সে গাড়ীতে উঠতে গিয়ে দেখি জনৈক পল্টনী সাহেব আগেভাগে সেখানে অধিষ্ঠান হয়েছেন। এতে অবশ্য আমি খুসী হলুম না। মেমেরা যেমন কালা আদমীদের সঙ্গে এক গাড়ীতে উঠতে ভালবাসেন না—আমরাও তেমনি সাহেবসুবোদের সঙ্গে এক গাড়ীতে যেতে আসোয়াস্তি বোধ করি। রঙের তফাতে যে, মানুষে মানুষে কত তফাত হয়, তা ত তুমি জান। কিন্তু অগত্যা সেই গাড়ীতেই, উঠে পড়লুম। সেটা ছিল ফার্স্ট ক্লাশ, আর আমার পকেটেও ছিল ফার্স্ট ক্লাশের টিকিট। এক পা কাদা নিয়ে ঢুকতে ঈষৎ ইতস্ততঃ করছিলুম। কিন্তু চোখে পড়ল যে সাহেবটীর পদযুগলও তদবস্থ। তাঁর পা আমার চাইতে ঢের বড়, জুতোও সেই মাপের সুতরাং কর্দমাক্ত হয়েছে তদনুরূপ। ট্রেণে চড়ার পর মাঝপথে গাড়ী থেকে নেমে, কিছুদূর পায়ে হেঁটে, আবার নতুন গাড়ীতে চড়া কষ্টকর না হলেও বিরক্তিকর। আগের গাড়ীতে মালপত্র যেমন সুব্যবস্থিত থাকে, পরের গাড়ীতে ঠিক তা থাকে না : সবই ভেস্তে যায়। যা ছিল চড়বার গাড়ীতে, তা মালগাড়ীতে চলে যায়; আর কোন কোন জিনিস মালগাড়ী থেকে বসবার গাড়ীতে বদলি হয়। এতেই মন খিঁচ্ড়ে যায়। ছোটখাটো অসুবিধে আসলে মস্ত বড় অসুবিধে। আমি মুখের ঘাম মুছতে আমার hand-bag থেকে একটি রুমাল বার করতে গিয়ে দেখি সেটি অদৃশ্য হয়েছে। তাই কি করি—ভিজে মুখ ভার করে বসে থাকলুম। চারিপাশ কুয়াসার খদ্দরে ঢাকা; তাই পাহাড়ের দৃশ্য আমার চোখে পড়ল না। যদিচ এই
পাতা:অণুকথা সপ্তক - প্রমথ চৌধুরী (১৯৩৯).pdf/৪৯
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
স্বল্প-গল্প
৪৫