দরজা বন্ধ করেন নি, পরিচিত লোক ব'লে রাম বিনা আহ্বানেই ভিতরে গিয়ে ঢোকে। কুকুরটাও রামকে বিলক্ষণ চিনত, তাই গোলমাল করেনি। আর রামের সঙ্গে গিয়েছিল ব'লে শ্যামকে দেখেও চ্যাঁচায় নি। শ্যাম নিশ্চয় দরজার বাইরে এক-আধ মিনিট অপেক্ষা করেছিল, কারণ তার জুতোর স্পষ্ট ছাপ আমরা পেয়েছি। চলন্ত লোকের পায়ের ছাপ আর দণ্ডায়মান লোকের পায়ের ছাপ একরকম হয় না, এটা সকলেই জানে। পরে রামের আহ্বানে শ্যামও তাকে সাহায্য করবার জন্যে ঘরের ভিতরে যায়। কাজ শেষ ক'রে দুজনেই রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। রাত সাড়ে দশটার সময়ে দ্বারবান রাস্তার দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ক'রে দেয়। কাজেই বাইরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ থাকা খুবই স্বাভাবিক।
রাম হচ্ছে মতিবাবুর বন্ধু, সে তাঁর সব অভ্যাসের কথা জানে। ডায়ারির ভিতরে মতিবাবুর কোন কোন গুপ্তকথা আছে এটাও হয়তো তার অজানা ছিল না। খুনের রাতে হয়তো কোন কারণে ভয় পেয়ে বা সময় অভাবে সে ডায়ারি পড়বার সুযোগ পায়নি। কিন্তু পরে যথাসময়ে কাজে লাগাতে পারবে বুঝে ডায়ারি আর চাবির গোছা নিয়ে পালায়। সে এ বাড়ীর বন্ধু, খুনের পরেও এখানে তার প্রবেশ বন্ধ হবার ভয় নেই। খুব সম্ভব, রাম হ্যাণ্ডনোটে মতিবাবুর কাছ থেকে বারে বারে টাকা ধার করেছিল, তাই যাবার সময়ে নির্ব্বিচারে সব হ্যাণ্ডনোটও সঙ্গে নিয়ে পালায়।
৯২