শম্ভু সরকার বললে, সে তো ন্যায্য কথা।
আমি বললাম, শাসন করবো একটু ভাল করেই। কাল দারোগা আমার এখানে আসচে, দারোগাবাবুকে দিয়েই কথাটা বলাই। তাহোলে ভয় খেয়ে যাবে এখন।
সভা থেকে ফিরবার পথে মুখুয্যে পাড়ার মোড়ে কাঁটালতলায় দেখি কে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে, বোধ হয় আমার জন্যে অপেক্ষা করচে। আমি গাছতলায় পৌঁছতেই মেয়েটি হঠাৎ আমার পায়ে জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো।
শশব্যস্তে বলে উঠলাম—কে? কি হয়েচে, ছাড়ো, ছাড়ো, পায়ে হাত দেয় যে—
ততক্ষণে চিনেচি মেয়েটি শান্তি।
শান্তি লালমোহন চক্রবর্ত্তীর মেজমেয়ে। বছর বাইশ-তেইশ বয়েস্, আমার চেয়ে অন্তত বারো-তেরো বছরের ছোট, আমাকে পাড়াগাঁ হিসাবে দাদা বলে ডাকে।
কান্না-ধরা গলায় বললে—শশাঙ্কদা আমায় বাঁচাও। তুমি আমার বড় ভাই।
—কি হয়েছে? ব্যাপারটা কি শুনি।
—আমার নামে নাকি কি উঠেচে কথা। আমায় নাকি পুলিশে পাঠাবে, চৌকিদার দিয়ে ধরে থানাতে নিয়ে যাবে। সবাই বলাবলি করচে। তোমার পায়ে পড়ি দাদা—আমি কোনো দোষে দোষী নই—বাঁচাও আমায়।
শান্তিকে দেখে মনে দুঃখ হোল, রাগও হোল। লালমোহন কাকার মেয়ে গাঁয়ে বসে এমন উচ্ছন্ন যাচ্চে। এ যতই এখন