[৫]
তার পরদিন সকালে চিনিবাস এসে বল্লে যে, কাল রাত্তিরে ঝোট্টন লোটাটা নিয়ে ভেগেছে, আর ফেলে গিয়েছে সেই ছেঁড়া কম্বলখানা। চিনিবাস রাগের মাথায় আরও বল্লে “ও শালা চোর হ্যায়, উস্কো রাস্তামে পকড়কে মারকে ও-লোটা হাম লে লেগা।” এ কথায় উপেনদাও রেগে তাঁর হিন্দীতে জবাব দিলেন—“তুমি চোরের উপর বাটপাড়ি করতে গিয়াথা, না পেরে এখন ঝোট্টনকে খুন করতে চাতা হ্যয়। ঐ লোটার লিয়ে তুমি লোটনকো পিঠে করে হাঁসপাতাল যাতা আতা থা। আর তার মরবার পর ও লোট্টনের জাতবিচার নেই করকে তার মড়া কাঁধে করেছ। তোমি মানুষ নেহি হ্যয়—পশু হ্যয়।” চিনিবাস জিজ্ঞেস করলে—“মুদা কোন জাত হ্যয় বাবুজি?”
এর পর চিনিবাস ভেউ ভেউ করে কেঁদে উঠল—উপেনদার কটু কথা শুনে নয়, হারাধন লোটার দুঃখে। ইতিমধ্যে মা এসে জিজ্ঞেস করলেন—এত দুঃখ কিসের? চিনিবাস বল্লে—“হমারা জরুকো বোল্কে আয়া যো একঠো আচ্ছা লোটা লা দেগা। বেগর লোটা ঘর যানেসে উস্কা সাথ লড়াই হোগা। ও ভি হামকো মারেগা, হাম ভি উস্কো মারেগা। ওঠো ছোটা জাতকে ওউরৎ হ্যয়, উস্কো মারনেসে ও ভাগে গা। তব্ হামারা ভাত কোন পাকায় গা? হাম ভুক্সে মরেগা।”
এ বিপদের কথা শুনে মা বল্লেন—“আমি তোমাকে একটা নতুন ঘটি কিনে দেব।” এ আশা পেয়ে চিনিবাস শান্ত হল।