বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অন্ধকারের বন্ধু - হেমেন্দ্রকুমার রায়.pdf/৫৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

 জানবার জন্যে আমার বিশেষ আগ্রহ ছিল না। তবু বললুম, “কি কি আছে?”

 —“এর মধ্যে আছে চুণ আর বালি, সুর্‌‌কি আর কয়লার গুঁড়ো। এগুলো মেশানো আছে কলকাতার পথের সাধারণ ধূলোর সঙ্গে।”

 আমি বললুম, “চুণ, বালি, সুরকি আর কয়লাও মেলে কলকাতার যেখানে-সেখানে। এর কোনটাকেই আমি অসাধারণ ব'লে মনে করি না।”

 —“করনা নাকি? ও!” এই ব'লেই হেমন্ত একেবারে চুপ মেরে গেল। তার মুখ দেখলেই বোঝা যায, অত্যন্ত একমনে সে যেন কোন মহা-দরকারি কথা চিন্তা করছে।

 খানিক পরে আমি বললুম, “দেখ ভায়া, এটা ভাবি বাড়াবাড়ি হচ্ছে কিন্তু। শুক্‌‌নো কাদার গুঁড়ো অর্থাৎ ধূলো নিয়ে এত-বেশী মাথা ঘামানো হচ্ছে মানুষের মস্তিষ্কের অপব্যবহার।”

 হেমন্ত আমার পানে কিছুক্ষণ চেয়ে রইল অন্যমনস্কের মত। তারপর ধীরে ধীরে বললে, “প্রিয় রবীন, তুমি হচ্ছ একটি প্রকাণ্ড উজবুগ্।”