পঞ্চরত্ন/সাধন-পঞ্চক
সাধন-পঞ্চক।
সাধক পূজা।
সাধনার ধন, সাধনের তরে,
সাধিয়া যে জন, দেয় অকাতরে,
সাধু সেই জন, সাধু বলি তাঁরে,
সাধে তাঁর পদ, সাধি সমাদরে।
শ্রী রাখালদাস মুখোপাধ্যায়।
সাধন-পঞ্চক।
বেদো নিত্যমধীয়তাং তদুদিতং কর্ম্ম স্বনুষ্ঠীয়তাং
তেনেশস্য বিধীয়তামুপচিতিঃ কামে মতিস্ত্যজ্যতাম্।
পাপৌঘঃ পরিধূয়তাং ভবসুখে দোষোঽনুসন্ধীয়তা
মাত্মেচ্ছা ব্যবসীয়তাং নিজগৃহাত্তূর্ণং বিনির্গম্যতাম্॥১॥
কর বেদ অধ্যয়ন, তৎকার্য্য পরায়ণ,
তদ্দ্বারা করহ নিত্য ঈশ্বর পূজন,
পরিত্যাগ কর সদা বিষয় চিন্তন।
বিধৌত্ কর কলুষ, ভবসুখে দেখ দোষ,
আত্মাকে জানিতে সদা করহ যতন,
নিজ গৃহ হতে শীঘ্র কর পলায়ন॥১॥
সঙ্গঃ সৎস্থ বিধীয়তাং ভগবতো ভক্তির্দ্দৃঢ়াধীয়তাং
শান্ত্যাদিঃ পরিচীয়তাং দৃঢ়তরং কর্ম্মাশু সন্ত্যজ্যতাম্।
সদ্বিদ্যো হুু্যপসর্প্যতাং প্রতিদিনং তৎপাদুকা সেব্যতাং
ব্রহ্মৈকাক্ষরমর্থ্যতাং শ্রুতিশিরোবাক্যং সমাকর্ণ্যতাম্॥২॥
সাধুর সহিত স্থিতি, ঈশ্বরে অচলা মতি,
যত্নে কর শমাদির আশ্রয় গ্রহণ,
দৃঢ়তর কর্ম্ম আশু কর বিসর্জ্জন।
জ্ঞানিজন উপাসন, তৎপাদুকা নিষেবণ,
একাক্ষর পরব্রহ্ম করিবে যাচন,
উপনিষদের বাক্য করিবে শ্রবণ ॥২॥
বাক্যার্থশ্চ বিচার্য্যতাং শ্রুতিশিরঃ-পক্ষঃ সমাশ্রীয়তাং
দুস্তর্কাৎ সুবিরম্যতাং শ্রুতিমতস্তর্কোঽনুসন্ধীয়তাম্।
ব্রহ্মৈবাস্মি বিভাব্যতামহরহর্গর্ববঃ পরিত্যজ্যতাং
দেহেহহম্মতিরুজ্ঝ্যতাং বুধজনৈর্বাদঃ পরিত্যজ্যতাম্ ॥৩॥
বাক্যার্থ বিচার কর, শ্রুতি শির পথ ধর,
কুতর্ক হইতে সদা হইবে বিরত,
শ্রুতি মত তর্কে মাত্র হইবে নিরত।
আপনাকে ব্রহ্ম ভাব, পরিত্যাগ কর গর্ব্ব,
পরিহর নিজ দেহে আত্মবুদ্ধিবাদ,
করিও না সাধুজন সহিত বিবাদ ॥৩॥
ক্ষুদ্ব্যাধিশ্চ চিকিৎস্যতাং প্রতিদিনং ভিক্ষৌষধং ভুজ্যতাং
স্বাদ্বন্নং ন তু যাচ্যতাং বিধিবশাৎ প্রাপ্তেন সন্তুষ্যতাম্।
শীতোষ্ণাদি বিষহ্যতাং ন তু বৃথা বাক্যং সমুচ্চার্য্যতা
মৌদাসীন্যমভীপ্স্যতাং জনকৃপানৈষ্ঠুর্য্যমুৎসৃজ্যতাম্ ॥৪॥
কর শান্তি ক্ষুধাব্যাধি, ভক্ষ নিত্য ভিক্ষৌষধি,
সুস্বাদু অন্নের তরে ক’রনা যাচন,
সন্তুষ্ট হইবে লভি বিধিদত্ত ধন।
সদা বাতাতপ সহ, বৃথা বাক্য নাহি কহ,
বাঞ্ছিত বিষয়ে সদা হও উদাসীন,
পরিত্যাগ কর ভাব করুণ কঠিন ॥৪॥
একান্তে সুখমাস্যতাং পরতরে চেতঃ সমাধীয়তাং
পূর্ণাত্মা সুসমীক্ষ্যতাং জগদিদং তদ্ব্যাপিতং দৃশ্যতাম্।
প্রাক্-কর্ম্ম প্রবিলোপ্যতাং চিতিবলান্নাপ্যুত্তরে শ্লিষ্যতাং
প্রারব্ধস্ত্বিহ ভুজ্যতাং ননু পরব্রহ্মাত্মনা স্থীয়তাম্ ॥৫॥
সুথে বসি নির্জ্জনেতে, ব্রহ্ম চিন্তা কর চিতে,
পূর্ণাত্মার সূক্ষ্মভাব কর দরশন,
ব্যাপিয়া আছেন যিনি নিখিল ভুবন।
লভি দিব্য জ্ঞান ধর্ম্ম, নাশ ভূত ভাবি কর্ম্ম,
ভুঞ্জিয়া প্রারব্ধ যত আছে বর্ত্তমান।
পরব্রহ্মরূপে সদা কর অবস্থান ॥৫॥
যঃ শ্লোকপঞ্চকমিদং পঠতে মনুষ্যঃ
সঞ্চিন্তয়ত্যলুদিনং স্থিরতামুপেত্য।
তস্যাশু সংস্মৃতিদবানলতীব্রঘোর-
তাপঃ প্রশান্তিমুপযাতি চিতি-প্রসাদাৎ ॥৬॥
এই পঞ্চ শ্লোক পাঠ করেন যে জন,
স্থিরচিত্তে অর্থ নিত্য করেন চিন্তন,
জ্ঞানের প্রসাদে তাঁর দাবানল প্রায়
নিদারুণ ভব তাপ শান্ত হয়ে যায় ॥৬॥