পথটুকুর চেহারা অতি চমৎকার। রাস্তার দুধারে প্রকাণ্ড গাছ, যাদের একটিরও নাম জানিনে; অথচ দেখতে বড় ভাল লাগে। পৃথিবীতে অনেক জিনিসের নামই তার রূপ দেখতে দেয় না। কার্সিয়ং পৌঁছবার কথা বেলা এগারোটায়—কিন্তু বেলা একটা বেজে গেল, তখনও গাড়ী সে ষ্টেশনে পৌঁছল না। সেদিন ক্ষিধেও পেয়েছিল বেজায়। একে বেলা হয়েছে, তার উপর আধ মাইল কাদার মধ্যে পা টেনে টেনে হাঁটতে হয়েছে। তাই কার্সিয়ং পৌঁছিয়েই ষ্টেশনের restaurantতে খেতে গেলুম। এক পেট মাছমাংস খেয়ে যখন গাড়ীতে ফিরে এলুম, তখন গাড়ী ছাড়বার বড় দেরি নেই। গাড়ীতে ফিরে এসে দেখি আমার cigarette caseএ একটিও cigarette নেই—ইতিমধ্যে সব ফুঁকে দিয়েছি। আর আমি restaurant থেকেও সিগারেট কিনিনি, কারণ আমি জানতুম আমার hand-bagএ একটা পুরো সিগারেটের টিন আছে। শুধু ভুলে গিয়েছিলুম যে—হ্যাণ্ডব্যাগটি হারিয়েছে। একটি সিগারেটের অভাবে আমার প্রাণ আই-ঢাই করতে লাগল। সিগারেটের নেশা গাঁজাগুলিচরসভাঙের মত নয়, কিন্তু নেশা মানে যদি মৌতাত হয়—তাহলে এ মৌতাত ইয়াদী। যদি মনে হল যে সিগারেট খাব, তখন তা না পেলে প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়। যাঁহা মুস্কিল তাঁহা আশান। চোখে পড়ল সুমুখের বেঞ্চে সাহেবের একটি খোলা টিন আছে, আর সাহেব তখনও গাড়ীতে এসে ঢোকেন নি, restaurantতে বসে whiskey পান করছেন। এই সুযোগে আমি অনেক ইতস্ততঃ করে সাহেবের টিন থেকে
পাতা:অণুকথা সপ্তক - প্রমথ চৌধুরী (১৯৩৯).pdf/৫০
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৪৬
স্বল্প-গল্প