয়া গিয়াছে! অন্নহীন, বস্ত্রহীন, আশ্রয়হীন সহস্র সহস্র নরনারীর আর্ত্তনাদে আকাশ-বাতাস নিয়ত প্রতিধ্বনিত হইতেছে। ইহাতে স্বভাব-করুণ সুভাষচন্দ্রের প্রাণ কাঁদিয়া উঠিল। তিনি বন্যা-পীড়িতদের সাহায্যার্থ বদ্ধপরিকর হইলেন।

 তিনি স্বয়ং উত্তরবঙ্গে গমন করিয়া বন্যা-পীড়িতদের দুঃখ-দুর্দশা স্বচক্ষে দেখিয়া অত্যন্ত ব্যথিত হন এবং বেঙ্গল রিলিফ-কমিটির সেক্রেটারীরূপে যেরূপ শৃঙ্খলা ও সুব্যবস্থায় বন্যা-পীড়িত নর-নারীর সেবার কার্য্য নির্ব্বাহ করেন, তাহাতে তাঁহার অসাধারণ কর্ম্মশক্তি ও গঠন-প্রতিভার সুস্পষ্ট পরিচয় প্রতিভাত হইয়া উঠিল।

 ১৯২২ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে সুভাষচন্দ্র দেশবন্ধুর সমভিব্যহারে ভারতীয় জাতীয় মহাসমিতি বা কংগ্রেসের গয়া-অধিবেশনে যােগদানার্থ গমন করেন। এই অধিবেশনে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন কাউন্সিলে প্রবেশ করিয়া গভর্ণমেন্টের মুখােশ খুলিয়া দেখাইবার প্রস্তাব করিলে সুভাষচন্দ্র দেশবন্ধুকে সমর্থন করিয়াছিলেন; কিন্তু কাউন্সিল-প্রবেশের প্রস্তাবে দেশবন্ধুর পরাজয় ঘটে। এই পরাজয়ের পর ১৯২২ সালের ৩১শে ডিসেম্বর তারিখে গয়া, টিকারীর রাজবাড়ীতে দেশবন্ধু কংগ্রেস-খিলাফৎ-স্বরাজ পার্টি নামে একটি দল গঠন করেন। ১৯২৩ খৃষ্টাব্দে বােম্বাই ও এলাহাবাদের অধিবেশনে এই দলের নাম সংক্ষিপ্ত করিয়া “স্বরাজ্য-দল” করা হয়।

 ১৯২৬ খৃষ্টাব্দে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন কাউন্সিল প্রবেশের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হইলেন। এই ব্যাপারে সুভাষচন্দ্র দেশবন্ধুর দক্ষিণ হস্ত-স্বরূপ হইয়া ‘স্বরাজ-দল’ গঠনে ও নির্ব্বাচন-প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়যুক্ত হইবার জন্য অসাধারণ পরিশ্রম করেন। এই পরিশ্রমের ফলে স্বরাজ্যপার্টির ললাটে বিজয়-তিলক অঙ্কিত হইল।

 এই সময় সুভাষচন্দ্র ‘বাংলার কথা’ নামক একখানি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশ করিতে আরম্ভ করেন। পরে স্বরাজ্য-দলের মুখপত্ররূপে দেশবন্ধু যখন ইংরাজী দৈনিক ‘ফরওয়ার্ড’ পত্রিকা বাহির করিলেন, তখন সুভাষচন্দ্র প্রচার-সচিব নিযুক্ত হন। প্রচার-সচিবরূপে তিনি পত্রিকার জন্য কিরূপভাবে কাজ করিতেন, তাহা অধ্যাপক বিনয়কুমার সরকার মহাশয়ের রচনা হইতে উদ্ধৃত করা হইল—

 “তখন সুইট্‌জারল্যাণ্ডে ছিলাম। লুগানো সহরে বা পল্লীতে হঠাৎ সুভাষ বসুর টেলিগ্রাম পেলাম, সঙ্গে সঙ্গে চিঠি। চিত্তরঞ্জনের ‘ফরওয়ার্ড’ দৈনিক তখন সবে বেরিয়েছে বা বেরােয় বেরোয় হয়েছে। ১৯১৩ সন, *** ফরওয়ার্ডের জন্য এই অধমকে ‘বিদেশী সংবাদ-দাতা’ বহাল করা হয়েছিল। আমার উপর ভর ছিল ফরাসী, ইতালিয়ান, আর জার্ম্মাণ ভাষায় প্রচারিত বিশ্ব-সংবাদ টেলিগ্রাফে ফরওয়ার্ডকে পাঠাবার। চিঠিতে লেখা ছিল, রয়টারকে হারাতে হবে।’—এই কথাটায় খুব খুশী হয়েছিলাম।”  —বিনয় সরকারের বৈঠকে, ২য় ভাগ, পৃঃ ২৪৩-৪৪

