পাতা:অদ্ভুত ফকির - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/১১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

অদ্ভুত ফকির।

১১


 গৌ। ফকিরের হস্তে একগাছি মোটা লাঠী থাকিত। তিনি সর্ব্বদাই সেই লাঠী হস্তে লইয়া বেড়াইতেন; এক মুহূর্ত্তের জন্যও লাঠী ছাড়িতেন না। আজ প্রাতে তাঁহার মৃতদেহের পার্শ্বে সেই লাঠীগাছটী পড়িয়াছিল। তাঁহার মস্তকে যে ভয়ানক আঘাতের চিহ্ন দেখিয়াছি, তাহা নিশ্চয়ই সেই লাঠীর দ্বারাই হইয়াছে।

 আ। এ অঞ্চলে তাহার কোন শত্রু ছিল জানেন?

 গৌ। আজ্ঞে না। তিনি একজন সংসারত্যাগী লোক, তাঁহার আবার শত্রু কে?

 আ। তবে হত্যা করিল কে? যদি তাঁহার শত্রুই না থাকিবে, তবে তিনি অপরের হস্তে নিহত হইবেন কেন?

 গৌরীশঙ্কর কোন উত্তর করিলেন না। তিনি আমার মুখের দিকে হাঁ করিয়া চাহিয়া রহিলেন। আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, “তবে আপনি কাহাকে সন্দেহ করেন? একজন নিরীহ সংসারবিরাগী যোগীপুরুষকে কোন্ উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য কেই বা হত্যা করিল? ফকির যখন আপনার উদ্যানে হত হইয়াছেন, তখন আপনি যে এ বিষয়ে নিশ্চিন্ত থাকিবেন তাহা হইবে না। হত্যাকারীকে ধৃত করিবার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করিতে হইবে। থানায় সংবাদ পাঠান ভিন্ন আর কোনরূপ সন্ধান লইয়াছিলেন কি?

 আমার কথায় ও প্রশ্নে গৌরীশঙ্কর যেমন উত্তেজিত হইলেন। বলিলেন, “বলেন কি মহাশয়! আমার পরম হিতকারী উপদেষ্টা গুরু সদৃশ মাননীয় ব্যক্তি মারা পড়িলেন, আর আমি নিশ্চিন্ত থাকিব? আমি কি করিয়াছি এখনই জানিতে পারিবেন। আমার আন্তরিক ইচ্ছা এই যে, যেরূপে পারি হত্যাকারীকে ধৃত করিব।