পাতা:অদ্ভুত ফকির - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

অদ্ভুত ফকির।


উন্নতির পথে কণ্টক পড়িত না; আমার শ্রীবৃদ্ধির সময়ে ফকির মারা পড়িতেন না। এতকাল নিদারুণ দারিদ্রকষ্ট ভোগ করিয়া, অকালে জরাগ্রস্ত হইয়া যদি বা শেষ অবস্থায় সুখের মুখ দেখিতে পাইলাম, তত্রাপি আমার মনোকষ্ট ঘুচিল না, পুনরায় ভয়ানক বিপদে পতিত হইতে হইল।”

 এইরূপে আরও কিছুক্ষণ অনুতাপ ও বিলাপ করিবার পর গৌরীশঙ্কর স্থির হইলেন। কিন্তু যে কার্য্য করিবার জন্য আমি সেখানে উপস্থিত হইয়াছিলাম, তাহার কিছুই জানিতে পারিলাম। তখন জিজ্ঞাসা করিলাম, “এখন ফকির কিরূপে মারা পড়িলেন তাহাই বলুন? আপনার মত জ্ঞানবান ব্যক্তির বিপদে ধৈর্য্যচ্যুত হওয়া উচিত হয় না। যখন তিনি মারা পড়িয়াছেন, তখন আর তাঁহার জন্য বৃথা বিলাপ করিলে কি হইবে? এখন যাহাতে তাঁহার হত্যাকারী যথোচিত শাস্তি পায়, তাহার উপায় করুন। বলুন, কিরূপে ফকির হত হইলেন?”

 আমার কথা শুনিয়া গৌরীশঙ্কর অতি বিনীতভাবে উত্তর করিলেন, “ঈশ্বর জানেন, কোন্ নিষ্ঠুর নৃশংস নরাধম রাক্ষস সেই দেবোপম ফকিরকে হত্যা করিল! গত রাত্রে তাঁহার মুখে শাস্ত্রকথা শুনিয়া যখন বিদায় হই, তখন রাত্রি প্রায় এগারটা। তখন তিনি শারীরিক বেশ সুস্থ ছিলেন, তাহার মনও বেশ আনন্দিত ছিল। তাঁহার নিকট বিদায় লইয়া আমি শয়নগৃহে গিয়া বিশ্রাম করি, তিনিও কুটীরে পর্ণশয্যার আশ্রয় গ্রহণ করেন। আজ প্রাতঃকালে যখন তাঁহার সহিত সাক্ষাৎ করিবার মানসে আমি উদ্যানে আসিয়া উপস্থিত হই, তখন তাঁহার কুটীরে লোকে লোকারণ্য। আমাকে দেখিয়া আমার এক ভৃত্য দৌড়িয়া আমার