তবে কি রামমোহন রায় এই প্রগতির রথ নূতন পথে চালিয়েছেন?—অবশ্য এ পথ রামমোহন প্রথম আবিষ্কার করেন। তার পর বহু লোক এই রথের দড়ি টেনেছেন। এই শ্রেণীর দু’টি লোকের কথা তোমাদের শোনাব; তার মধ্যে একজন ছিলেন প্রগতির নীরব কর্মী আর একজন নীরব ভাবুক।
(৩)
আমি ছেলেবেলায় একটা মফঃস্বলের সহরে বাস করতুম, লেখাপড়া করবার জন্য। সেকালে উক্ত সহরে দু’জন গণ্যমান্য মুখুয্যে মহাশয় ছিলেন। একজনের ছিল অগাধ টাকা, আর একজনের ছিল অগাধ বিদ্যে—দুইই স্বোপার্জ্জিত; কেননা, উভয়েই ছিলেন দরিদ্র সন্তান, কিন্তু উভয়েই self-help-এর মন্ত্র সাধন করে একজন হয়েছিলেন ধনী, অপরটি বিদ্বান্ ৷
কেনারাম মুখুয্যে কোন জমিদারের মেয়ে বিয়ে করে, তাঁর শ্বশুরকুলের দত্ত মাসহারার টাকা বাঁচিয়ে, সে উদ্বৃত্ত টাকা সুদে খাটাতেন। আমি এ কথা জানতুম এই সূত্রে যে, আমাদের মত লোকের অর্থাৎ যাদের আয়ের চাইতে ব্যয় বেশী, তাদের দরকার হলেই তিনি তিন চার হাজার টাকা অপব্যয় করবার জন্য ধার দিতেন, শতকরা বারো টাকা সুদে।
সে সহরে আর একটি ভদ্রলোক ছিলেন, যিনি জাতে সুবর্ণ-বণিক ও ধর্ম্মে খৃষ্টান। তাঁর স্ত্রী তাঁর ঘর আলো করে থাক্ত, আর তার নাম ছিল—My dear। তাঁর কোন ostensible means of livelihood ছিল না, অথচ টাকার কোনও অভাব