তার পরদিনই দারোগাবাবু আমাকে আদালতে হাজির করলেন। আমার অপরাধ নাকি গুরুতর, আর অবিলম্বে আমার বিচার হওয়া চাই। হাকিমবাবু ছিলেন অতিশয় ভদ্রলোক, উপরন্তু উচ্চশিক্ষিত। তিনি গাড়ীতে ভূতের উপদ্রবের কথা সম্পূর্ণ বিশ্বাস করলেন, কারণ তিনি ছিলেন ঘোর থিয়োজফিষ্ট্ কিন্তু ভগবানের দোহাই ও ভূতের দোহাই ইংরেজের আদালতে চলে না। ভগবান ও ভূত এ দুয়ের অস্তিত্ব বে-আইনী। অগত্যা তিনি আমাকে এক মাসের মেয়াদে জেল দিলেন। আমার অপরাধ বিনা টিকিটে বিনা বসনে ফার্ষ্ট ক্লাশ গাড়ীতে গাঁজা খেয়ে ভ্রমণ। তারপর আমাকে সতর্ক করে দিলেন এই বলে যে—গাঁজা খাও ত খেয়ো; কিন্তু গাঁজায় দম দিয়ে আর কখনো বিনা টিকিটে ট্রেনে চড়ো না, বিশেষতঃ তৈলঙ্গস্বামী সেজে ফার্ষ্ট ক্লাশে ত নয়ই।
আমি বললুম—“হুজুর, গাঁজা আমি খাইনে।” তিনি বললেন, “গাঁজাখোর বলেই ত তোমাকে লঘুদণ্ড দিলুম, নইলে তোমাকে দায়রা সোপর্দ্দ করতুম।”
এখন তোমরা ফার্ষ্টক্লাশ ভূতের কথা ত শুনলে। এদের তুলনায় পাড়াগেঁয়ে ভূতেরা ঢের বেশি সভ্য৷