 এইভাবে অবিরাম পরিশ্রম করিয়া তিনি ফরওয়ার্ড দৈনিককে শ্রেষ্ঠ দৈনিক পত্রিকারূপে জন-সমাজে প্রতিষ্ঠিত করিবার চেষ্টা করিয়াছিলেন। বলা বাহুল্য, তিনি দীর্ঘকাল ফরওয়ার্ডের সেবা করিবার সুযােগ পান নাই।

 ১৯২৪ খৃষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারী মাসে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জনের নেতৃত্বে বঙ্গীয় “স্বরাজ্য দল” কলিকাতা কর্পোরেশন অধিকার করিল। বত্রিশটি ওয়ার্ডে দেশবন্ধুর মনােনীত ব্যক্তি কাউন্সিলার নির্ব্বাচিত হইলেন। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জনই কলিকাতা কর্পোরেশনের সর্ব্বপ্রথম মেয়র হন। ইহাতে কলিকাতার মিউনিসিপ্যাল কর্ম্ম-ব্যবস্থায় যুগান্তর সংসাধিত হয় এবং সুভাষচন্দ্র বসু কর্পোরেশনের সংশ্রবে আসেন।

 ১৯২৪ খৃষ্টাব্দের ১৪ই এপ্রিল সুভাষচন্দ্র মাত্র ২৭ বৎসর বয়সে কলিকাতা কর্পোরেশনের প্রথম চীফ্ এক্সিকিউটিভ অফিসার নিযুক্ত হইলেন। এই পদের সাধারণ বেতন মাসিক ৩০০০৲ টাকা, কিন্তু সুভাষচন্দ্র অর্দ্ধেক বেতন মাত্র গ্রহণ করতেন।

 দেশবন্ধুর শত্রুরা এই সময় কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে সমালোচনা করিতে আরম্ভ করিলে, দেশবন্ধু অগাধ বিশ্বাসের সহিত বলিয়াছিলেন—

 “সব কাজ লোকসান করে সুভাষকে দিয়েছি, একটু সময় দিন; সবই হবে।” —দেশবন্ধু-স্মৃতি, পৃঃ ৩৫১

 সুভাষচন্দ্রকে দেশবন্ধু যে কতটা বিশ্বাস ও স্নেহ করিতেন, এই সামান্য একটি কথায়ই তাহা স্পষ্ট বুঝিতে পারা যায়। যাহা হউক, দেশবন্ধু ও সুভাষচন্দ্রের সহযোগিতায় কর্পোরেশনে এক নূতন জীবনের সঞ্চার হইল। যে কর্পোরেশন এতকাল পাশ্চাত্য ভাবধারায় লালিত-পালিত হইতেছিল, সহসা তাহাতে জাতীয় ভাবধারা অনুপ্রবিষ্ট হইল। কর্পোরেশনের কর্ম্মচারী ও সভ্যগণ সুচিক্কণ বিদেশী সাজসজ্জা পরিত্যাগ করিয়া অমসৃণ খদ্দরে দেহ শোভিত করিয়া অফিসে আসিতে লাগিলেন। উৎকৃষ্ট বিদেশী পোষাকের অপেক্ষা খদ্দরের সম্মান এই সর্ব্বপ্রথম পৌরসভায় স্বীকৃত হইল।

 এতদ্ব্যতীত জনসাধারণের কল্যাণের দিকেও সুভাষচন্দ্রের মনোযোগ নিতান্ত কম ছিল না! সুভাষচন্দ্র কর্পোরেশনের প্রধান কর্ম্মকর্ত্তা হইয়াই নাগরিকদিগকে বিনা খরচে প্রাথমিক শিক্ষা ও ঔষধ-পথ্য পাইবার সুযোগ দান করিলেন। হয়তো তাহাদিগকে আরও অনেক সুবিধাই দেওয়া হইত, কিন্তু সহসা তাহাতে এক বিঘ্ন আসিয়া পড়িল। কর্পোরেশনের উন্নতিমূলক কার্য্যে তিনি আর বেশীদিন আত্মনিয়োগ করিতে পারিলেন না। ১৯২৪ খৃষ্টাব্দের ২৫শে অক্টোবর তারিখে ১৯২৪ খৃষ্টাব্দের বঙ্গীয় ফৌজদারী আইন-সংশোধন অর্ডিন্যান্স অনুসারে সুভাষচন্দ্রকে গ্রেপ্তার করা হইল।

