পাতা:অচলায়তন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অচলায়তন 8V) পেটের মতে, ওর গন্ধটা দধির গন্ধ, স্বাদটা ঈষং মিষ্টি । পুর্বদিকের রংটা হচ্ছে সবুজ, গন্ধটা মদমত্ত হাতির মতো, স্বাদটা বকুলের ফলের মতে কষা,—নৈঋত কোণের— দ্বিতীয় শোণপাংশু। আর বলতে হবে না দাদা। কিন্তু দশদিকে তো আমরা এ-সব রং গন্ধ দেখতে পাইনে । পঞ্চক। দেখতে পেলে তো দেখাই যেত। যে ঘোর মৃৰ্থ সেও দেখত। এ-সব কেবল পুথিতে পড়তে পাওয়া যায় জগতে কোথাও দেখবার জো নেই । প্রথম শোণপাংশু। তাহলে দাদা তুমি পুথিই পড়ে, আমরা চললুম। দ্বিতীয় শোণপাংশু। এদের মতো চোখকান বুজে যদি আমাদের বসে বসে ভাবতে হত তাহলে তো আমরা পাগল হয়ে যেতুম। তৃতীয় শোণপাংশু। চল ভাই ঘুরে আসি, শিকারের সন্ধান পেয়েছি। নদীর ধারে গণ্ডারের পায়ের চিহ্ন দেখা গেছে। প্রস্থান পঞ্চক। এই শোণপাংশুগুলো বাইরে থাকে বটে কিন্তু দিনরাত্রি এমনি পাক খেয়ে বেড়ায় যে, বাহিরটাকে দেখতেই পায় না। এর যেখানে থাকে সেখানে একেবারে অস্থিরতার চোটে চতুর্দিক ঘুলিয়ে যায়। এরা একটু থেমেছে অমনি সমস্ত আকাশটা যেন গান গেয়ে উঠেছে। এই শোণপাংশুদের দেখছি ওরা চুপ করলেই আর কিছু শুনতে পায় না— ওরা নিজের গোলমালটা শোনে সেইজন্যে এত গোল করতে ভালোবাসে । কিন্তু এই আলোতে ভরা নীল আকাশটা আমার রক্তের ভিতরে গিয়ে কথা কচ্ছে আমার সমস্ত শরীরটা গুন গুন করে বেড়াচ্ছে।