পাতা:অক্ষয়-সুধা - অক্ষয়কুমার দত্ত.pdf/৩৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

( ১৯• ) এই বোধ আমরা হারাইয়া ফেলিয়াছিলাম॥ প্রচলিত ধর্ম ও সামাজিক অবস্থা, এই ব্যক্তিত্ব বিকাশের প্রতিকূল ছিল। প্রতীচ্য সভ্যতার সংস্পর্শে আসিয়া আমাদের সর্বপ্রধান উপকার এই হইয়াছে যে, ব্যক্তিগত জীবনকে, তাহার বৈশিষ্ট্যের মধ্য দিয়। স্বাধীন ভাবে ফুটাইয়৷ তুলিবার আবশ্যকতা আমরা বুঝিয়াছি। রাজা রামমোহন রায়, এই ব্যক্তিগত বৈশপ্তোর ভূমিতে দাড়াইয়া স্বাধীন চিন্তার পতাকা উত্তোলন করিয়াছিলেন। অক্ষয়কুমার দত্তের জীবন, এই বৈশিষ্ট্য ঘুরণের প্রকৃত দৃষ্টান্তস্থল। দশ বৎসর বয়ঃক্রমের সময় প্রাকৃতিক ভূগোলের বঙ্গানুবাদ পড়িয়া তিনি বুঝিলেন যে, প্রকৃত জ্ঞান-রাজ্যে উন্নত হইতে হইলে, আমাদের দেশের প্রচলিত শিক্ষ’পদ্ধতির অসুবৰ্তন করিলে চলিবে না। ইহাতে র্তাহার প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্যের পরিচয় পাওয়া যাইতেছে। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ বলিলেন। — ‘ঈশ্বর সর্বশক্তিমান'; অক্ষম্বকুমার প্রতিবাদ করিয়া বলিলেন, ‘সর্বশক্তিমান্ ন'ন-বিচিত্র শক্তিমান্।’ ইহা অবস্থ্য পরিণত বয়সের কথা। কিন্তু, এই কথায় বৈজ্ঞানিক বুদ্ধি ও নিজের প্রকৃত বোধের উপর নির্ভয়ে দাড়াইম্বা বহু কালের প্রচলিত মত ও বহু জনের আদর পূর্বক স্বীকৃত মতের বিরুদ্ধে দাড়াহবার অতি বিপুল শক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি ঈশ্বরের নিকট প্রার্থন করিবার অনাবশ্যকত৷ প্রচার করিয়াছিলেন—সে সময়ে ইছাও বড় কম কথা নহে। অক্ষয়কুমারের জীবনের দ্বিতীয় কথা৷ - তিনি ‘ব্রতধারী’ ছিলেন। নিজে জ্ঞানার্জন করিয়া, নিজের দেশের ভাষার সাহায্যে, দেশবাসী জন-সাধারণকে সেই জ্ঞান বিতরণ করিব— ইহাই তাহার জীবনের ব্রত ছিল॥ সাংসারিক উন্নতির নানাপ সুযোগ র্তাহার নিকট উপস্থিত ছিল— ইচ্ছা করিলে তিনি সে যুগে ব্যবসায় করিয়া, বিপুল ধনাঞ্জন করিতে পারিতেন, চাকুরী করিয়া বছ টাকা বেতন পাইতে পারিতেন। কিন্তু জীবনে যাহা ব্রত বলিয়া গ্রহণ