 এই প্রসঙ্গে শ্রীযুক্ত হেমেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত লিধিয়াছেন—

 “গর্ব্বিত ধনবানের হস্ত হইতে সমবেদনাময় সেবক-সম্প্রদায়ের হস্তেই কর্পোরেশন আসিয়া পড়িত; গরিবের সেবা হইত, মাছ দুগ্ধ খাইয়া কলিকাতার লোক বাঁচিত, বিষাক্ত তৈল ও ঘৃতের সহায়তায় ডিস পেপ সিয়া চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করিতে পারিত না, কিন্তু সব বিফল হইল! সুভাষচন্দ্র অমাত্য-তন্ত্রের কবলে নিপতিত হইলেন।” —দেশবন্ধু-স্মৃতি, পৃঃ ৩৫১

 সুভাষচন্দ্রের গ্রেপ্তারে সমগ্র দেশে একটা সাড়া পড়িয়া গেল। সুভাষচন্দ্রকে গ্রেপ্তার এবং বিনা বিচারে কারারুদ্ধ করায় কলিকাতা কর্পোরেশনের ২৯শে অক্টোবরে অনুষ্ঠিত সভায় দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন কলিকাতার মেয়র-রূপে নিম্নলিখিত ভাষায় গভর্ণমেন্টের এই কার্য্যের তীব্র প্রতিবাদ করেন—

 “স্বদেশকে ভালবাসা যদি অপরাধ হয়, তবে আমিও অপরাধী। যদি সুভাষচন্দ্র বসু অপরাধী হন, তবে আমিও অপরাধী—কর্পোরেশনের শুধু প্রধান কর্ম্ম-সচিব নহে, মেয়রও সমভাবে অপরাধী।”[১]  সুভাষচন্দ্রই কলিকাতা মিউনিসিপ্যাল গেজেট প্রকাশের পরিকল্পনা করিয়াছিলেন; কিন্তু উহা প্রকাশের পূর্ব্বেই তাঁহাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সুতরাং তিনি উহার প্রকাশ দেখিয়া যাইতে পারেন নাই।

 ১৯২৪ খৃষ্টাব্দের ১৫ই নভেম্বর কলিকাতা মিউনিসিপ্যাল গেজেটের প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়। এই সংখ্যার সম্পাদকীয় স্তম্ভে নিম্নলিখিত মন্তব্য স্থান পাইয়াছিল—

 “প্রধান কর্ম্ম-সচিবের গ্রেপ্তারে কর্পোরেশন কতদুর ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছে, যাহারা ইহার বহির্ভাগে অবস্থিত তাহাদের পক্ষে তাহা পরিমাপ করা দুঃসাধ্য। *** শ্রীযুক্ত বসু কর্পোরেশনের শুধু কর্ম্মসচিব ছিলেন না; তিনি ছিলেন প্রত্যেক প্রয়ােজনীয় কার্য্যের বা পরিকল্পিত কার্য্য-সম্পাদনের নিয়ন্ত্রণকারী। এই গেজেট প্রকাশের পরিকল্পনা তাঁহারই মস্তিষ্কপ্রসূত। আমরা জানি, তিনি ইহার পরিচালনার্থ একটি বিস্তৃত কর্ম্মপদ্ধতি প্রস্তুত করিতেছিলেন।”

 সুভাষচন্দ্র বসুর আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে অবস্থিতিকালে তাঁহাকে কর্পোরেশনের কার্য্য-সংক্রান্ত কাগজ-পত্র দেখিতে এবং তৎসংশ্লিষ্ট লােকজনের সহিত দেখা-সাক্ষাৎ করিতে দেওয়া হইত। পরে যখন গভর্ণমেন্ট উহা বন্ধ করিয়া দিলেন, তখন কর্পোরেশন মিঃ জে. সি. মুখার্জ্জিকে তাঁসঁহার স্থলে কার্য্য করিবার জন্য প্রথমে তিন মাসের জন্য নিযুক্ত করিলেন; তৎপরে সুভাষচন্দ্রকে আরও ছুটি মঞ্জুর করা হয় এবং এই অস্থায়ী ব্যবস্থা চলিতে থাকে।

