দিন কতক বেশ আনন্দেই কেটে গেল।
কিন্তু আমার মনে কেমন এক ধরণের অস্বস্তি শুরু হয়েচে, আমার নিজের উপার্জ্জন এক পয়সাও নেই, পান্নার উপার্জ্জনের অর্ধ আমাকে হাত পেতে নিতে হচ্চে, না নিয়ে উপায় নেই। আমি ভাবতে আরম্ভ করেছি, এ ভাব কতদিন চলবে। ও যা মুজরো করে এনেছিল, তা ফুরিয়ে এল। কলকাতার খরচ। ওর মনে ভবিষ্যতের ভাবনা নেই, বেশ হাসি গল্প গান নিয়ে সুখেই আছে—কিন্তু আমি দেখছি আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। পান্নার টাকায় সংসার বেশীদিন চলা সম্ভব হবে কি? আমি সে টাকা বেশিদিন নিতেও পারবো না?
পান্নাকে কথাটা বললমে।
ও বুঝতে চায় না। বললে—তাতে কি? আমার টাকা তোমার নিলে কি হবে?
—মানে নিলে কিছু হবে না। কিন্তু এতে চলবে না।
—কেন চলবে না? বেশ তো চলচে।
—এর নাম চলা?
বলেই সামলে নিলুম। পান্না সরল মেয়ে, তার জীবন যাত্রার ধারণাও সরল ও সংক্ষিপ্ত। ওর মা ছিলো মুজরোওয়ালী, যা রোজগার করেচে তাতেই সেকালে সংসার চলে গিয়েচে। বিলাসিতা বাবুগিরি জানতো না। কোনোরকমে খাওয়া পরা চলে গেলেই খুসি। ওরও জীবন যাত্রার প্রণালী সম্বন্ধে যে সহজ ধারণা আছে, আমি তার অপমান করতে চাইনি।,