মনে মনে হেমন্তের অপরাধ-বিজ্ঞানকে পাঠাতে চাইলুম জাহান্নমে। আরে মশাই, কি আপদ বলুন তো! চৈত্রমাসের তপ্ত দুপুর, পথের কুকুরগুলোও এখন ধুঁক্তে ধুঁকতে ঠাণ্ডা আশ্রয় খুঁজছে! কোথায় বাড়ীতে গিয়ে খেয়ে-দেয়ে, ঘরের জানলা-দরজা বন্ধ ক'রে বিজলী-পাখার তলায় শীতলপাটি বিছিয়ে ব’সে বরফ দেওয়া সর্ববৎ পান করতে করতে রবি-ঠাকুরের কবিতা পড়ব, না ছুটে চলেছি এক মহাপাগ্লার সঙ্গে কোন্ শ্বদন্ত ও চৌকো চোয়ালের পিছনে! গ্রহের ফের আর কাকে বলে?
হতচ্ছাড়া শ্বদন্ত বাস থেকে নামল হারিসন রোডের মোড়ে। তারপর খানিক এগিয়ে একটা কফিখানায় গিয়ে ঢুকল।
হেমন্ত রাস্তার ফুটপাথে দাঁড়িয়ে বললে, “লোকটার পরিচয় এখনো জানা হ'ল না তো! আমরাও কফিখানার খরিদ্দার হব নাকি?”
—“ভাই হেমন্ত, এইবারে দয়া ক'রে আমাকে মুক্তি দাও! তোমার শ্বদন্তের নাম-ধাম বংশ-পরিচয় তো আমার কাছে নেই, আমি অপরাধ-বিজ্ঞানের ছাত্রও নই। আমাকে নিয়ে আর টানাটানি কর কেন?”
হেমন্ত মাথা চুলকোতে চুলকোতে ভাবছে, অতঃপর কি করা কর্ত্তব্য, এমন সময়ে বড়বাজার থানার এক ইন্স্পেক্টার সেখানে এসে হাজির হ’লেন।
—“আরে আরে, হেমন্তবাবু যে! এমন অসময়ে এখানে দাঁড়িয়ে রোদ পোয়াচ্ছেন কেন?”
৫৪