বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অণুকথা সপ্তক - প্রমথ চৌধুরী (১৯৩৯).pdf/২২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ঝোট্টন ও লোট্টন

[১]

 যে কালের কথা বলছি, তখন আমি বাংলাদেশের কোন একটা সহরে বাস করতুম,—কলকাতায় নয়।

 পাড়াগাঁয়ে সহরের নানা অভাব থাকতে পারে, কিন্তু একটা জিনিষের অভাব নেই—অর্থাৎ জমির। সহরের ভিতরে না হোক বাইরে দেদার জমি পড়ে আছে,—জঙ্গল নয়, ধানের ক্ষেত। আর সেই সব ধান-ক্ষেতকে কেউ কেউ প্রকাণ্ড হাতাওয়ালা বাড়ীতে পরিণত করেছেন। আমি যে বাড়ীতে বাস করতুম, সেটা ছিল সেই জাতের বাড়ী।

 সে বাড়ীতে বারো হাত কাঁকুড়ের তেরো হাত বীচি-গোছ একটা মস্ত আস্তাবল ছিল,—বসতবাড়ীর গা ঘেঁসে নয়, দু’তিন রসি তফাতে বড় রাস্তার ধারে। সে আস্তাবলে ছিল মস্ত একটা গাড়িখানা, তার দু’পাশে দু’টি ঘোড়ার থান, আর তার ওপাশে সইস-কোচমানদের সপরিবারে থাকবার ঘর। আমি যে-সময়ের কথা বলছি, তখন সেখানে গাড়িও ছিলনা ঘোড়াও ছিল না, মানুষও থাকত না। ছিল শুধু ইঁদুর ও ছুঁচো, টিকটিকি ও আরসোলা; আর সেখানে যাতায়াত করত গো-সাপ ঢোঁড়াসাপ আর গিরগিটি, যাদের দেখবামাত্র আমাদের নীরব ও নিরীহ বিলিতী শিকারী