পাতা:অক্ষয়-সুধা - অক্ষয়কুমার দত্ত.pdf/২৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

( M9/• ) তাবানুকরণ ও স্বদেশদ্রোহিতার একটা ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ আছে বলিয়া অনেকে বিবেচনা করেন। এই কারণে আমাদের সাহিত্যে স্বাধীন চিন্তার ও সংস্কারমুক্ত গবেষণার একটা প্রতিক্রিয়া ও দেখা যায়। কিন্তু স্বাধীন চিন্তার স্বাস্থ্যকর পরিণতি কি? অক্ষয়কুমারের নির্মল, বিলাসবিমুখ, আড়ম্বরহীন, সরল ও উদার জীবন, তাহার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। অক্ষকুমার দত্তের সাহিত্যসাধনার ঘাহা লক্ষ্য ছিল, তাহা বলা হইল॥ এই লক্ষ্য রাজা রামমোহন রায়েরও ছিল। রাজা রামমোহন রায় দেশে যে জাগরণ আনিয়াছিলেন এবং তাহার সময় হইতে চারিদিকে যে। আন্দোলন, আলোচনা ও শিক্ষাবিস্তার আরম্ভ হইয়াছিল, তাহার ফলে। অক্ষয়কুমার অনেক সুবিধা পাইয়াছিলেন। রাজা রামমোহনের সময়ে সুপাঠ্য ও সর্বজনীন বাঙ্গালা গগসাহিত্য একেবারে ছিল না বলিলেই হয়। যাহা ছিল, তাহা উল্লেখযোগ্য নয়। রাজা রামমোহনকে দুর্গম বনপ্রদেশে পথ প্রস্তুত করিতে হইয়াছিল। গদ্য কেমন করিয়া পড়িতে হয়, পাঠকগণকে তাহ৷ শিথাইয়া লইতে হইয়াছিল। কিন্তু অক্ষয়কুমারের এ সমুদয় অসুবিধা ছিল না। দেশের লোকের মানসিক প্রকৃতি, চিন্তা প্রণালী ও সংস্কার তখন বহুল পরিমাণে পরিবর্তিত হইয়াছে। রাজা রামমোহন রায় চিন্তা ও সাধনারাজ্যে যে যে বিভাগে আঘাত করিয়াছিলেন, অক্ষয়কুমার তাহার প্রত্যেক বিভাগে রাজা রামমোহনের। সাধনাকে ‘অগ্রবর্তী করিয়া গিয়াছেন। রাজা রামমোহন রায় বুঝিয়াছিলেন, ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মধ্যে মৈত্রী স্থাপন এবং এই মৈত্রী স্থাপনের জষ্ঠ্য সকল ধর্মের ও সকল সম্প্রদায়ের শাস্ত্রগ্রছ, আচার অনুষ্ঠান প্রভৃতি। শ্রদ্ধার সহিত অথচ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আলোচনা করা একান্তভাবে আাব্যক। ধর্মের বাহিরের আবরণ লইয়া মানুষ কলহ করিতেছে—ধর্মের যাহা প্রাণ তাহা অম্বেষণ করিবার জন্য কাহারও আগ্রহ নাই।