এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৭৭
অথৈজল
বেথুয়াডহরি গ্রামে বারোয়ারি যাত্রা হচ্ছে। সেখানকার নায়েমশায় উদ্যোগী। নায়েবমশায়ের নাম বন্ধুবিহারী জোয়ারদার। বয়েস পঞ্চাশের ওপর, কিন্তু লম্বা-চওড়া চেহারা, একতাড়া পাকা গোঁফ, বড় বড় ভাটার মত চোখ। প্রমথ বিশ্বাস বলে কোন্ জমিদারের এষ্টেটের নায়েব। আমাকে বললেন তোমার নাম কি হে?
আসল নামটা বললাম না।
—বেশ, বেশ! তুমি কি করো?
—আমি ভাত রাঁধি।
—ও তুমি বাজিয়ে টাজিয়ে নও।
—আজ্ঞে না।
সন্ধ্যার আগে আসর হোল। অনেক রাত পর্য্যন্ত পান্না আর নীলি নাচলে। পান্না নাচের ফাঁকে ফাঁকে আমার সঙ্গে এসে কথা বলে। জিজ্ঞেস করলে—কেমন হচ্চে?
—চমৎকার।
—তোমার ভাল লাগচে?
—নিশ্চয়ই।
—তুমি কিন্তু উঠো না! তা হলে আমার নাচ খারাপ হয়ে যাবে। নীলি কি বলচে জানো? বোলচে তোমার জন্যেই নাকি আমার নাচ ভাল হচ্চে।
—ও সব বাজে কথা। ভাত রাঁধবো যে।
—না। ছিঃ ওসব কি কথা?