পাতা:অদ্ভুত ফকির - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/৪০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

৪০

দারোগার দপ্তর, ১৯৫ সংখ্যা।


করিয়াছ। পরে সেই লোটার জলে আপনার দেহের রং তুলিয়া মুখের ভঙ্গী বদলাইয়া স্বয়ং গৌরীশঙ্কয়ের পোষাক পরিয়া গৌরীশঙ্কর সাজিয়াছ এবং প্রকৃত গৌরীশঙ্করকে তোমার পোষাকে অর্থাৎ ফকিরের পোষাক পরাইয়া উহার মুখ তোমার মত পরিবর্ত্তিত করিয়া উহাকে ফকির সাজাইয়া ফেলিয়া রাখিয়াছ এবং নিজে গৌরীশঙ্করের পরিবারবর্গের নিকট গৌরীশঙ্কররূপে স্থান পাইবার প্রত্যাশা করিয়াছ, কিন্তু এখনও পর্য্যন্ত সাহস করিয়া অন্তঃপুরে প্রবেশ করিতে সমর্থ হও নাই, হত্যার পর হইতেই দূরে দূরে রহিয়াছ। তোমার মনে পাপ, উভয় ভ্রাতা দেখিতে একরূপ হইলেও তোমার মনে ভয়, পাছে অন্তঃপুরের সকলে তোমাকে চিনিয়া ফেলে। তোমার ইচ্ছা ছিল, যে পর্য্যন্ত এই মকর্দ্দমা শেষ না হইয়া যায়, সেই পর্য্যন্ত তুমি অন্তঃপুরে প্রবেশ করিবে না, ও পরিশেষে ক্রমে ক্রমে তোমার অনুপস্থিতি কালের ভিতরের সমস্ত অবস্থা জানিয়া লইয়া, তোমার সংকল্পিত কার্য্যক্ষেত্রে প্রবেশ করিবে। এইরূপে কিছু দিবস অতিবাহিত করিতে পারিলে, আর তোমাকে চিনিবার ভয় থাকিবে না। এই সরাখানিতে যে রং রহিয়াছে, ঐরংই তোমার মুখে ছিল, এখন গৌরীশঙ্করের মুখে মাখাইয়া উহাকে ফকির সাজাইয়াছ। ধন্য তোমার বুদ্ধি। একাকৃতি যমজ ভাই বলিয়াই তুমি এই চাতুরী প্রকাশ করিতে পারিয়াছ?”

 আমার কথা শুনিয়া আবদুল অতি বিনীতভাবে জিজ্ঞাসা করিল, “ইনি যদি হরশঙ্করই হন, আর যদি গৌরীশঙ্করকে হত্যা করাই ইহার উদ্দেশ্য হয়, তবে ইনি প্রথম হইতে ইহাঁর উপকার করিলেন কেন?”