পাতা:অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচনাবলী.pdf/১৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অদ্বৈত মল্লবর্মণ : স্বরূপের সন্ধানে আলোড়ন সৃষ্টিকারী বাঙালি সাহিত্যিকদের মধ্যে অদ্বৈত নিঃসন্দেহে শ্ৰেষ্ঠতম। রবীন্দ্র- নজরুল-অদ্বৈত কেবল এক একটি নাম নন, এখন তাঁরা এক একটি প্রতিষ্ঠান, বাংলা সাহিত্যে এমন সন্মান লাভকারী কবি সাহিত্যিকদের নাম খুঁজতে গেলে দুইশ বছরের মধ্যে কজনকে পাওয়া যাবে? রবীন্দ্রনাথের পূর্বে ঈশ্বরগুপ্ত, মধুসূদন দত্তঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্র এবং পরবর্তীকালের শরচন্দ্র ছাড়া আর কার নাম আনা যায় যে, একক একটি নামের পতাকাতলে গোটা বাংলা ভাষাভাষী মানুষের এক বৃহদাংশ সমবেত হয়েছেন বা জমায়েত হতে ভালোবাসেন? কিন্তু এই স্মরণীয়দের মধ্যেও অদ্বৈত ছিলেন হতদরি, অব্যবস্থিত, ঐতিহ্যহীন পরিবারের ছেলে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার তিতাস নদী সংলগ্ন গোকর্ণঘাট গ্রামে নিঃস্ব-রিক্ত ‘জেলে’পিতা অধরচন্দ্র মল্লবর্মাণের পর্ণকুটিরে ১৯১৪ বা তার দুএক বছর আগে। জন্মগ্রহণ করেছিলেন (সনদপত্র অনুযায়ী তাঁর জন্ম তারিখ ১ জানুয়ারি ১৯১৪)। এ পর্যন্ত তার মায়ের নাম কোথাও উস্কৃত হয়নি। তারা চার ভাইবোন (তিন ভাই ও এক বোন) ছিলেন। শৈশবেই তিনি পিতামাতা ও আই-বোনকে হারিয়ে চরম মর্মদ্ভদ এতিম-এ পরিণত হন। অতএব অর্থবিত্ত-ঐতিহ্য আত্মীয় প্ররিজনহীন অদ্বৈতর বাল্য ও কৈশোরকাল অতিক্রম করা এবং শিক্ষাদীক্ষা গ্রহণেরংকেত্রে যে কী রকম নিদারুণ করুণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল তা সহজে অনুমেয়। কেবল এটুকুই এখানে আজ স্মরণ করি, অসীম ধৈর্য। সহকারে প্রচও মেধাবী, মরস্র্মিনের, সৃজনশীল কবি-প্রতিভা অদ্বৈত নিজেকে চিনেছিলেন বলেই পরিস্থিতিকে চি মেনে নিয়ে তিনি অতিক্রম করে গিয়েছিলেন নিজের পরিবেশকে। মানুষ শুধুই প্রাকৃতিক নিয়ম-বাধা অবস্থার দাস নয়। মানুষের মধ্যে নিহিত রয়েছে সেই শক্তিও, যে-শক্তির বলে মানুষ অবস্থার প্রভুও হতে পারে ।- অদ্বৈত এই মহাজন-বাক্যকে বাস্তবে পরিণত করেছিলেন। ১৯৩৩ সনে অদ্বৈত ম্যাট্রিকুলেশন প্রথম বিভাগে পাশ করেন। কলকাতায় যান ১৯৩৪ সনে জীবিকার সন্ধানে। সেখানে তিনি মাসিক ত্রিপুরাপত্রিকায় কাজ পান। এরপর তিনি সাপ্তাহিক নবশক্তি' পত্রিকায় যোগ দেন সহকারি সম্পাদকের মর্যাদায় । সাপ্তাহিক নবশক্তি পত্রিকা ১৯২৯ সনে প্রকাশিত হয়ে পাচ বছর চলার পর ১৯৩৩ এর এপ্রিল মাসে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এ সময় সম্পাদক ছিলেন শ্রী সরোজকুমার রায়চৌধুরী। লিবার্টি হার্ডস, ৩২ আপার সাধুলার রোড, কলকাতা থেকে শ্রীশশীভূষণ। গাঙ্গুলী ইন্ডিয়ান ডেইলি নিউজ প্রেসে ছেপে তা প্রকাশ করতেন । নবশক্তির তখনকার পরিচালক ছিল কলকাতার লিবার্টি পেপারস লিমিটেড। অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচনাবলী ১৫

দুনিয়ার পাঠক এক হও! — www.amarboi.com ~

১৮
১৮
অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচনাবলী