পাতা:অক্ষয়-সুধা - অক্ষয়কুমার দত্ত.pdf/১৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

( J• ) হয় নাই। কিন্তু এই আলোচনা বিশেষরূপে আবখ্যক। আমরা এই উদ্দেশেই বঙ্গসাহিত্যের সুপ্রসিদ্ধ লেখকগণের রচনা-রীতি আলোচনার চেষ্ট৷ করিতেছি। কোনও সুপ্রসিদ্ধ সাহিত্যশিল্লী সম্বন্ধে যথার্থরূপে আলোচনা করিতে হইলে, তাহার সাহিত্যসাধনার উদ্দেশ্য কি, তাহা নিৰ্ধারণ করা আবখ্যক। সাহিত্যালোচনার দ্বারা কি হয়? মানবের হৃদস্রবৃত্তি ও মনোবৃত্তি অনুশীলিত ও মার্জিত হয়, তাহার অনুভবশক্তি ও উপভোগ-শক্তি ব্যাপ্তি ও গভীরতা লাভ করে। স্বভাবের শিশু মানব, সাহিত্য আলোচনা দ্বারা একটি উন্নততর অবস্থায় আরোহণ করিয়ামানব-জীবনের ধ্যত। ও পূর্ণতা লাভ করে। সুতরাং, সাহিত্যশিল্পী মানব জীবনের গুরু ও পথপ্রদর্শক। তিনি বন্ধুর ্যায় হাস্তমুথে ও মিষ্টভাবে জনসাধারণের আপনার জন হইয়া, তাহাদের। সহিত মিলিয়া মিশিয়া থাকিতে পারেন; কিন্তু তাহার একটি উন্নততর লক্ষ্য থাকা চাই। সেই লক্ষ্য জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে তাহার হৃদয়ে সদাই প্রতিবিম্বিত হইতেছে। আর তিনি নব নব সৌন্দর্য্যের সৃষ্টি। করিয়া, মানবকে সেই আদর্শ বা লক্ষ্যের অভিমুথে চালিত করিয়া লইয়া যাইতেছেন। সাহিত্যশিল্পে ইহার নাম– লক্ষ্য বা আদর্শ। সাহিত্যশিল্পীর যেমন একটি সুস্পষ্ট লক্ষ্য থাকা প্রয়োজন, তেমনি সেই লক্ষ্যে মানবকে পরিচালিত করিবার একটি সুনির্দিষ্ট পস্থাও থাকা আবশ্যক। মানবের আলোচনার বিষয় অসংখ্য। আমরা আমাদের ভাবুকতার দ্বারা, প্রতিদিন বিবিধ প্রকার বিষয় ও ব্যাপারের সংস্পর্শে আসিতেছি। সমাজ, ধর্মনীতি, দর্শন, বিজ্ঞান, কাব্য, প্রকৃতির নব নব সৌন্দর্য্য ও রহস্য, নরনারীর বিচিত্র প্রকারের জীবনযাত্রা পদ্ধতি, অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের, ইহলোকের ও পরলোকের, নিকটের ও দূরের, বহু বছ বিষয় ও ব্যাপার আমাদিগকে হাসাইয়া কাদাইয়াস্থী করিয়া।