 গ্রেপ্তারের পর সুভাষচন্দ্রকে প্রথমে কিছু দিন আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে রাখা হয়, পরে তথা হইতে তিনি বহরমপুর জেলে স্থানান্তরিত হন। বহরমপুর হইতে তাঁহাকে ব্রহ্মদেশের মান্দালয়ে নির্ব্বাসিত করা হইল।

 মান্দালয়ে নির্ব্বাসিত জীবনে নির্জ্জন কারাবাসের ফলে এবং অতিরিক্ত গ্রীষ্মাধিক্যহেতু সুভাষচন্দ্রের স্বাস্থ্য ভগ্ন হইয়া যায়, ১৯২৭ খৃষ্টাব্দের এপ্রিল মাসে তিনি শয্যাশায়ী হইয়া পড়েন। ইহাতে বঙ্গীয় গভর্ণমেণ্ট তাঁহাকে মান্দালয় হইতে কলিকাতায় না আসিয়া সোজাসুজি ইয়োরোপ যাওয়ার অনুমতি দিবার প্রস্তাব করেন; কিন্তু সুভাষচন্দ্র গভর্ণমেন্টের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করিয়াছিলেন।

 ইতঃপূর্ব্বে গভর্ণমেন্ট মান্দালয়ে অবস্থিত বন্দীদিগকে পূজা ও ধর্ম্মকার্য্যের জন্য অর্থ প্রদানে অস্বীকৃত হন। এই অস্বীকৃতির প্রতিবাদ-স্বরূপ ১৯২৬ খৃষ্টাব্দের ২০শে ফেব্রুয়ারী তারিখে সুভাষচন্দ্রও অন্যান্য বন্দিগণের সহিত অনশন-ব্রত অবলম্বন করেন। কলিকাতা কর্পোরেশন ২৪শে ফেব্রুয়ারী তারিখের সভায় গভর্ণমেন্টের এই কার্য্যের তীব্র প্রতিবাদ করেন।

 ২৬শে ফেব্রুয়ারী সমগ্র কলিকাতা মহানগরীর নাগরিকবৃন্দ গভর্ণমেন্টের এই কার্য্যের প্রতিবাদে পূর্ণ হরতাল প্রতিপালন করে; পুনরায় ২৮শে ফেব্রুয়ারী তারিখে বাংলার অম্লান-কুসুমতুল্য সুকুমার সন্তানগণের দুঃখে আন্তরিক সহানুভূতি জ্ঞাপন করিয়া কলিকাতাবাসী দ্বিতীয় বার হরতালের অনুষ্ঠান করে। অবশেষে সুভাষচন্দ্র ও তাঁহার সঙ্গী বন্দিগণ ৪ঠা মার্চ্চ তারিখে অনশন-ব্রত পরিহার করেন।

 এই অনশন-ব্রত উদ্‌যাপনে সুভাষচন্দ্র ও তাঁহার সঙ্গী বন্দিগণের মানসিক শক্তি কিরূপ বিপুল, তাহা সহজেই অনুমিত হয়। সাধারণ মানুষ কয়েক ঘণ্টা বা দুই-এক দিনের উপবাসে কিরূপ কাতর হইয়া পড়ে, তাহা নিত্য প্রত্যক্ষের বিষয়; কিন্তু যাহারা প্রায় পনের দিন ক্ষুৎ-পিপাসার কঠোর জ্বালা নির্ব্বিকার-চিত্তে সহ্য করিতে পারে,— তাহারা বাস্তবিকই প্রণম্য ও নমস্য। সাধারণের গণ্ডী অপেক্ষা এই সমস্ত মহামানব যে অনেক ঊর্দ্ধস্তরে অবস্থিত, সে সম্বন্ধে কোন সন্দেহ নাই।

 ১৯২৫ খৃষ্টাব্দের ১৬ই জুন মঙ্গলবার, চির-তুষারমণ্ডিত হিমালয়ের দুর্জ্জয়-লিঙ্গ শৈলশিখরে বাংলার গৌরবরবি মহামতি দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন চিরকালের জন্য অস্তাচলে গমন করেন। সুভাষচন্দ্র তখন সুদূর ব্রহ্মদেশে মান্দালয়ে কারাপ্রাচীরের অন্তরালে নির্ব্বাসিত জীবন যাপন করিতেছিলেন। সুতরাং দেশবন্ধুকে হারাইয়া তাঁহার অন্তরে শোক-দুঃখের যে বিরাট্ ঝঞ্ঝা বহিয়া যাইতেছিল, তখন তাহার কোন বাহ্য বিকাশ পরিলক্ষিত হয় নাই।

