বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অণুকথা সপ্তক - প্রমথ চৌধুরী (১৯৩৯).pdf/১৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১২
যখ

করেন নি, ফলে তাঁর ঘরে আর দ্বিতীয় লোক ছিল না। তিনি অবশেষে হয়েছিলেন আমাদের কুলদেবতার পূজারী। আমাদের কুলদেবতা ‘শ্যামসুন্দর’ ছিলেন জঙ্গমঠাকুর—কোন শরিকের বাড়ী পালাক্রমে থাকতেন দুদিন, কোনও বাড়ীতে বা তিন দিন। ঠাকুরের ভোগ খেয়ে ও দক্ষিণা নিয়েই তাঁর অন্নবস্ত্রের সংস্থান হ’ত; আর উপরি সময় তিনি পাঁচজনের শুশ্রূষা করতেন। লোকটি আকারে ছোটখাট; তাঁর বর্ণ শ্যাম, আর মাথার চুল একদম সাদা। এমন নিরীহ, মিষ্টভাষী ও পরোপকারী লোক হাজারে একটি দেখা যায় না। তাঁর নিজের কোনও কাজ ছিল না। কিন্তু পরের অনেক ফাইফরমাস খেটে তিনি হাঁপ জিরবার সময় পেতেন না।

 আমি বিছানায় শুয়ে শুয়ে রমা ঠাকুরকে আমার যখ দর্শনের গল্প বললুম। তিনি সে গল্প শুনে আমাকে ভরসা দিলেন যে কিছু ভয় নেই, তুমি দুদিনেই ভাল হয়ে উঠবে। যখ তোমার আমার মত লোকের হন্তারক নয়। তবে আমার গল্প তিনি সত্য বলেই মেনে নিলেন; কেননা রমা ঠাকুরও একবার দিনদুপুরে নয়, রাতদুপুরে যখ দেখেছিলেন। আর তিনি যে জলজ্যান্ত যখ দেখেছিলেন, সে বিষয়ে তাঁর মনে কোনও সন্দেহ ছিল না। তিনি ইংরাজী পড়েন নি, সুতরাং যা দেখতেন, যা শুনতেন তাতেই বিশ্বাস করতেন। আমার কথা আলাদা। আমি ইংরেজী পড়েছি, সুতরাং যা দেখিশুনি তাতে বিশ্বাস করিনে। আমার থেকে থেকেই মনে হত যে,