পাতা:অক্ষয়-সুধা - অক্ষয়কুমার দত্ত.pdf/৪৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

( ২০ )। প্রথমতঃ –‘অ-কু-দ’ নামের এই সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা বা আদ্যঅক্ষর স্বাক্ষর করিয়া প্রবন্ধ লিখিতেন। ১২৫২ সালে তিনি ‘তত্ত্ববোধিনীপত্রিকার সম্পাদক নিযুক্ত হইয়া দশবর্ষকাল এই কার্য্যে ব্রতী ছিলেন। এই সময় মধ্যে তিনি অমানুষিক পরিশ্রম করিা অসামান্য প্রতিভাবলে, ইউরোপীয় পদার্থ-বিষ্টা বিজ্ঞান, প্রাণিবিদ্যা, ধর্মনীতি, মনস্তত্ত্ব এবং ভারতীয় প্রত্ন-তত্ব প্রভৃতি কঠিন ও জটিল বিষয় অধ্যয়ন ও আয়ত্ত করিয়া, ‘তত্ত্ববোধিনী-পত্রিকাযু’ এই সকল বিষয়ের আলোচনামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত করেন। দীনা বঙ্গভাষা এইরূপে অক্ষয়কুমারের হস্তে বিবিধ ভূষণে ভূষিতা হইলেন। ১২৫৮ সালে। জর্জ কুম্ব রচিত Constitution of Man নামক গ্রন্থ অবলম্বনে ‘বাহ বস্তুর সহিত মানব-প্রকৃতির সম্বন্ধ-বিচার'—প্রথম ভাগ এবং পর বৎসর এই গ্রন্থের দ্বিতীয় ভাগ (প্রকাশিত হয়॥ এই গ্রন্থ, ইংরাজী গ্রন্থের। অনুবাদ মাত্র নহে-— ইহাতে অক্ষয়কুমারের মৌলিক চিন্তার যথেষ্ট পরিচয়। পাওয়া যায়॥ প্রথম ভাগে প্রধানতঃ আমিষ ভোজনের এবং দ্বিতীয় ভাগে। সুরাপানের বিরুদ্ধে আলোচনা আছে। ১২৫৯ সালে ‘চারুপাঠ’ – প্রথম। ভাগ, ১২৬১ সালে ‘চারুপাঠ’ —দ্বিতীয় ভাগ, এবং ১২৭১ সালে ‘চারুপাঠ’ —তৃতীয় ভাগ প্রকাশিত হয়। এই পুস্তক গুলি প্রথম প্রকাশের সময় হইতে অদ্যাপি সমান আদরে স্কুলপাঠ্যরূপে ব্যবহৃত হইতেছে—এতদপেক্ষা এই গ্রন্থের সুখ্যাতির কথা আর কি হইতে পারে? এই গ্রন্থত্রয়ের প্রায় যাবতীয় প্রবন্ধগুলিই ভাবগাম্ভীর্য ও প্রাঞ্জলতায় অপ্রতিদ্বন্দ্রী হইয়া রহিয়াছে। ১২৬৩ সালে ‘পদার্থ-বিদ্যা' প্রকাশিত হঙ্গ—এই গ্রন্থে, প্রাঞ্জল ভাষায় পদার্থবিজ্ঞানের মূল-সূত্রগুলি আলোচিত হইয়াছে। অক্ষকুমার, এই গ্রন্থ-রচনায় যে সকল পারিভাষিক শক সঙ্কলন করিয়াছেন, তাহার। অধিকাংশই এখনও প্রচলিত রহিয়াছে। ১২৭৭ সালে অক্ষয়কুমারের সর্বপ্রধান গ্রন্থ ‘ভারতবর্ষীছু উপাসকসম্প্রদায়’ নামক গ্রন্থের প্রথম ভাগ এবং ১২৮৯