 ১৯২৬ খৃষ্টাব্দের ৩রা মার্চ্চ মান্দালয় হইতে তিনি যে পত্র লিখিয়াছিলেন, তাহাতে তাঁহার অন্তরের ব্যথা পূর্ণভাবে প্রকাশ পাইয়াছে। এতদ্ব্যতীত এই পত্রে তিনি দেশবন্ধুর সঙ্ঘ-গঠন শক্তি, অনুগত ব্যক্তির প্রতি ভালবাসা, কবিত্ব, ধর্ম্ম এবং পরোপকার-বৃত্তির বিষয়ে অনেক কথা বলিয়াছেন। সুভাষচন্দ্র এই একখানি পত্রে দেশবন্ধুর সর্ব্বতোমুখী প্রতিভার যেরূপ বিশদ পরিচয় লিপিবদ্ধ করিয়া গিয়াছেন, সেইরূপ সুসংযত ভাষায় অনুরূপ ভাবের আলোচনা খুব কমই দেখিতে পাওয়া যায়। নিম্নে সেই পত্র হইতে স্থানে-স্থানে সামান্য উদ্ধৃত হইল—

 “তাঁহার (দেশবন্ধুর) জীবনের মাত্র তিন বৎসর কাল আমি তাঁহার সঙ্গে ছিলাম এবং অনুচর হইয়া তাঁহার কাজ করিয়াছিলাম। এই সময়ের মধ্যে চেষ্টা করিলে তাঁহার নিকট অনেক কিছু শিখিতে পারিতাম; কিন্তু চোখ থাকিতে কি আমরা চোখের মূল্য বুঝি? *** দেশবন্ধুর সহিত আমার শেষ দেখা আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে। আরোগ্যলাভের জন্য এবং বিশ্রাম পাইবার ভরসায় তিনি সিমলা পাহাড়ে গিয়াছিলেন, আমাদের গ্রেপ্তারের সংবাদ পাইয়া তৎক্ষণাৎ সিমলা হইতে রওনা হইয়া কলিকাতায় আসেন। আমাকে দেখিতে তিনি দুই বার আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে আসেন এবং আমাদের শেষ সাক্ষাৎ হয় বহরমপুর জেলে বদলী হইবার পূর্ব্বে। প্রয়োজনীয় কথাবার্ত্তা শেষ হইলে আমি তাঁহার পায়ের বুলা লইয়া বলিলাম—‘আপনার সঙ্গে আমার বোধ হয় অনেক দিন দেখা হইবে না।” তিনি তাঁহার স্বাভাবিক প্রফুল্লতা ও উৎসাহের সহিত বলিলেন—‘না, আমি তোমাদের শীগ্‌গির খালাস করে আন্‌ছি।’

 হায়! তখন কে জানিত যে ইহজীবনে আর তাঁহার সাক্ষাৎ পাইব না! *** তাঁহার সেই শেষ স্মৃতিটুকু আমার প্রাণের সম্বল হইয়া দাঁড়াইয়াছে। *** জনমণ্ডলীর উপর দেশবন্ধুর অতুলনীয় অলৌকিক প্রভাবের গূঢ় কারণ কি—এ প্রশ্নের সমাধান করিবার চেষ্টা অনেকে করিয়াছেন। আমি সর্ব্বপ্রথমে তাঁহার প্রভাবের একটি কারণ নির্দ্দেশ করিতে চাই। আমি দেখিয়াছি, তিনি সর্ব্বদা মানুষের দোষগুণ বিচার না করিয়া তাহাকে ভালবাসিতে পারিতেন। *** কত বিভিন্ন রকমের লোক হৃদয়ের টানে নিকটে আসিত এবং জীবনের কত ক্ষেত্রে এই নিমিত্ত তাঁহার প্রভাব ছিল। সমুদ্রে প্রকাণ্ড ঘূর্ণাবর্ত্তের ন্যায় এই বিপুল জনসমাজে তিনি চারিদিক্ হইতে সকল প্রাণকে আকর্ষণ করিতেন *** সহকর্ম্মী বা অনুচরকে ভাল না বাসিতে পারিলে বিনিময়ে তাহার প্রাণ পাওয়া যায় না। সাধারণ সাংসারিক জীবনের ন্যায় দেশবন্ধুর আত্ম-পর-জ্ঞান ছিল না। তাঁহার বাড়ী সাধারণ সম্পত্তি হইয়া পড়িয়াছিল। সর্ব্বত্র—এমন কি, তাঁহার শয়ন-প্রকোষ্ঠেও সকলের গতিবিধি ছিল *** দেশবন্ধুর সঙ্ঘের প্রধান নিয়ম ছিল সংযম ও শৃঙ্খলা। পরস্পরের মধ্যে মতানৈক্য ঘটিতে পারে কিন্তু একবার কর্ত্তব্য স্থির হইয়া গেলে সকলকে সেই পন্থা অবলম্বন করিতেই হইবে। সঙ্ঘের নিয়মানুবর্ত্তী হওয়ার নিয়ম ভারতবর্ষে নূতন নয়। ২৫০০ বৎসর পূর্ব্বে ভগবান্ বুদ্ধ সর্ব্বপ্রথমে ভারতবাসীকে এই শিক্ষা দিয়া যান। আজ পর্য্যন্ত পৃথিবীর সর্ব্বত্র বৌদ্ধগণ প্রার্থনার সময় বলিয়া থাকেন—‘বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি, ধম্মং শরণং গচ্ছামি, সঙ্ঘং শরণং গচ্ছামি।’

