বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অথৈজল - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৭১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৬৯
অথৈজল

ফিরলুম একটু পরেই। আমি সচ্ছল গৃহস্থঘরের ছেলে, নিজেও যথেষ্ট পয়সা রোজগার করেছি ডাক্তারি করে, কিন্তু এমন ভাবে মাদুরের ওপর বসে শালপাতার ঠোঙায় কচুড়ী খেয়ে সেদিন যা আনন্দ পেয়েছিলাম, আমার সারা গৃহস্থ-জীবন তেমন আমোদ ও তৃপ্তি কখনো পাইনি।

 পান্নাকে বললাম—পান্না, পয়সা ফুরিয়ে যাচ্চে, কিহবে বাসাখরচ চলবে কিসে?

 ও হেসে বললে—বারে, আমার কাছে ত্রিশ বত্রিশ টাকার বেশি আছে না?

 —তুমি নিতান্ত বাজে কথা বলো। খরচের সম্বন্ধে কি জ্ঞান আছে তোমার? এতে কতদিন চলবে?

 —সোনার হার আছে, কানের দুল আছে।

 —তাতেই বা ক’দিন চলবে?

 পান্না একটু ভেবে বললে—তোমাকে ঠিকানা দিচ্চি, তুমি নীলির কাছে যাও। আমরা দু’জনে মিলে মুজরো করলে আমাদের ঢের চলে যাবে।

 —সে হবে না।

 —কেন?

 —নীলির কাছে গেলেই তোমার মা জানতে পারবে!

 নীলিকে তুমি আমার কাছে নিয়ে এসো। আমি তাকে বুঝিয়ে বলবো।

 ঠিকানা দাও, আমি এখুনি যাবো।

 সন্ধ্যার আগেই ঠিকানা অনুযায়ী নীলিকে খুঁজে বার করে