বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অণুকথা সপ্তক - প্রমথ চৌধুরী (১৯৩৯).pdf/১০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৬
মন্ত্রশক্তি

একখানি লক্‌ড়ি। খেলা সুরু হ’ল। এক মিনিটের মধ্যেই দেখি—কামালের লক্‌ড়ি ঈশ্বরের বাঁ হাতে, আর কামাল নিরস্ত্র হয়ে বোকার মত দাঁড়িয়ে আছে। তখন ঈশ্বর বললে, “যে লক্‌ড়ি হাতে ধরে রাখতে পারে না, সে আবার খেলবে কি?” এ কথা শুনে মনিরুদ্দি রেগে আগুন হয়ে লক্‌ড়ি-হাতে এগিয়ে এল। ঈশ্বর বললে—“তোমার হাতের লক্‌ড়ি কেড়ে নেব না, কিন্তু তোমার গায়ে আমার লক্‌ড়ির দাগ বসিয়ে দেব।” এর পরে পাঁচ মিনিট ধরে দু’জনের লকড়ি বিদ্যুৎবেগে চলাফেরা করতে লাগল। শেষটা মনিরুদ্দির লক্‌ড়ি উড়ে শিবের মন্দিরের গায়ে গিয়ে পড়ল; আর দেখি—মনিরুদ্দির সর্বাঙ্গে লাল লাল দাগ, যেন কেউ সিঁদূর দিয়ে তার গায়ে ডোরাকেটে দিয়েছে।

 মনিরুদ্দি মার খেয়েছে দেখে হেদাৎউল্লা লাফিয়ে উঠে’ বললে, “ধর বেটা সড়কি।” ঈশ্বর বললে, “ধরছি। কিন্তু সড়কি যেন আমার পেটে বসিয়ে দিও না। জানি তুমি খুনে। কিন্তু এ ত কাজিয়া নয়—আপোষে খেলা। আর এই কথা মনে রেখ, রক্ত যেমন আমার গায়ে আছে, তোমার গায়েও আছে।” এর পর সড়কির খেলা শুরু হ’ল। সড়কির সাপের জিভের মত ছোট ছোট ইস্পাতের ফলাগুলো অতি ধীরে ধীরে একবার এগোয়, আবার পিছোয়। এ খেলা দেখতে গা কিরকম করে, কারণ সড়কির ফলা ত সাপের জিভ নয়, দাঁত। সে যাই হোক, হেদাৎউল্লা হঠাৎ ‘বাপ রে’ বলে’ চীৎকার করে উঠল।