 বস্তুতঃ কি ধর্ম্ম প্রচার, কি স্বদেশ-সেবা, সঙ্ঘ ও সঙ্ঘানুবর্ত্তিতা ভিন্ন কোন মহৎ কাজ জগতে সম্ভবপর নয়। *** বাংলার বৈষ্ণবধর্ম্ম ও দ্বৈতাদ্বৈতবাদ দেশবন্ধুকে নাস্তিকতা হইতে টানিয়া লইয়া নীরস বেদান্তের ভিতর দিয়া প্রেমমার্গে লইয়া গিয়াছিল।*** বাংলার শিক্ষা ও সভ্যতার সার সঙ্কলন করিয়া তাহাতে রূপ দিলে যেরূপ মানুষের উদ্ভব হয়, দেশবন্ধু অনেকটা সেইরূপ ছিলেন *** জীবনে-মরণে শয়নে-স্বপনে তাঁহার ছিল এক ধ্যান—এক চিন্তা—স্বদেশ-সেবা—এবং সেই স্বদেশসেবাই তাঁহার ধর্ম্মজীবনের সোপান-স্বরূপ।”

—দেশবন্ধু স্মৃতি, পৃঃ ৫৪৩-৬৫

 অবশেষে সুভাষচন্দ্রের দেহে ক্ষয়-রোগের লক্ষণ প্রকাশ পাইতে থাকে। তাঁহার স্বাস্থ্য পরীক্ষার্থ তাঁহাকে রেঙ্গুণ হইতে কলিকাতায় আনিয়া ব্যারাকপুরের নিকট গঙ্গাবক্ষে বজ্‌রায় রাখা হয় এবং ডাক্তারী পরীক্ষা নিষ্পন্ন হয়। আড়াই বৎসরেরও অধিক কাল কারাবাসের পর ১৯২৭ খৃষ্টাব্দের ১৬ই মে তারিখে তাঁহাকে মুক্তি দান করা হয়।

 তাঁহার মুক্তিলাভের একদিন পরে কলিকাতা কর্পোরেশন সাদরে তাঁহার সম্বর্দ্ধনা করেন। ইহাও বিশেষ উল্লেখযােগ্য যে, কর্পোরেশন মহামতি সুভাষচন্দ্রকে ছুটি প্রদান করিয়াছিলেন। তাহা শেষ হইবার দুই দিন পরে তাঁহাকে মুক্তি দেওয়া হইয়াছিল। ঠিক দুই দিন পূর্ব্বে অস্থায়ী কর্ম্মসচিব মিঃ জে. সি. মুখার্জ্জি সুভাষচন্দ্রের স্থলে স্থায়ী প্রধান কর্ম্মসচিব নিযুক্ত হইয়াছিলেন।

  1. “If love of country is crime, I am a criminal. If Mr. Subhas Chandra Bose is a criminal,—l am a criminal, —not only the Chief Executive Officer of the Corporation, but the Mayor of this Corporation is equally guilty.”
    The Calcutta Municipal Gasette, Vol. XLII, No. 16, P. 442.