বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অন্ধকারের বন্ধু - হেমেন্দ্রকুমার রায়.pdf/১০৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

তাকে আমি সন্দেহ করি। কিন্তু কেবল সন্দেহ ক'রে তো লাভ নেই, আগে দরকার প্রমাণ।

 সতীশবাবু, আমি যে দু-একটি বিষয় প্রথমে আপনার কাছে লুকিয়েছিলুম, পরে আজই সকালে আপনার কাছে প্রকাশ করেছি। ঘটনাস্থলের কর্দ্দম চূর্ণ পরীক্ষা করবার পর তার মধ্যে আমি কাদার সঙ্গে পেয়েছিলুম চূণ, সুরকি, বালি ও কয়লার গুঁড়ো। যেদিন আমরা দত্তের বাড়ীতে চা খেতে যাই, সেদিন দেখলুম, সরু গলির মধ্যে তৈরি হচ্ছে একখানা নতুন বাড়ী। লক্ষ্য করলুম, তার পাশেই রয়েছে একটা কয়লার দোকান। গলির সেখানটায় মাটির সঙ্গে চূণ, বালি, সুরকি ও কয়লার গুঁড়ো ছড়ানো। তার দু-তিনখানা বাড়ীর পরেই দত্তের বাড়ী। সুতরাং এখানকার মাটি মাড়িয়ে তাকে রোজই আনাগোনা করতে হয়। বৃষ্টিতে পথে কাদা হ'লে এখানকার কাদার চাপ যে তার জুতোর গোড়ালি আর সোলের ফাঁকে লেগে থাকবে, এটা বেশ সহজেই বোঝা যায়। ঐ নতুন বাড়ী ও কয়লার দোকানই দত্তের প্রতি বিশেষভাবে আমার দৃষ্টি আকৃষ্ট করে।

 দত্তের বাড়ী থেকে ফেরবার পথে আমি সকলের অগোচরে সেই নতুন বাড়ীর সামনের পথ থেকে এক মুঠো ধূলো তুলে নিয়ে গিয়েছিলুম। পরে পরীক্ষা ক'রে দেখেছিলুম, আগেকার কর্দ্দম-চূর্ণ আর এই একমুঠো ধূলোর উপাদানে কোন প্রভেদই নেই। মতিবাবুকে যে খুন করেছে, ঐ নতুন বাড়ীর সামনেকার মাটি মাড়িয়েই তাকে যেতে হয়েছে।

৯৫