পাতা:অক্ষয়-সুধা - অক্ষয়কুমার দত্ত.pdf/৩৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

( ১৷• ) সেই প্রয়োগ রহিত করিয়াসকল বিভক্তিতে ও সকল বচনে ঈ-কারান্ত করিয়া লিপিতে আরম্ভ করেন॥ সে সময়ে বাঙ্গালা ভাষার সম্বোধন পদে- মুনে, দেবি প্রভৃতি লিখিবার রীতি ছিল। এই রীতিও অক্ষয়কুমার কর্তৃক পরিবর্জিত হজ্জ। বাঙ্গালা ভাষার যে একটি নিজের জীবন ও নিজস্ব প্রকৃতি আছেবাঙ্গালা ভাষা যে একটি জীবিত ভাষা—এ কথা অক্ষয়কুমার বুখিয়াছিলেন এবং ইহা বুঝাইবার ড্য সে সময়ে অনেক সংস্কৃতবিৎ পণ্ডি তের সহিত তাহাকে বাদানুবাদও করিতে হইয়াছিল। মোট কথা, গতানুগতিকতা বর্জন করিয়া বৈজ্ঞানিকের বুদ্ধি লইয়া, সামাজিক পরিবর্তন ও অভিব্যsির নিয়মের তিনি অনুবৰ্তন করিয়াছিলেন। মানব মাত্রেরই উচ্চতম অধিকার তিনি ঘোষণা করিয়াছিলেন” সংস্কার বর্জন করিয়া, স্বাধীন চিন্তার পথে নিজের বৈশিষ্ট্য পরিষুট করিমাতিনি দেশবাসীকে সেই মন্ত্রে দীক্ষিত করিয়াছিলেন। ঊাহার জীবনের ও সাহিত্যসাধনার ইহাই প্রথম ও প্রধান কথা। ( ৮ আজ সাঁইত্রিশ বৎসর হইল, অক্ষয়কুমার ইহলোক পরিত্যাগ করিয়াছেন। ‘তস্ববোধিনী পত্রিকা ঘখন প্রথম প্রকাশিত হয়, এবং অক্ষয়কুমারের প্রতিভারস্ট্রি ‘তত্ত্ব-বোধিনীর’ সাহায্যে বঙ্গীয় সমাজের উপর ক্রিয়া করিতে আরম্ভ করে, তাহার পর আশী বৎসর চলিয়া গিয়াছে। এই আশী বৎসর বাঙ্গালী জাতি নানা বিষয়ে চিন্তা ও চেষ্টা করিয়াছেন॥ বাঙ্গালী জাতির হৃদয় ও মনে প্রভূত পরিবর্তন হইয়াছে। বাঙ্গালা সাহিত্যও সকল বিষয়ে। বিশেষরূপে পুষ্টিলাভ করিয়াছে। আজ বর্তমানের ভূমিতে দাড়াইয়াযদি অক্ষয়কুমার সম্বন্ধে আলোচনা ৷ করা যায়, তাহা হইলে আমরা দেখিব যে তিনি বাঙ্গালা ভাষাকে যে মূর্তি