বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অণুকথা সপ্তক - প্রমথ চৌধুরী (১৯৩৯).pdf/২৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ঝোট্টন ও লোট্টন
১৯

কুকুরটা তম্মুহূর্ত্তে বধ করত; অথচ তাদের মাংস খেত না। সে ছিল ইংরেজরা যাকে বলে real sportsman। “কর্ম্মণ্যে-বাধিকারস্তে না ফলেষু কদাচন”—এ উপদেশ তাকে দেওয়া ছিল নিষ্প্রয়োজন; কারণ ফলনিরপেক্ষ হত্যাই ছিল তার স্বধর্ম্ম।

[২]

 একদিন সকালে আমাদের বাড়ীর বারান্দায় বসে চা খাচ্ছি, এমন সময় শুনতে পেলুম সেই পোড়ো আস্তাবলে কে মহা চীৎকার করছে। কানে এল আমাদের মালী চিনিবাসের গলার আওয়াজ। সে তারস্বরে ‘নিকালো নিকালো’ বলে চেঁচাচ্ছে। বুঝলুম যার প্রতি এ আদেশ হচ্ছে, সে পশু নয়—মানুষ।

 এই গোলমাল শুনে আমি ও আমার এক আত্মীয় উপেনদাদা দুজনে সেখানে ছুটে গেলুম। গিয়ে দেখি আস্তাবলে গাড়িখানার মেঝেয় দুটি লোক বসে আছে। দুজনেই সমান অস্থিচর্মসার, আর দুজনেই মুমূর্ষু। রোগেই হোক, উপবাসেই হোক, তারা শুকিয়ে মুকিয়ে আমচূর হয়ে গেছে তারা যে চিনিবাসের কথা অমান্য করছে, তার কারণ তাদের নড়বার চড়বার শক্তি নেই। এমন কঙ্কালসার মানুষ জীবনে আর কখনো দেখিনি। তারা যে এখানে চলে এল কি করে, তা’ বুঝতে পারলুম না। বোধহয় আকাশ থেকে পড়েছিল।

 উপেনদা এদের দেখবামাত্র চিনিবাসের সঙ্গে যোগ দিয়ে “বেরিয়ে যাও” বলে চীৎকার করতে লাগলেন। আমি ও-