—এদেশে তারা গাছেও থাকে না, পায়ে হেঁটেও বেড়ায় না। তারা ট্রেণের ফার্ষ্ট ক্লাশ গাড়ীতে চড়ে বেড়ায়। আর ফিরিঙ্গি ভূতরা সেকেণ্ডক্লাশ গাড়ীতে। তবে একবার একজনের দেখা পেয়েছিলুম, তা আর বলবার কথা নয়। আজও মনে হলে কান্না পায়।
—আমরা সেই সাহেব ভূতের গল্প শুনতে চাই।
সারদা-দা একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে বললেন—
আচ্ছা বলছি শোনো। কিন্তু এ গল্প যেন আর কাউকে বলো না।
—কেন?
—কি জানি আবার যদি মানহানির মামলায় পড়ে যাই। মরা লোকেরও মানহানি করলে জরিমানা হয়, জেলও হয়। আবার জেল খাটতে আমার ইচ্ছে নেই। এর পর সারদা দাদা বললেন:—
আমি একবার কলকাতা থেকে কাশী যাচ্ছিলুম। হাওড়া ষ্টেশনে যখন পৌঁছলুম, তখন গাড়ী ছাড়ে ছাড়ে। তাই একটা খালি ফাষ্টক্লাশ্ গাড়ীতে উঠে পড়লুম এই মনে করে যে, পরের ষ্টেশনে নেমে থার্ডক্লাশে ঢুক্ব। গাড়ীত ছাড়ল, অমনি বাথরুম থেকে একটি সাহেব বেরিয়ে এল। ঝাড়া সাড়ে ছ’ফুট লম্বা, মুখ রক্তবর্ণ, চোখ গুগ্লির মত। আর তার সর্ববাঙ্গে বেজায় মদের গন্ধ বেরচ্ছে, আর সে বিলেতী মদের। সে ঘরে ঢুকেই বললে “কালা আদমী নীচু যাও!” আমার তখন ভয়ে