বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অণুকথা সপ্তক - প্রমথ চৌধুরী (১৯৩৯).pdf/৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৪
মন্ত্রশক্তি

প্রাণভয়ে অনেক কান্নাকাটি করবার পর এরা বললে, ‘তুমি ঠাকুরের সুমুখে দিব্যি কর যে আর কখনো লাঠি ছোঁবে না, তাহ’লে তোমাকে ছেড়ে দেব।’ হুজুর নিজের প্রাণ বাঁচাবার জন্যে এই দিব্যি করেছি; আর তারপর থেকে একদিনও লাঠি সড়কি ছুঁইনি। কথা সত্যি কি মিথ্যে—ঐ গুলিখোর মিছুকে জিজ্ঞেস করলেই টের পাবেন।

(৩)

 মিছু আমাদের বাড়ীর লেঠেলের সর্দ্দার।

 আমি তাকে জিজ্ঞেস করলুম, “ঈশ্বরের কথা সত্যি না মিথ্যে?—সে ‘হাঁ’ ‘না’ কিছুই উত্তর করলে না।

 ঈশ্বর এর পর বলে উঠল, “হুজুর, আমি মিথ্যে কথা জীবনে বলিনি—আর, কখনো বলবও না।”

 তারপর, আমি তাকে জিজ্ঞেস করলুম, ‘মিছু যদি গুলিখোর হয় ত এমন পাকা লেঠেল হল কি করে?’

 ঈশ্বর বললে, “হুজুর, নেশায় শরীরের শক্তি যায়, কিন্তু গুরুর কাছে শেখা বিদ্যে ত যায় না। বিদ্যে হচ্ছে আসল শক্তি। সেদিন দেখলেন না? ঠাকুরদাস কামার অত বড় মোষটার মাথা এক কোপে বেমালুম কাটলে; আর ঠাকুরদাস দিনে-দুপুরে গুলি খায়। আমি নেশা করিনে বটে, কিন্তু বয়সে আমার শরীরের জোর এখন কমে এসেছে—যেমন সকলেরই হয়। যদি এরা অনুমতি দেয়—তাহলে দেখতে পাবেন যে, বুড়ো হাড়েও বিদ্যে সমান আছে।'