বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অথৈজল - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৪৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
অথৈ জল
৪২

 কিন্তু আমার মুখের দিকে তাকিয়ে তাঁর মনে হোল যুগ সত্যিই বদলে যাচ্চে। নইলে কেউ কি কখনো শুনেচে তাঁর বড় ছেলের চেয়েও বয়সে ছোট কোন এক অর্ব্বাচীন যুবক গ্রামের ও সমাজের মাতব্বর হয়ে দাঁড়াবে তিনি দুচোখ বুজবার আগেই।

 শুধু বললেন—এই আমতলার রাস্তা দিয়ে কেউ টেরি কেটে যেতে পারতো না! যাবার হুকুম ছিল না। একবার কি হোল জানো, গিরে বোষ্টমের ভাই নিতাই বোষ্টম গোবরাপুরের মেলা থেকে ফিরচে, দুপুর বেলা, বেশ গুন্ গুন্ করে গান করতে করতে চলেচে, মাথায় টেরি। আমি বসে কাছারির নিকিশি কাগজ তৈরি করচি। বললাম—কে? তো বললে—আজ্ঞে, আমি নিতাই। যেমন সামনে আসা অমনি চটি না খুলে পটাপট্ দু ঘা পিঠে বসিয়ে দিয়ে বললাম—ব্যাটার হাতে পয়সার গোমর হয়েছে বুঝি? কাল নাপিত ডাকিয়ে চুল কদম ছাঁট ছেঁটে এখানে দেখিয়ে যাবি। তখন তা করে। রাশ রাখতে হোলে অমনি করতে হয়, বুঝলে?

 আমি মুখুজ্যে জ্যাঠার কথার কোনো প্রতিবাদ করিনি। তিনি কিছু বুঝবেন না।

 সেদিন চলে এলুম, কিন্তু বড় মুখুজ্যেমশায় মনে মনে হয়ে রইলেন আমার শত্রু। বড় ছেলে হারানকে বলে দিলেন, আমার বাড়ীতে যেন বেশি যাতায়াত না করে, আমার সঙ্গে কথাবার্ত্তা না কয়। এমন কি নাতীর অন্নপ্রাশনের সময় আমাকে নিমন্ত্রণ করবার আগে একটি কথাও জানালেন