জানালার গায়ে জামরুলগাছের ডালটা এসে নুয়ে পড়েছে, তার পেছনেই জাওয়া বাঁশের ঝাড়। শীতের বেলা, এর মধ্যেই বাগানের আমতলায় মুচুকুন্দ চাঁপা গাছটার তলায় ছায়া পড়ে এসেছে, ছাতারে পাখীর দল জামরুল গাছটার ডালে কিচ্কিচ্ করছে—বাগানের সুদূর পাড়ের ঘাসের জমিতে আমাদের বাড়ীর গরু ক’টা চরে বেড়াচ্ছে।
সুরবালা পানের ডিবে হাতে এসে বললে—একটু ঘুমিয়ে নাও না।
—বাইরে সনাতন চক্কত্তিকে বসিয়ে রেখে এসেছি।
—সে মিন্সের কি যাবার যায়গা নেই, এখানে এসে জুটেছে কেন দুপুরে।
—ঘুমুচ্ছে।
—তবে তুমিও ঘুমোও।
সুরবালাকে বেশিক্ষণ দেখতে পাইনে দিনের মধ্যে, খোকাখুকিদেরও না। বললাম— বোসো আমার কাছে, আবার হয়তো এখুনি বেরুতে হবে। একটু গল্পগুজব করি।
সুরবালা বালিশে হাত রেখে বসলো পাশেই। বললে—আজ আর বেরিও না—এত বেলায় এলে—
পাশের গাঁয়ে একটা শক্ত রুগী রয়েছে, তার কথাই ভাবছি—
—যেতে হবে? কল্ না দিলেও?