পাতা:অক্ষয়-সুধা - অক্ষয়কুমার দত্ত.pdf/৯৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

সাহিত্য — সুশিক্ষিত ও অশিক্ষিত লোকের মুখের তারতম্য ৪১ বিশ্ব-রাজ্যের কৌশল-চক্রের মর্মাবধারণ করিয়া তদীয় কার্য্য প্রণালী অসংশয়িত চিত্তে সুস্পষ্ট দেখিতে পান। তিনি ভোতিক, শারীরিক, মানসিক স্বতন্ত্র স্বতন্ত্র নিয়মের স্বতন্ত্র স্বতন্ত্র কার্য্য নিৰ্ধারণ হুশিক্ষিতের হৃদয় করিয়া, যে কার্য্যের যে কারণ, তাহা সুন্দররূপে ও মনের প্রাসধ্য অবগত হইয়া অকুঠিতহৃদয়ে সুথে কালহরণ করেন। তিনি আর দেববিশেষকে রোগবিশেষের অধিপতি বলিয়া প্রত্যয় করেন না, মানব দেহকে তেবিশেষের অশ্রয় বলিয়া বিশ্বাস করেন না, ব্যক্তি-বিশেষের অভিসম্পাতকে অপর ব্যক্তির অনিষ্টপাতের হেতু বলিয়া স্বীকার করেন। না, এবং অধিদীপন, বারি-বৰ্ষণ ও বায়ু-সঞ্চারণের স্বতন্ত্র স্বতন্ত্র অধিষ্ঠাত্রীও। কল্পনা করেন না। ঐ সমস্ত কার্য্য। পরমেশ্বর-প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন প্রকার নিয়মানুসারেই সম্পন্ন হইয়া থাকে এবং সেই সকল নিয়ম জগতের কল্যাণ মাত্র সাধনার্থেই তাহাকর্তৃক সঙ্কলিত হইয়াছে, ইহা দেদীপ্যমান দেখিয়৷ অসম্পূচিতচিত্তে জীবনযাত্রা নির্বাহ করেন॥ অকারণ উৎকণ্ঠাঅমূলক আশঙ্কাতাহার অন্তঃকরণ স্পৰ্শ করিতে পারে না। প্রসাদরূপ পবিত্র সমীরণ।াহার চিত্তে সতত সঞ্চরণ করিতে থাকে। এতাদৃশ বিদ্যালোক-সম্পন্ন সুশিক্ষিত ব্যক্তির অন্তঃকরণ অসংখ্য বিষয়ের অসংথ্য ভাবে নিরন্তর পরিপূর্ণ। যে সমস্ত অদ্ভূত বিষয় ও মনোহর ব্যাপার তাহার বোধ-নেত্রের গোচর থাকে, তাহা জানিয়া তাহার হৃদয়ে । দেখিলে বোধ হয়, তিনি নরলোক-নিবাসী হইয়াও, অসংখ্য ভাবের কোন চমৎকার-ময় সুচারু স্বর্গ-লোকে বিচরণ করিতে বিকাশ ছেন। তাহার অন্তঃকরণে নিরন্তর যে সকল ভাবের আবির্ভাব হয়, তাহ৷ অশিক্ষিত লোকের কদাচ অনুভূত হইবার বিষয় নয়। তিনি আপনার মানস-ক্ষেত্রে এককালে সমগ্র ভূমণ্ডল পর্ঘ্যবলোকন করিতে পারেন। মহার্ণব-পরিবৃত স্থলভাগ, সমুদ্রস্থিত দ্বীপপুঞ্জ, চতুর্দিস্ত্রবাহিনী।