পাতা:অক্ষয়-সুধা - অক্ষয়কুমার দত্ত.pdf/৯৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

সাহ্যি—দয়া। ৪৭ লাগিল এবং তন্মধ্যে দিব্য-লাবণ্য-পরিশোভিত পূর্ণচন্দ্র বিরাজমান হইয়া কথনও আপনার পরম রমণীয় অনির্বচনীয়। সুধাময় কিরণ বিকিরণপূর্বক জগৎ ক্ষুধাপূর্ণ করিতেছিলেন, কথনও বা অল্প অল্প মেঘাবৃত হইয়া, স্বকীয় মন্দীভূত কিরণবিস্তার দ্বারা পৌর্ণমাদী রজনীকে উষানুরূপ স্নান করিতে ছিলেন। কখনও তাহার সুপ্রকাশিত রশ্মিজাল সলিল-তরঙ্গে প্রবিষ্ট হইয়া কম্পমান হইতেছিল।, কথনও গগনালস্বিত মেঘবিম্ব দ্বারা যমুনার নির্মল জল ঘনতর ষ্ঠ্যামবর্ণ হইয়াঅস্তঃকরণ হরণ করিতেছিল। পূর্বে দূর হইতে লোকালয়ের কলরব শ্রত হইতেছিল, তাহা ক্রমে ক্রমে মন্দীভূত হইয়াস্ব স্ব স্থানে বিলীন হইল, এবং সর্বসন্তাপ-নাশিনী নিদ্রা জীবগণের নেত্রোপরি আবিভূ ত হইয়াসকল ক্লেশ শান্তি করিতে লাগিল। এইরূপ সুস্মিথ সময়ে আমি তথায় এক পাষাণখণ্ডে উপবিষ্ট হইঙা আকাশ-মণ্ডল নিরীক্ষণ করিতে করিতে, জগতের আদি অন্ত, কার্য্য কারণ, সুখ দুঃখ, ধর্ম্মাধর্ম্ম সমুদায় মনে মনে পর্যালোচনা করিতেছিলাম। ইতিমধ্যে জল-কল্লোলের কলকলধ্বনি, বৃক্ষ-পত্রের শরশৱ-শক ও সুশীতল। সমীরণের সুন্দর হিল্লোল দ্বারা আমার পরম সুখামুভব হইয়া, মনোবৃত্তি সমুদায় ক্রমে ক্রমে অবসন্ন হইয়া আসিল এবং এই অবসরে নিদ্রা আমার অজ্ঞাতসারে নয়ন-দ্বয় নিমীলিত করিয়া, আমাকে অভিভূত করিল। আমার বোধ হইল, যেন এক বিস্তীর্ণ নিবিড় অরণ্যে প্রবেশ করিয়া, ইতস্ততঃ ভ্রমণ করিতেছি! তন্মধ্যে কোন স্থানে কেবল নবীনচুব্বাদল-পরিপূর্ণ ভ্যামবর্ণ। ক্ষেত্র, কুত্রাপি প্রকাণ্ড প্রকাণ্ড পুরাতন বৃক্ষসমূহ, কোথাও নদী বা নির্বার তীরস্থ মনোহর কুম্ভমোচ্যান দৰ্শন করিয়া অপর্য্যাপ্ত আনন লাভ করিলাম। কৌতুহল-দীপ্ত হুতাশন ক্রমশঃ প্রজলিত হইতে লাগিল; এবং তদনুসারে দিগুবিদিক বিবেচনা না করিয়া যতদূর দৃষ্ট হইল, তত দূরই মহোৎসাহে ও পরমসুথে পর্য্যটন করিতে লাগিলাম।