মনে করলুম যে, ঘরে বসে রাত জাগার চাইতে এক ঘটি সিদ্ধি খেয়ে রাত্তিরেই বেরিয়ে পড়ব—আর হেসে-খেলে পাঁচ ক্রোশ পথ চলে যাব। রাত এগারটায় বেরলেও ভোর হতে না হতে নন্দীগ্রাম গিয়ে পৌঁছব।
আমি জিজ্ঞেস করলুম—
“রাত্তিরে একা এই বনজঙ্গলের ভিতর দিয়ে যেতে ভয় করল না?” তিনি হেসে উত্তর করলেন—
“ভয় কিসের, চোর ডাকাতের? জানেন না, লেংটার নেই বাটপাড়ের ভয়। চোর ডাকাত আমার নেবে কি? গলার তুলসি কাঠের মালা, না গায়ের নামাবলী? তা ছাড়া এ অঞ্চলে যারা ডাকাতি করে, তারা সব আপনাদেরই মাইনেক্রা লেঠেল। তারা আমাকে ছোঁবে না, সঙ্গে হীরাজহরৎ থাকলেও নয়। ভয় অবশ্য বাঘের আছে। কিন্তু তারাও আমাদের মত গরীব ব্রাহ্মণদের ছোঁয় না। আমাদের শরীরে আছে হাড় আর চামড়া আর দু-তিন ছটাক রক্ত, কিন্তু রস একেবারেই নেই। বাঘরাও মানুষ চেনে, অর্থাৎ কে খাদ্য আর কে অখাদ্য। সে যাই হোক, রাত এগারটা আন্দাজ বেরিয়ে পড়লুম। আর ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই খঞ্জনার ধারে গিয়ে পড়লুম। খঞ্জনা কখনো দেখেছেন? চমৎকার নদী। রসি দু-তিনের চাইতে বেশি চওড়া নয়—কিন্তু বারোমাস তাতে জল থাকে, আর সে জল বারোমাস টল্টল্ করছে, তক্ তক্ করছে। এই খঞ্জনার ধার দিয়েই সোজা নন্দীগ্রাম যেতে হয়।