ধরিনি; তা ছাড়া—আর একটা কথা আছে। এদের কাছে আমি ঠাকুরের সুমুখে দিব্যি করেছি যে, আমি আর লাঠি সড়কি ছোঁব না। সে কথা ভাঙি কি করে'? হুজুরের হুকুম হ’লে, আমি না বলতে পারিনে; কিন্তু হুজুর যদি আমার কথাটা শোনেন, তবে হুজুর আমাকে আর এ আদেশ করবেন না।”
আমি জিজ্ঞেস করলুম, ‘কেন এরকম দিব্যি করেছিলে?’
ঈশ্বর বললে, ‘ছেলেবেলায় এরা সব খেলা শিখতো। আমিও খেলার লোভে এদের দলে জুটে গিয়েছিলুম। আমার বয়েস যখন বছর কুড়িক, তখন কি লাঠি, কি লড়ি, কি সড়কিতে—আমিই হয়ে উঠলুম সকলের সেরা। এরা ভাবলে যে আমি কোনও মন্তর-তন্তর শিখেছি—তারি গুণে আমি সকলকে হঠিয়ে দিই। হুজুর, আমি তন্তর-মন্তর কিছুই জানিনে; তবে আমার যা ছিল, তা এদের কারও ছিল না। সে জিনিষ হচ্ছে চোখ। আমি অন্যের চোখের ঘোরাফেরা দেখেই বুঝতুম যে, তার হাতের লাঠি সড়কির মার কোন্ দিক থেকে আসবে। কিন্তু আমার চোখ দেখে এরা কিছুই বুঝতে পারতো না, আর শুধু মার খেতো। শেষটা এরা সকলে মিলে যুক্তি করলে যে, আমাকে কালীবাড়ী নিয়ে গিয়ে হাড়কাঠে ফেলে বলি দেবে।
তারপর একদিন এরা রাত দুপুরে আমার বাড়ী চড়াও হয়ে, আমাকে বিছানা থেকে তুলে’, আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে’, কালীবাড়ী নিয়ে গিয়ে হাড়কাঠে ফেলে আমাকে বলি দেবার উদ্যোগ করলে। খাঁড়া ছিল ঐ গুলিখোর মিছু সর্দ্দারের হাতে। আমি