পাতা:অক্ষয়-সুধা - অক্ষয়কুমার দত্ত.pdf/১০৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

৫২ অক্ষয়-ক্ষুধা একটা প্রকাও রাক্ষস। দেথিতে দেথিতে আপনার শরীর বৃদ্ধি করিয়া। ফেলিল। এক্ষণে ও যেরূপ সূলকায় হইয়া উঠিল, আমার বোধ হইতেছে, বিশ্ব-সংসার ভোজন করিলেও, উহার উদর পূর্ণ হয় না। উহার নাম কি জান?—লোভ’। বিশেষতঃ কাব্য-তরুতলে যে দুই প্রচণ্ড পিশাচ দণ্ডায় মান দেখিতেছ, উহাদের অত্যাচারে এ স্থানের অতিশয় অপযশ ঘোষণা হইয়াছে; উহাদের নাম —‘কাম’ ও ‘পান-দোষ ’। এককালে এই অপূর্ব। আনন্দ-কাননে নিষ্কলঙ্ক দম্পতীপ্রেমেরই প্রাদুর্ভাব ছিল।; তৎকালে। অনে কানেক প্রধান ধর্ম্ম তাহার সহচর ছিল, কোন দুঞ্জিয়া এস্থানে প্রবেশ করিতেও সমর্থ হইত না। এক্ষণে তাহার সম্পূর্ণ বিপর্য্যয় ঘটিয়াছে। দম্পতীপ্রেম ও তাহার সহচরদিগের দৈত্য-দশা উপস্থিত হইয়। পরাস্তুরাগী। কামরূপ পিশাচেরই আধিপত্য বৃদ্ধি হইতেছে। অবলোকন কর, পান, দোষ আপনার দল—সহকারে কি অহিত আচরণ করিতেছে! কি বীভৎস বেশ ধারণ করিয়াছে! দেখ দেখ, তাহার ভয়ে ধর্ম্ম সকল ইতস্ততঃ পলায়ন করিতেছে। পশ্চাৎ হইতে আর কতকগুলি দুর্দান্ত পিশাচ পিশাচী। আসিয়াতাহার সহিত বিকট হাস্ত করিয়া নৃত্য করিতেছে। হে প্রিয়তম! এমত পরিশুদ্ধ পুণ্যধামে, এ প্রকার অবস্থা দেখিয়া, আমার হৃদয় বিদীর্ণ। হইতেছে। যাহারা এই সমস্ত রাক্ষস পিশাচকে আশ্রয় দেয়, তাহারা তদ্দার। আমাকেই পেহার করে; আমি এ অরণ্যের অধিষ্ঠাত্রী হইয়া, স্বয়ং এরূপ ভূরি ভূরি অপ্রিয় ব্যাপার আর কত দেখাইব? ঐ ঘন-পল্লবাবৃত নিবিড় বৃক্ষের অন্তরালে যে এক পরমাসুনন্দরী রমণীকে দৃষ্টি করিতেছ, উহার পর কুৎসিত স্ত্রী আর দ্বিতীয় নাই। উহার গাত্রে যে কত ব্রণ, কত ক্ষত ও কত কলঙ্ক আছে, তাহার সংখ্যা করা যায় না। কেবল কতকগুলি বেশভূষাকল্পনা দ্বারা তৎসমুদায় প্রচ্ছন্ন রাশিয়াআপনাকে সম্প্রীভূত কারিয়া দেখাইতেছে, উহার নাম —‘কপটতা।