বিষয়বস্তুতে চলুন

পঞ্চরত্ন/কৌপীন পঞ্চক

উইকিসংকলন থেকে

কৌপীন পঞ্চক॥

শঙ্কর পূজা।

জগতের গুরু তুমি, জ্ঞানের ভাণ্ডার,
তুমি হে শঙ্কর, শঙ্করের অবতার,
নর হয়ে মর লোকে তুমিই অমর,―
হইয়াছ, জ্ঞান দাতা, জ্ঞানের সাগর,
তব উপদেশাবলি যে করে গ্রহণ,
কখনই নাহি হয় তাহার পতন,
সদা শিব জ্ঞানে তোমা করিয়া স্মরণ,
করযোড়ে পূজি তব রাজীব চরণ,
ঢালি তব পাদ পদ্মে ভক্তি পুষ্প ডালি,
শ্রীশঙ্কর, শ্রীশঙ্কর, শ্রীশঙ্কর বলি।

 শ্রীরাখালদাস মুখোপাধ্যায়।

কৌপীন মাহাত্ম্য।

মুনি ঋষি আদি কসি কষায় কৌপীন,
রচিলেন জ্ঞান শাস্ত্র অতি সমীচীন,
জানিয়া তাহার গুণ যত মহাজন,
আদর করিয়া করে কৌপীন ধারণ,
টুকরা মাত্র ছিন্ন বস্ত্র যত গুণ ধরে,
কণামাত্র মূল্য নাহি অমূল্য প্রস্তরে।
এমন কৌপীন যিনি করেছেন সার,
ধূলিকণাসম ভাবি ত্যজিয়া সংসার;
জগতের গুরু তিনি শিব অবতার,
কোটি নমস্কার করি কৌপীনে তাঁহার।

 শ্রী রাখালদাস মুখোপাধ্যায়।

কৌপীন পঞ্চক।

বেদান্তবাক্যেষু সদা রমন্তো
ভিক্ষান্নমাত্রেণ চ তুষ্টিমন্তঃ।
অশোকমন্তঃকরণে চরন্তঃ
কৌপীনবন্তঃ খলু ভাগ্যবন্তঃ॥ ১ ॥

বেদ বাক্যে অনুরক্ত, ভিক্ষান্নেই তুষ্টিযুক্ত,
অশোক অন্তরে সদা করেন প্রয়ান,
কৌপীন পরিয়া তবু তিনি ভাগ্যবান্॥ ১ ॥

মূলং তরোঃ কেবলমাশ্রয়ন্তঃ
পাণিদ্বয়ং ভোক্তুমমন্ত্রয়ন্তঃ।
কন্থামিব শ্রীমপি কুৎসয়ন্তঃ
কৌপীনবন্তঃ খলু ভাগ্যবন্তঃ॥ ২ ॥

তরু মূলেই আশ্রয়, ভোজনার্থে কর নয়,
ধনে জ্ঞান হয় যাঁর কন্থার সমান।
কৌপীন পরিয়া তবু তিনি ভাগ্যবান্॥ ২ ॥

স্বানন্দভাবে পরিতুষ্টিমন্তঃ
সুশান্তসর্ব্বেন্দ্রিয়বৃত্তিমন্তঃ।
অহর্নিশং ব্রহ্মসুখে রমন্তঃ
কৌপীনবন্তঃ খলু ভাগ্যবন্তঃ॥ ৩ ॥

আত্মানন্দে তুষ্ট মন, সুশান্ত ইন্দ্রিয়গণ,
করে যেবা দিবা নিশি ব্রহ্মে অবস্থান,
কৌপীন পরিয়া তবু তিনি ভাগ্যবান্॥ ৩ ॥

দেহাদিভাবং পরিবর্জ্জয়ন্তঃ
স্বাত্মানমাত্মন্যবলোকয়ন্তঃ।
নান্তং ন মধ্যং ন বহিঃ স্মরন্তঃ
কৌপীনবন্তঃ খলু ভাগ্যবন্তঃ॥ ৪ ॥

ত্যজিয়া দেহাত্মভাব, আত্মে দেখে আত্মভাব,
অন্ত, বাহ্য, মধ্যে মনে নাহি দেন স্থান,
কৌপীন পরিয়া তবু তিনি ভাগ্যবান॥ ৪

ব্রহ্মাক্ষরং পাবনমুচ্চরন্তো
ব্রহ্মাহহমস্মীতি বিভাবয়ন্তঃ।
ভিক্ষাশিনো দিক্ষু পরিভ্রমন্তঃ
কৌপীনবন্তঃ খলু ভাগ্যবন্তঃ॥ ৫ ॥

ব্রহ্মাক্ষর উচ্চারণ, অহং ব্রহ্ম বিভাবন,
ভিক্ষাভোজী হ’য়ে সদা ফিরে নানা স্থান,
কৌপীন পরিয়া তবু তিনি ভাগ্যবান্॥ ৫