পাতা:অক্ষয়কুমার বড়াল গ্রন্থাবলী.djvu/২১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।


প্রস্তুতি

 স্বনামধন্য বড়াল কবির নূতন করিয়া পরিচয় দিবার, অথবা তাঁহার প্রথম মানস-সৃষ্টি জনপ্রিয় 'প্রদীপে'র ভূমিকা লিখিবার, সমালোচনার শলাকা দিয়া প্রদীপের উজ্জ্বল শিখা উজ্জ্বলতর করিয়া দিবার আদৌ প্রয়োজন নাই; এবং আমার প্রিয় কবির কাব্য-সৌন্দর্য্য ছানিয়া অমৃত উদ্ধার করিবার শক্তিও আমার নাই। আর, যে প্রতিভা মধ্যাহ্ন-গগন-চারী ভাস্বর ভাস্করের ন্যায় মৃন্ময়ী গৌড়-লক্ষ্মীর পুষ্পখচিত শ্যামল অঞ্চলে ও চিন্ময়ী দেশমাতৃকার মন্দিরচূড়ার হেমকলসে প্রতিফলিত হইয়া সমগ্র বঙ্গভূমি বিভাসিত করিতেছে, ক্ষুদ্র পরিচয়ের আলো ধরিয়া- বড়ালকবির ভক্তিপূত ঘৃতপ্রদীপ তুলিয়া ধরিয়াও - সে প্রতিভা দেশবাসীকে দেখাইবার চেষ্টাও যে বিড়ম্বনা, তাহাতেও সন্দেহ নাই। কবির সহিত আমার দুই যুগের সম্বন্ধ; 'প্রদীপে'র সহিত আমার পরিচয় তাহারও পূর্ববর্ত্তী। নূতন সংস্করনের 'প্রদীপে' সেই সম্বন্ধের - সেই পরিচয়ের একটু চিহ্ন থাকে, উভয় বন্ধুর এই ইচ্ছাটুকু পূর্ণ করিবার জন্য এই ভূমিকার 'পিলসুজে'র উপর বড়ালের প্রদীপটিকে অত্যন্ত সঙ্কোচের সহিত বসাইয়া দিতেছি। ইহাই আমার কৈফিয়ৎ।

 যে বয়সে 'প্রাণারাম কিবা নির্ম্মল উজ্জ্বল বিভা' জীবনের চারিদিকে খেলা করিত, সেই বয়সে 'প্রদীপে'র কম্পিত শিখায় নূতন সৌন্দর্য্য দেখিয়া হৃদয় মুগ্ধ হইয়াছিল। তাহার পর অনেক প্রদীপ জ্বলিয়াছে নিবিয়াছে; কত তখনকার নূতন এখন পূরাতন হইয়া গিয়াছে; কিন্তু বড়ালের 'প্রদীপ' আমার পক্ষে এখনও নূতন আছে। আমার বিশ্বাস, - এ প্রদীপ ভবিষ্যতেও নূতন থাকিবে। আলাদীনের আশ্চর্য্য প্রদীপের মত বড়ালের প্রদীপও - অবশ্য ক্ষুদ্র পরিসরে - সৃষ্টি-কুশলী। জীবনের ও জগতের নানা বৈচিত্র 'প্রদীপে'র বিভায় উদ্ভাসিত হইয়া উঠিয়াছে। স্নিগ্ধ, মৃদু,আবেগচঞ্চল দীপশিখার মত এক একটি ক্ষুদ্র কবিতা আলোটুকু ছড়াইয়াই, আপনার বক্তব্যটুকু বলিয়াই নিঃশেষিত- নির্ব্বাপিত হয় না, ভাবুকের মানস-পটে আলোয় ছায়ায় একটু নবভাবের রেখা আঁকিয়া দিয়া যায়। বড়ালের গীতি-কবিতার ঝঙ্কারে অনেক বিস্তৃত ভাব ফুটিয়া উঠে, অনেক নূতন ভাব মুর্ত্তিপরিগ্রহ করে। 'প্রদীপে'র খন্ড-কবিতায় ভাবকে পূর্ণাবয়বে অভিব্যক্ত করিবার চেষ্টা বা প্রয়াস নাই। তাহা যতটুকু প্রকাশ করে, তাহার অপেক্ষা অনেক অধিক আভাসে ফুটিয়া উঠে। লীলাময়ী তটিনীর মত স্বচ্ছন্দবাহিনী স্বচ্ছ ভাষায় ভাবের ফুলগুলি ভাসিয়া যায়। যে দেখে, সে মুগ্ধ হয়; কিন্তু যে ভাবে, ভাবিয়া দেখে, এবং দেখিয়া ভাবিতে পারে, সে প্রত্যেক ফুলে নূতন সৌন্দর্য্যের আভাস অনুভব করে। ফুলের সৌন্দর্য্য, সৌরভ ও স্ব-রূপের অতিরিক্ত কিছু তাহার মনে ফুটিয়া উঠে। এই শ্রেণীর কবিতায় যে ভাব পাতা-ঢাকা ফুলের মত প্রচ্ছন্ন থাকে, ভাবুকের মনে

  প্রদীপ-খ