বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অথৈজল - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
অথৈ জল
১০

 —কাগজ আনুন। লিখে দিই।

 —একটা ডুশ্ দেখো কি? ভাবছিলাম—

 —না। বাই নো মিন্‌স্‌—

 গৃহকর্ত্তা কাঁদো-কাঁদো হয়ে এসে বললেন—আপনি আমাদের জেলার ধন্বন্তরি। ছেলেটা মা-মরা, ছ’মাস থেকে মনুষমনুষ করেছি—

 আমি আশ্বাস দেওয়ার সুরে বললাম—ভয় নেই, ভগবানকে ডাকুন। সেরে যাবে, আমরা উপলক্ষ্য মাত্র। সঙ্গে লোক দিন ওষুধ নিয়ে আসবে।

 শিবু ডাক্তার আশ্চর্য হয়ে বললে—ওষুধ সার আমার ডিপেনসারি থেকে—

 —আপনার এখানে সব ওষুধ নেই। আমি সম্প্রতি কলকাতা থেকে আনিয়েচি—সুবিধে হবে।

 —যে আজ্ঞে সার।

 শিবু একটু দমে গেল। ওষুধের দামে ভিজিটের তিনগুণ আদায় করে থাকে এই সব পল্লীগ্রামের ডাক্তার—আমার জানা আছে, আমি তার প্রশ্রয় দিই নে। পাঁচ আনার ওষুধের দাম আদায় করে দু টাকা।

 সন্ধ্যার পর নৌকোতে ফিরলাম। অন্ধকার রাত, ঝোপে ঝাড়ে শেয়াল ডাকচে, জোনাকি জ্বলচে। এক জায়গায় একটা শব নিয়ে এসেচে দাহ করতে। নদীতীরে বাবলা তলায় পাঁচ, ছ’জন লোক বসে জটলা করচে, তামাক খাচ্চে, দু’জনে চিতা ধরাচ্চে।

 সনাতনদা হেঁকে বললে—কোথাকার মড়া হে?