পাতা:অদ্ভুত ফকির - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/২৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

২৪

দারোগার দপ্তর, ১৯৫ সংখ্যা।


 লোটা ও সেই সরা আরও লুক্কায়িত রাখিয়া আমি কুটীর হইতে বাহির হইলাম। দেখিলাম, গৌরী বাবু ও আবদুল একটী বৃক্ষতলে বসিয়া অতি মনোযোগের সহিত কথা কহিতেছে।

 সকলে মিলিয়া গৌরী বাবুর বাড়ীতে ফিরিয়া আসিলাম। তিনি যথেষ্ট সমাদ করিয়া আমাকে একটা সুসজ্জিত বৈঠকখানায় লইয়া গেলেন। ঘরটী প্রকাণ্ড—সেকেলে ধরণে সাজানো। ঘরের ভিতর ঢালা বিছানা—প্রথমে মাদুর, পরে সতরঞ্চ, তৎপরে কোমল গালিচা, তদুপরি দুগ্ধফেণনিভ শ্বেতবর্ণের চাদর। বিছানার চারিদিকে আটট সুকোমল তাকিয়া, বিছানার উপর চারিটা বৈঠকে চারিটা সোনাবাঁধান হুঁকা। ঘরের মধ্যে তিনটী প্রকাণ্ড বেলোয়ারী ঝাড়, প্রত্যেকটায় বত্রিশটা করিয়া আলোক ধরে। চারিটী দেওয়ালে আটটী দেওয়ালগিরি, প্রত্যেকটায় তিনটী করিয়া আলোকাধার। দুইখানি প্রকাণ্ড অয়না ও একটা মূল্যবান ঘড়ী ছিল। কিন্তু আশ্চর্য্যের বিষয় এই যে, ঘরে একখানিও চেয়ার, কৌচ বা খাট ছিল না।

 কিছুক্ষণ উপবেশন করিয়া গৌরীবাবু জলযোগ করিবার জন্য আমাকে বারম্বার অনুরোধ করিতে লাগিলেন। আমি অনেকবার অস্বীকার করিলাম। কিন্তু অবশেষে বাধ্য হইয়া সামান্য জলযোগ করিলাম। পরে বলিলাম, “গৌরী বাবু! আপনার কি বক্তব্য আছে এইবার বলুন। আপনি বলিয়াছিলেন, আমার কর্ম্মচারী সে কথা জানে, সেও আমাকে অহা দুই কথায় বলিতে চাহিয়াছিল, কিন্তু তখন আমি ব্যস্ত ছিলাম। বিশেষতঃ তাহার-মুখে না শুনিয়া আপনার মুখে শোনাই যুক্তিসিদ্ধ বলিয়া স্থির করিয়াছিলাম।